Home » স্মরণে ও মননে অধ্যাপক দিলীপ চক্রবর্তী

স্মরণে ও মননে অধ্যাপক দিলীপ চক্রবর্তী

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১ জুলাই : কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন, ” তোমার প্রতি চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমা নাই। ” বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মনীষীদের আবির্ভাব খুব বেশি হয় না বলেই তাঁদের চৰ্চা যেভাবেই করা হোক না কেন, তা অত্যন্ত কম মনে হয়।বিরল ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এমনই একজন মনীষার অধিকারী অধ্যাপক দিলীপ চক্রবর্তী, তাঁর প্রভাব শিক্ষাজগৎ ও সমাজজীবনে এক অনন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল। বঙ্গে ও ভারতে তিনি তাঁর জীবনদর্শন ও শিক্ষা, নীতি ও মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক আদর্শের যেভাবে সঞ্চারিত করেছিলেন, জাতির জীবনে তা তাঁর আবির্ভাব তিথির একশো বছর পরেও অম্লান।সম্প্রতি রোটারি ভবনে তাঁর জন্মশতবর্ষ অতিক্রমলগ্নে তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে চর্চার মধ্যে দিয়ে তাঁকে স্মরণ করা হল অনন্য আঙ্গিকে। চৌরঙ্গীর রোটারি সদনে অধ্যাপক দিলীপ চক্রবর্তীর জন্মশতবর্ষে তাঁর চৰ্চা ও প্রণামী সংকলনের মোড়ক উন্মোচন হল শ্রদ্ধার আবহে ও তাঁকে অনুসরণ করার পাথেয় সন্ধানে। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী প্রবোধচন্দ্র সিনহা ও কিরণময় নন্দ, বাংলাদেশের লেখক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবির, অরুণ শ্রীবাস্তব প্রমুখ।

অধ্যাপক দিলীপ চক্রবর্তীর জীবনচর্যাকে সংশ্লেষ করা এক জীবনকালে অতি দুরূহ শুধু নয়, কার্যত অসম্ভব। যেভাবে ফরিদপুরের একটি অখ্যাত গ্রাম থেকে তিনি অর্থনীতি ও আইন বিদ্যার ছাত্র হিসেবে নিজেকে এক বিশেষ উচ্চতায় তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেভাবেই বৃহত্তর ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন দেশ ও দশের উন্নয়নে। অধ্যাপনা জীবনে তিনি শিক্ষাকে করেছিলেন সহজবোধ্য আর অধ্যাপকদের যাপনকে করে তুলেছিলেন সহজ। আর্থিক টানাপোড়েনের হাত থেকে অধ্যাপকদের মুক্তির পথ দেখাতে ওয়েবকুটার মাধ্যমে বৈপ্লবিক উদ্যোগ দেখান। রাজনীতি ও দেশের হয়ে কূটনৈতিক রূপরেখা গড়ে তুলতেও তাঁর বিবিধ অবদান ছিল। সাহসী বহু পদক্ষেপ নিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে সাংসদ হওয়ার জন্য ‘সাহস’ তাঁকে ভোট রাজনীতিতে এনেছিল। এখানেও সাফল্য লাভ করেছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলন হোক বা তিব্বত আন্দোলন সর্বত্র তিনি নতুন পথের দিশারী ছিলেন। শিক্ষাব্রতী মনীষী দিলীপ চক্রবর্তী মূল্যবোধহীনতা, হিংসা ও অসহিষ্ণুতার দিনে তাঁর মতো মানুষের অভাব বড় ভাবায়। তাঁকে আত্মস্থ করার প্রয়াস কঠিন হলেও তাঁকে বুঝতে পারলেও দেশবাসীর যে অত্যাশ্চর্য বিবর্তন আসতে পারে, তারই এক মহড়ার যেন সাক্ষী থাকল চব্বিশ সালের জুন মাসের শেষ শুক্রবার।।

আরও পড়ুন গুডবাই দ্রাবিড় স্যার! সৌরভ যা বলেছিলেন তা করে দেখিয়েছেন রাহুল

About Post Author