সময় কলকাতা ডেস্ক: ১৮ জুনঃ কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় ক্রমশ বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার সরকারি ভাবে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছিল। মৃতদের মধ্যে তিনজন যে রেলকর্মী তা সোমবারই রেলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই সংখ্যাটাই বেড়ে হয়েছে ১১। সোমবার রাতেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে একজনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বিজয়কুমার রায়। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪৩ বছর। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ট্রমা কেয়ার বিভাগে ভর্তি ছিলেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তিনি কলকাতার বাসিন্দা। তবে তাঁর পরিবারের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে স্নেহা মণ্ডল নামে এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, ভয়াবহ এই ট্রেন দুর্ঘটনায় এখনও বেশ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল-সহ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
আরও পড়ুন কৃষ্ণ -মোহিত- মানস ত্রিমুখী লড়াই রায়গঞ্জ উপনির্বাচনে
এদিকে, মঙ্গলবার ভোররাতে সুস্থ যাত্রীদের নিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছয় অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর বিকেলে পরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্তে এলে সুস্থ যাত্রীদের নিয়ে ট্রেনটিকে কলকাতায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত দু’টি বগিকে গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে ট্রেনটিকে প্রথমে মালদহ পাঠানো হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে মালদহে সেই ট্রেনে জুড়ে দেওয়া হয় দু’টি বগি। এরপর মালদহ থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে রওনা দেয় ডাউন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। মঙ্গলবার ভোর ৩ টে বেজে ২০ মিনিটে ১২৯৩ জন যাত্রীকে নিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকে অভিশপ্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস।স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন ফিরহাদ হাকিম, স্নেহাশিষ চক্রবর্তী, শিয়ালদহের ডিআরএম-সহ একাধিক আধিকারিক। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়াতেই একে একে নেমে পড়েন যাত্রীরা। সকলের চোখে মুখেই আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। যাত্রীদের মধ্যে একাংশই ট্রেন থেকে নেমে ভেঙে পড়লেন কান্নায়। ফিরহাদ হাকিম নিজে শিয়ালদহ স্টেশনে দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রীদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন। রাজ্যের তরফে ব্যবস্থা করা হয়েছিল স্পেশাল বাসের। ছিল অ্যাম্বুল্যান্সও। তবে, যাত্রীরা সকলেই সুস্থ ছিলেন। ফলে অ্যাম্বুল্যান্সের প্রয়োজন পড়েনি।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকালে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ছেড়ে রাঙাপানি ও চাটারহাট স্টেশনের মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। মালগাড়ি ও কাঞ্চনজঙ্ঘার সংঘর্ষে একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হওয়ার পরে রেল সূত্রেই হতাহতের খবর নিশ্চিতভাবে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, শিয়ালদহগামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গতি ধীর ছিল। পিছন থেকে এসে ধাক্কা মেরেছে মালগাড়িটি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সিগন্যালিংয়ের সমস্যার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সিগন্যাল ফেল করেই মালগাড়িটি ধাক্কা মারে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে। মালগাড়ির ধাক্কায় ট্রেনের পার্সেল ভ্যান মালগাড়ির ইঞ্জিনের ছাদে উঠে যায়। পিছনের কামরাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। জানা গিয়েছে, যে কামরাটি দুমড়ে গিয়েছে, সেটি অসংরক্ষিত কামরা ছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল তাতে। প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাই বগি কেটে ভিতর থেকে আহত এবং মৃত অবস্থায় যাত্রীদের উদ্ধার করে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি