সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ জুলাইঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার ২০১৬ সালে মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ প্রাথমিকের প্যানেল প্রকাশের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। পর্ষদকে বলা হয়েছে, ‘ডেড’ প্যানেলটাই প্রকাশ করতে হবে। বিচারপতি বলেন, ‘মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রাথমিকের প্যানেল দেখতে চাই।’
জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে মামলাকারী প্রাথমিকে নিয়োগের পরীক্ষা দেন। তাঁরা প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হন নি। তাই ৫ শতাংশ অতিরিক্ত প্যানেল প্রকাশের আবেদন জানান। যদিও সেই প্যানেল প্রকাশ করেনি বোর্ড। এ প্রসঙ্গে মামলাকারীর আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের বক্তব্য, বোর্ড মেরিট লিস্ট তৈরি করেনি। অতিরিক্ত ৫ শতাংশের তালিকাও প্রস্তুত করেনি। বোর্ড বারবার বলেছে প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা উচ্চ আদালত ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগের গোটা প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছে। মোট ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু, সোমা দাস নামে এক চাকরিপ্রাপকের চাকরি থাকবে বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট। কারণ, তিনি ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। মানবিক কারণে তাঁর চাকরি বহাল রেখেছে আদালত। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এও জানিয়ে দেয় যে, অতিরিক্ত শূন্য পদ তৈরির মাধ্যমে যাদের চাকরি দেওয়া হয়েছিল, ৪ সপ্তাহের মধ্যে তাদের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। দিতে হবে ১২ শতাংশ হারে সুদও। আবার জেলাশাসক পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে ওই টাকা আদালতে জমা দেবে। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্পেশাল লিভ পিটিশন দায়ের হয় সুপ্রিম কোর্টে।

উল্লেখ্য, স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক এবং অশিক্ষক শিক্ষা কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মোট ৩৫০টি মামলা হয়েছিল। সেই সব মামলা একত্র করে সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। বিচারপতি এও জানিয়ে দেন, দুর্নীতির ব্যাপারে সিবিআই তাদের তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং শিক্ষা দফতরের যে সব অফিসাররা এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অর্থাৎ প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যে অফিসাররা নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়েছিলেন, সিবিআই চাইলে তাঁদের হেফাজতে নিতে পারবে। এসএসসিকে আদালতের নির্দেশ, অবিলম্বে যে ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র এসএসসির ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি, সেগুলি দ্রুত আপলোড করতে হবে। উত্তরপত্র যাতে সকলে দেখতে পান, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ওএমআর প্রস্তুতকারক সংস্থা নাইসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। হাই কোর্টের মতে, মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেলের পরে সমস্ত নিয়োগই অবৈধ।
# SSCRecruitmentCase
#Latestbengalinews


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা