Home » UEFA Euro 2024 : ম্যাচের মধ্যে রক্তাক্ত দুই তারকা, আত্মঘাতী গোলে জিতে মুখরক্ষা ফ্রান্সের

UEFA Euro 2024 : ম্যাচের মধ্যে রক্তাক্ত দুই তারকা, আত্মঘাতী গোলে জিতে মুখরক্ষা ফ্রান্সের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৮ জুনঃ অঘটন ঘটল না। জয় দিয়েই ইউরো কাপ অভিযান শুরু করল ফ্রান্স। সোমবার জার্মানির ডুসেলডর্ফে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জিতল তারা। খেলার ফল দিদিয়ের দেঁশর দলের পক্ষে ১-০। ম্যাচের একমাত্র গোলটি হয় বিপক্ষের ডিফেন্ডারের নির্ভুল আত্মঘাতী গোলে। নব্বই মিনিটে বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেনি ফ্রান্স। সব মিলিয়ে গতবারের বিশ্বকাপের ফাইনালিস্টদের খেলা মন ভরাতে পারেনি।    

ফ্রান্সের ফুটবল দল যেন চাঁদের হাট। দলে তারকার ছড়াছড়ি। সব বিভাগেই রয়েছে একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার। তাই এ বারও ফিফা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলকে ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার বলে মনে করছেন অনেকে। উল্টোদিকে অস্ট্রিয়া দল ধারে ও ভারে বেশ পিছিয়ে। ফিফা ক্রমতালিকায় ২৫ নম্বরে রয়েছে রাল্ফ রাঙ্গনিকের দল। কিন্তু সেই দলের বিরুদ্ধে জয় পেতে কালঘাম ছুটে গেল ফ্রান্সের। ম্যাচের শুরু থেকে দাপট ছিল এমবাপ্পেদের। মাঝমাঠের দখল রেখে আক্রমণে ঝড় তুলছিলেন তাঁরা। অস্ট্রিয়ার ফুটবলাররা চাপের মুখে কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলছিল। মার্সেল সাবিৎজাররা বেশ পরিশ্রমী ফুটবল খেললেন। সার্বিক বল দখলের লড়াইয়ে দিদিয়ের দেঁশর ছেলেদের থেকে এগিয়ে ছিলেন তারা। সুযোগ পেলে প্রতি আক্রমণে উঠে ফ্রান্সরে রক্ষণে চাপ তৈরি করছিল অস্ট্রিয়া।

ফ্রান্সের আক্রমণগুলি হচ্ছিল দুটি প্রান্ত দিয়ে। একদিকে থুরাম ও অন্যদিক থেকে ডেম্বলে গতি বাড়িয়ে বিপক্ষের গোলের খুব কাছে পৌঁছে যাচ্ছিলেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে দলের প্রধান স্ট্রাইকার হলেও তিনিও দুই প্রান্তে গিয়ে বল তৈরি করছিলেন। খেলার ৩৮ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি হয় এমবাপ্পের সৌজন্যে। অস্ট্রিয়ার। ডান প্রান্ত ধরে বল নিয়ে উঠে বিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের মধ্যে বল রাখেন কেএমটেন। কিন্তু সেই বলের নাগাল পান নি তাঁর কোনও সতীর্থ। সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের গোলেই ঢুকিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার ম্যাক্সিমিলিয়ান উবের। এগিয়ে যায় ফ্রান্স। বিরতির সময় সেই গোলে এগিয়ে ছিল তারা।

আরও পড়ুনঃ UEFA Euro 2024 : ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বাতিল ফুটবলারের গোলে জয় নেদারল্যান্ডসের

বিরতির পর আহত হন গ্রিজম্যান। বিপক্ষের ফুটবলারের সঙ্গে বল কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে মাঠের ধারে সাইনবোর্ডের দিকে গ্রিজম্যানকে ঠেলে দেন উবের। সাইনবোর্ডে ধাক্কা খেয়ে কপাল কেটে যায় ফরাসি ফুটবলারের। তবে কোনও কার্ড দেখাননি রেফারি। মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে বাকি সময় মাঠে ছিলেন গ্রিজম্যান। ৫৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ ছিল ফ্রান্সের। মাঝমাঠ থেকে এমবাপ্পেকে পাস দেন রাবিয়ঁ। কিন্তু বিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি সদ্য রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া তারকা। এই সুযোগ যে তাঁর মত তারকার পা থেকে মিস হতে পারে বিশ্বাস করতে পারেননি এমবাপ্পে নিজেও। মানতে পারেননি ফ্রান্স কোচ দেঁশও। এরপরও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি ও নষ্ট করে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নরা। ৮৫ মিনিটে বিপক্ষের ডিফেন্ডারের সঙ্গে সংঘর্ষে নাকের হাড় ভাঙে এমবাপ্পের। রক্তে স্নান করে যান তিনি। কিছু ক্ষণ খেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। তবে শেষ দিকে আর বিপদ বাড়েনি ফ্রান্সের হয়নি।  

About Post Author