Home » লোকসভা কেন্দ্র আসানসোল : শত্রুঘ্ন সিনহাকে কি রুখতে পারবেন জাহানারা, আলুওয়ালিয়া?

লোকসভা কেন্দ্র আসানসোল : শত্রুঘ্ন সিনহাকে কি রুখতে পারবেন জাহানারা, আলুওয়ালিয়া?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা,১১ মে : 2024 Lok Sabha Elections লোকসভা কেন্দ্র আসানসোল । টালবাহানা চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। বোঝাই যাচ্ছিল না কে হবেন আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী। অবশেষে চতুর্থ দফার ভোটের ঠিক একমাস আগে ১০ এপ্রিল বিজেপি জানায় আসানসোল কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন সুরেন্দ্রজিত সিং আলুওয়ালিয়া। এই ঘটনার ৩৮ দিন আগে বিজেপির প্রথম দফায় ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় থাকা ভোজপুরি গায়ক পবন সিং জানিয়ে দেন তিনি আসানসোল লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়বেন না। তারপরে দীর্ঘ সময় কেটে যায়। একসময় মনে হচ্ছিল- আসানসোল কেন্দ্রে বিজেপি আদৌ প্রার্থী চয়ন করে উঠতে পারবে তো? অবশেষে প্রবীণ এস এস আলুওয়ালিয়া আসানসোলে বিজেপি প্রার্থী হন। তার বহু আগেই আসানসোল কেন্দ্র থেকে জোরকদমে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন  বাম প্রার্থী সিপিএমের জাহানারা খান।তার কিছুদিনের মধ্যেই প্রচার শুরু করেন আসানসোল কেন্দ্রের তারকা প্রার্থী শত্রুঘন সিনহা। বিজেপি প্রচারে বেশ পিছিয়ে পড়ে। এমনিতেও আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে পরিসংখ্যানে বেশ পিছিয়ে বিজেপি। দেখে নেওয়া যাক আসানসোল কেন্দ্রের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি এবং বিগত ভোটের ছবি।

২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে বাবুল সুপ্রিয় আসানসোল কেন্দ্র থেকে জয়ী হন।২০১৯ সালে তিনি দু লাখের কাছাকাছি ভোটে হারিয়ে দেন অভিনেত্রী মুনমুন সেনকে। বাবুল তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরে ২০২২ সালে এই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হতেই আসানসোল কেন্দ্র তৃণমূলের তারকা প্রার্থী শত্রুঘন সিনহা ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির অগ্নিমিত্রা পাল ৩০ শতাংশ ভোট পান। বিজেপি হারে তিন লাখের বেশি ভোট। সেলিব্রিটিদের বরণ করে নেওয়া আসানসোলে কোন মন্ত্রবলে শত্রুঘন সিনহাকে রুখতে পারবে বিজেপি তার কোনও থিওরি নেই। সবচেয়ে বড় কথা বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল উত্তর, জামুরিয়া, রানীগঞ্জ,বারাবানি ও পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক তৃণমূলের। কুলটি হাতেগোনা ভোটে জিতেছিল বিজেপি। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্রে অগ্নিমিত্রা পাল জিতলেও বেগ দিয়েছিলেন সায়নী, ভোটও বেড়েছিল তৃণমূলের। বিগত বিধানসভা ভোটে অগ্নিমিত্রা যেভাবে জিতেছিলেন,সেই একই মন্ত্রে বাবুল সুপ্রিয়ের ব্যবধান বেড়েছিল লোকসভা ভোটে। বামেদের ভোট কমেছে আর আসানসোল কেন্দ্রে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে “রামেদের” ভোট। ২০১৪ সালে এখানে বিজেপির ভোট বাড়ে ৩১ শতাংশ আর বামেদের ভোট কমে ২৬ শতাংশ হারেন ২০০৯ সালের বিজয়ী বাম প্রার্থী বংশগোপাল চৌধুরী। তিনি সেবার পেয়েছিলেন ২২ শতাংশ ভোট।  ২০১৯ সালে আবার বিজেপির ভোট বাড়ে ১৪ শতাংশ, বিজেপির ভোট বাড়ে ১৫ শতাংশ। ফলে ২০১৯ সালে তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন ২০১৪ সালের তৃণমূল প্রার্থী দোলা সেনের চেয়ে ৫ শতাংশ ভোট বাড়ালেও শোচনীয়ভাবে হারেন। এইবার আর বিজেপির সেই বাম কৃপায় ভোটবৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই কারণ বামেদের ভোট যে রামে যাবে তার রাস্তা বন্ধ। বামেদের ভোট ২০১৯ সালে কমে এসে দাঁড়ায় ৭.০৮ শতাংশ। তাই ২০২২ লোকসভা উপনির্বাচনে অগ্নিমিত্রা পালের ভোট বাড়ে নি।বরং কমতে শুরু করেছে। কারণ সিপিএমের তথা বামেদের ভোট এত তলানিতে ঠেকেছিল যে আর কমার জায়গা নেই। বাম ভোট ২০২২ সালে এক শতাংশের কাছাকাছি বাড়ে। এবার বামেদের হয়ে রোজার মধ্যেও প্রচার করেছেন। জামুরিয়ার দুবারের বিধায়ক আগের চেয়ে কিছু ভোট নিশ্চিতভাবেই বাড়াবেন। তার সঙ্গে রয়েছে কংগ্রেস  যাদের ২০২২ সালের উপনির্বাচনে ভোট ছিল ১৫ হাজার। বামেদের ছিল ৯০ হাজার। কিন্তু ওই এক লাখ পাঁচ এবং কিছু ভোট রাম থেকে ফিরলেও যুদ্ধজয় যে সম্ভব নয় তা বলাই বাহুল্য।

