Home » UEFA Euro Cup 2024 : ইউরো ফাইনালে মহারণ, তরুণ ব্রিগেডেই আশার আলো দেখছে স্পেন ও ইংল্যান্ড

UEFA Euro Cup 2024 : ইউরো ফাইনালে মহারণ, তরুণ ব্রিগেডেই আশার আলো দেখছে স্পেন ও ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৪ জুলাইঃ অন্তিম পর্বে দাঁড়িয়ে ইউরো ২০২৪। রবিবার বার্লিনে প্রতিযোগিতার ফাইনালে মুখোমুখি স্পেন বনাম ইংল্যান্ড। দুই দলের কাছে এই ফাইনাল ভিন্ন স্বাদের। কারণ, চতুর্থবারের জন্য ইউরো জয়ের হাতছানি রয়েছে লা রোজাদের সামনে। অন্যদিকে প্রথমবারের জন্য ইউরো জিতে ৫৮ বছরের ট্রফি খরা কাটাতে মরিয়া থ্রি লায়ন্স ব্রিগেড। যদিও একটি বিষয়ে একই মেরুতে দাঁড়িয়ে প্রতিযোগিতার দুই ফাইনালিস্ট দল। সেটা হল তারুণ্য নির্ভর ফুটবল। 

চলতি প্রতিযোগিতায় ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে স্পেন । তাদের গতিশীল আক্রমণাত্মক ফুটবল মুগ্ধ করেছে আপামর ফুটবল প্রেমীদের। ইতিমধ্যে অপ্রতিরোধ্য দে লা ফুয়েন্তের দল প্রতিযোগিতা থেকে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি, এবারের আয়োজক দেশ জার্মানি ও গতবিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্সের বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে। স্পেন দলে আলভারো মোরাতা, রড্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ, ডানি কার্ভাহালের মত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতায় পরিপূর্ণ ফুটবলারেরা রয়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি নিজেদের পরিচিতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন নিকো উইলিয়ামস, ল্যামিন ইয়ামালের মত দলের সম্ভাবনাময় তরুণ ফুটবলারেরা। ইতিমধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসাবে ইউরো কাপে গোল করার নজির গড়ে ফেলেছেন লা মাসিয়া থেকে বড় হয়ে ওঠা ইয়ামাল। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে ইয়ামালের অবিশ্বাস্য গোলে সমতায় ফেরে স্পেন। ইউরো কাপের শুরু থেকেই এই তরুণ দলের সতীর্থদের দিয়ে গোল করাচ্ছেন। প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ গোলের বল বাড়ানোর লড়াইয়ে রয়েছেন ১৭ বছরের ইয়ামাল। চোট পেয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েছেন পেদ্রি। তাঁর দলে না থাকাটা স্পেনের কাছে একটা বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন অনেক প্রাক্তন। যদিও পেদ্রির অভাব অনেকটা পূরণ করে দিয়েছেন ডানি অলমো। ইতিমধ্যে ৩ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইয়ে রয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয় ২ টি অ্যাসিস্টও রয়েছে লিপজিগের ফুটবলারের দখলে। তাই ফুটবল মহলের অধিকাংশ ফাইনালের আগে স্পেনের হয়েই বাজি ধরছেন। যদিও নিজেদের এগিয়ে রাখতে নারাজ স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “ফাইনালে কেউ ফেভারিট নয়।” তিনি আরও বলেন নকআউটের বাকি ম্যাচগুলির সঙ্গে এই ম্যাচের কোনও ফারাক তিনি দেখছেন না। “গত নকআউট ম্যাচের তুলনায় নিজেদের সেরাটা দিতে হবে এই ম্যাচে জিততে। রবিবার প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা দলের মুখোমুখি হতে চলেছি।” ফাইনালের আগে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার গাভি। যিনি এসিএলের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন।  

আরও পড়ুনঃ Optical Illusion: আপনার দৃষ্টিশক্তি গোয়েন্দাদের মত, তা হলে ৩০ সেকেন্ডে ৩ টি পার্থক্য খুঁজে ধাঁধার সমাধান করে দেখান

ইউরো কাপের ইতিহাসে একবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। তবে এই নিয়ে টানা দুইবার ফাইনাল খেলছে থ্রি লায়ন্সরা। স্পেন দলের মত জমকালো শুরু না হলেও ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলে ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন হ্যারি কেনরা। নকআউটে সুইজারল্যান্ডস ও নেদারল্যান্ডসের মত দলকে হারিয়েছেন তাঁরা। স্পেনের মত এই দলও কার্যত তারুণ্য নির্ভর। দলে কেন, পিকফোর্ড, ওয়াকারের মত অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছেন। কিন্তু দলের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে তরুণ ব্রিগেডের উপর। প্রথমেই যার দিকে নজর থাকবে, তিনি জুড বেলিংহাম। গত মরশুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নজরকাড়া ফুটবল খেলেছেন। দেশের জার্সিতেও প্রয়োজনে গোল করছেন। ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে আর এক উল্লেখযোগ্য নাম ফিল ফোডেন। ২০১৭ সালে কলকাতার যুবভারতীতে অনূর্দ্ধ-১৭ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের জয়ের নায়ক ছিলেন। এবারও ফাইনালে ইংল্যান্ডের পারফরমেন্স নির্ভর করছে ফোডেনের বাঁ-পায়ের উপর। আর্সেনালের তরুণ ফুটবলার বুকায়ো সাকাও ম্যাচে তফাৎ গড়ে দিতে পারেন। সেমিফাইনালে ডাচদের বিরুদ্ধে বিশ্বমানের গোল এসেছিল তাঁর পা থেকে। ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। সর্বশেষে যার দিকে নজর থাকবে তিনি কোবি মাইনু। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গত মরশুমের আবিষ্কার। ১৯ বছর বয়সেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। বলের সঙ্গে ও বল ছাড়া মাঠের মধ্যে তাঁর পরিপক্কতা চোখে পড়েছে সকলের। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তী ফুটবলার ওয়েন রুনি তো বলেই দিয়েছেন ফাইনালে গোল করতে চলেছেন মাইনু। ১৯৬৬ সালে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জয়ের পর ফুটবলে ইংল্যান্ডের ভাড়ার শূন্য। প্রতিবার আশা জাগিয়েও শেষ মুহূর্তে স্বপ্নভঙ্গের সাক্ষী থাকতে হয় ইংরেজদের। এবার হারিয়ে যাওয়া সম্মান পুনরুদ্ধার করতে বদ্ধপরিকর ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, “নিজেদের সম্মান ধরে রাখতে এই ট্রফিটি আমাদের জিততেই হবে।” ফাইনালের আগে কতটা আত্মবিশ্বাসী তিনি? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি রূপকথায় বিশ্বাসী নই। কিন্তু আমি স্বপ্নে বিশ্বাস করি।” এখন রবিবারের রাত যে গোটা ইংল্যান্ডবাসীর কাছে এক স্বপ্নপূরণের রাত হতে চলেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। স্পেনকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে সাউথগেটের ছেলেরা। ম্যাচে শেষে সত্যি হবে হবে ইংরেজ সমর্থকদের ‘ফুটবল ইজ কামিং হোম’-এর স্বপ্ন?  

About Post Author