Home » শ্লীলতাহানির অভিযোগে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজভবনের সেই অস্থায়ী মহিলা

শ্লীলতাহানির অভিযোগে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ রাজভবনের সেই অস্থায়ী মহিলা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ জুলাইঃ বাংলার রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন রাজভবনের এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী। শ্লীলতাহানির অভিযোগে  তিনি থানার দ্বারস্থও হয়েছিলেন। কিন্তু, সাংবিধানিক রক্ষাকবচের জেরে ফৌজদারি ধারায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা সম্ভব নয়। এরপর এই অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিলেন রাজভবনের ওই মহিলা কর্মী। এমনকী শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশনও দাখিল করেছেন তিনি। শুক্রবার মামলাটি প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জে বি পাদরিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রর বেঞ্চে ওঠে। এরপরই এই মামলায় কেন্দ্রকে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেলকে সাহায্যের কথা বলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অ্যাটর্নি জেনারেল শীর্ষ আদালতকে সহযোগিতা করবেন। তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলেই জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন  কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র বাংলাদেশ, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

গত ২ মে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজভবনের এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী দাবি করেন, রাজ্যপাল বোস তাঁর শ্লীলতাহানি করেছেন। প্রথমে রাজভবনে থাকা পুলিশের কাছে একথা জানান তিনি। পরে থানায় গিয়ে একই দাবি করেন ওই মহিলা। তবে সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকায় রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ওঠা এই ধরনের বিস্ফোরক অভিযোগের ক্ষেত্রে কোনও আইনি পদক্ষেপ করতে পারেনি কলকাতা পুলিশ। তবে অনুসন্ধান চালানো হয়। রাজভবনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করার চেষ্টা করে পুলিশ। এছাড়া ওই মহিলাকে পুলিশের দ্বারস্থ হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে রাজভবনেরই বেশ কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে পুলিশ। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্ট ওই তদন্তে স্থগিতাদেশ জারি করে। তার ফলে শেষমেশ বন্ধই হয়ে যায় তদন্ত।


এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই রাজ্যপালকে আক্রমণ করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই মানহানির মামলা করেছেন রাজ্যপাল। রাজভবনের ঘটনা নিয়ে তাঁর নামে যে যে মন্তব্য করেছেন তা অপমানজনক বলেই মনে করেছেন বোস। সম্প্রতি সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রেয়াত হোসেন সরকারের শপথ জট নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ‘ রাজভবনে যা কীর্তি-কেলেঙ্কারি চলছে, তাতে মেয়েরা যেতে ভয় পাচ্ছেন বলে আমার কাছে অভিযোগ করেছেন।’ রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ উঠলেও সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি পুলিশ। তবে ওই মহিলার বয়ানের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছিল।। সেই সূত্রে রাজভবনের সিসিটিভি ফুটেজও চাওয়া হয়। যদিও তা দেয়নি রাজভবন। পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্ট তদন্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। এমনকী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠার পর যে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল তাতেও কোনোরকম হস্তক্ষেপ করেনি আদালত।

About Post Author