রইলেন আলুওয়ালিয়া। তাঁকে শেষ মুহূর্তে এমনকরে বিজেপি ভোটে ছেড়েছে  অভিমন্যুর মত দশা। বেরোনোর পথ পাচ্ছেন না। এমনিতেই প্রতিবেশী কেন্দ্র বর্ধমান-দুর্গাপুরে তার নামে নিরুদ্দেশ নোটিশ পড়েছিল।তার গায়ে রয়েছে বিজয়ী হয়ে কেন্দ্র থেকে গায়েব থাকার স্টিকার যা দার্জিলিংয়ে ছিল, যা ছিল বর্ধমান -দুর্গাপুরেও। তারমধ্যে  রয়েছে বিগত দিনের মত বামেদের থেকে সহায়ক ভোট না আসার নিশ্চিত আশঙ্কা।  তবুও একটা চেষ্টা করছেন। অমিত শাহের সভায় মানুষের ঢল দেখে আত্মপ্রত্যয়ী হতে চেষ্টা করছেন।

তবে শত্রুঘন সিনহা বিন্দাস আছেন। বহাল তবিয়তে প্রচার করছেন। তার বিরুদ্ধে কয়লা সাম্রাজ্যে  দুর্নীতির  স্লোগান বিশেষ দানা বাঁধছে না। জেতার ব্যাপারে তৃণমূল ও তিনি গভীর আত্মবিশ্বাসী। তৃণমূল বলছে, জয়ের মার্জিন কি হয় এটাই দেখার। অমিত শাহের জন্য মানুষের ঢল দেখার পরেও সাধে কী আর এই কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় ব্যঙ্গ করে বলছেন, আমার মত আরেক বিজেপি বিদ্রোহী নেতা শত্রুঘন সিনহার বিরুদ্ধে অমিত শাহ দাঁড়াতে পারেন আসানসোল থেকে। সরল সত্য হল, আসানসোল কেন্দ্র তৃণমূলের তারকা প্রার্থীর কেকওয়াক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  রাজ্যে যে কটি লোকসভা কেন্দ্র  থেকে তৃণমূলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত তারমধ্যে অন্যতম নিশ্চিতভাবেই আসানসোল। শত্রুঘন ঝড় বাম – বিজেপি কেউ রুখতে পারবে বলে মালুম হচ্ছে না।।

About Post Author