সানী রায়,সময় কলকাতা , ১০ মে : পল্লীবাংলার গায়ক-কবি আব্বাসউদ্দিন বলেছিলেন “ফাইটা ফাইটা রইছৈ যত খালা বিলা নদী, পানির লাইগা কাইন্দা ফিরে পঙ্খী জলদি,আল্লাহ মেঘ দে পানি দে পানি ছায়া দেরে তুই, আল্লাহ মেঘ দে।”মানুষ আর পাখির কথা বলে তপ্ত গ্রীষ্মের বাংলার ছবি তুলেছেন আব্বাসউদ্দিন যেখানে সমগ্র জীবকুল বিপন্ন। ধূপেতে কলিজা ফাটে পিয়াসে কাতর…., প্রকৃতির জল- জঙ্গল সর্বত্র জলের হাহাকার। জনপদের মত জঙ্গলে জলসংকট । উত্তরের জঙ্গলেও জলের অভাব , বন্যপ্রাণীদের তৃষ্ণা নিবারণে সমস্যা!
প্রখর রোদ ও অনাবৃষ্টির প্রভাবে উত্তরের জঙ্গলে জল সংকট দেখা দিয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার জলপাইগুড়ি বনবিভাগের মোরাঘাট বনাঞ্চলের ঝোরাগুলি শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। ফলে হাতি, লেপার্ড, হরিণ, বাইসন, বুনো শুয়োর, ময়ূর সহ বিভিন্ন পশুপাখির তৃষ্ণা নিবারণে সমস্যা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চিন্তিত স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশপ্রেমীরা।
ডুয়ার্সের অন্যতম পরিবেশপ্রেমী সংগঠন স্নেহ ফাউন্ডেশন বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার্থে একাধিক কর্মসূচিতে শামিল হয়েছেন। ফাউন্ডেশনের কর্ণধর অভিষেক ঘোষ বলেন,মোরাঘাট জঙ্গলের প্রায় ছয় হাজার হেক্টর এলাকায় জলের অভাব দেখা দিয়েছে।বন্যপ্রাণীদের জলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি
জঙ্গলে আরও কৃত্রিম জলাশয় তৈরির দাবি তোলা হয়েছে। মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতের আশঙ্কা ডুয়ার্সের পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি। ধুপগুড়ি এনিমেল লাভার্স এর কর্ণধার অনিকেত চক্রবর্তী বলেন,জলের অভাবে বন্যপ্রাণীরা বন জঙ্গল ছেড়ে প্রত্যেকদিন।লোকালয়ে ঢুকছে । বন্যপ্রাণীদের আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে লাগামহীনভাবে। জঙ্গলে জলসংকট ও বন্যপ্রাণীদের কষ্ট -এই বিষয়টি নিয়ে বনদফতরের তরফে জানানো হয়েছে,বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে জলাশয়গুলি শুকিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য বৃক্ষরোপণ ও জল সংরক্ষণের উপর জোর দেওয়া উচিত। তবে সমস্যা নিয়ে মোরাঘাট রেঞ্জ অফিসার রাজকুমার পাল দাবি করেছেন যে, বড় নদীগুলিতে পর্যাপ্ত জল রয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে, কৃত্রিম জলাশয়গুলির সংস্কার করা হচ্ছে এবং গরমের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।


More Stories
গন্ডারের হামলায় জলদাপাড়ায় মৃত্যু বনদফতরের অস্থায়ী কর্মীর
বেজি কি সাপের বিষে কাবু হয় না?
এক সাথে পাঁচ সন্তানের জননী জ্বালা সম্পর্কে জেনে নিন, তার আবাস জানুন