সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ জুলাই : অস্থিরতা বেড়েই চলেছে বাংলাদেশ জুড়ে । শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃত্যুর উপত্যকা বাংলাদেশে নিহতের সংখ্যা ১০৫ ছাড়িয়েছে। আহত সহস্রাধিক। নেপথ্যে কি ? একটি আদর্শকে সামনে রেখে ছাত্রদের বৈপ্লবিক আন্দোলন কি সত্যি ভয়ডরহীন অসমসাহসী ছাত্রদের রূপান্তরের পথ খোঁজা ও দিন বদলের চেষ্টা? নাকি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ও মৌলবাদী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক শক্তির কলকাঠি? উড়িয়ে দেওয়া যাবেনা কোনও সম্ভাবনা বা আশঙ্কাকে। কারণ, ঘাত-প্রতিঘতময় সম্প্রতিক সময়ে রক্তের স্রোতে ভেসে চলা বাংলাদেশের বিপ্লব ও আন্দোলনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে অবশ্যই চিন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম উঠে আসছে যা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক নয়।
শুক্রবার বাংলাদেশে অস্থিরতা ও হিংসা তীব্র থেকে তীব্রতর আকার নেওয়ার সাধারণভাবে প্রেক্ষাপট ছাত্র আন্দোলন।আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিতর্কিত চাকরির কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি তুলেছিলেন এবং সেই দাবিতে তাঁরা অনড়।শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে, ৭৭৮ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্থলবন্দর হয়ে ফিরে এসেছে, অতিরিক্ত ২০০ জন শিক্ষার্থী ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মাধ্যমে নিয়মিত ফ্লাইট পরিষেবা ব্যবহার করছে। ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশে থাকা ৪০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে। নেপাল এবং ভুটানের শিক্ষার্থীদের ভারতে পাড়ি দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সেই সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বৃহত্তর প্রশ্ন অন্য জায়গায় লুকিয়ে। যে ছাত্ররা প্রাণ হাতে করে ভারতে ঢুকছেন তাঁরাও বলছেন আন্দোলন বৃহত্তর আকার ধারণ করেছে যা কেবলমাত্র ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাহলে কি এই আন্দোলনের শিকড় অন্য কোথাও ছিল?
হাসিনা সরকার প্রথম থেকেই বলে আসছে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে বিরোধী শক্তি বিএনপি ও জামাতের মত মৌলবাদী শক্তি। এর সঙ্গে যে কথা বলা হচ্ছে না তা হল, চীন ও আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অবস্থান বা তার মেরু পরিবর্তনের ইঙ্গিত । একদিকে চিনের সঙ্গে সম্প্রতি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের। স্বয়ং হাসিনাকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে চিন। এখানে জটিলতা বেড়েছে। জটিলতার কারণ ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত বলেই মনে করা হয়। পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কূটনৈতিক স্তরে ভালো। হাসিনাকে মিত্র দেশের বন্ধুভাবাপন্ন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই মনে করে এসেছে ভারত। বাংলাদেশের মধ্যেও একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা আলোচিত হলেও অন্যদিকে বাংলাদেশের জনগণ-কেন্দ্রিক এবং রাজনৈতিক স্তরে প্রবল ভারত বিরোধিতা রয়েছে। বাংলাদেশের সরাসরি ভারত বিরোধিতার কথা কূটনৈতিক স্তরে ফুটেও না উঠলেও সমস্যা অন্যত্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পেন্টাগন মার্কিন আবেদনে বাংলাদেশের সাড়া না দেওয়াকে ভালোভাবে মেনে নেয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। মার্কিন আপত্তির কারণ কী?

তাৎপর্যপূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরে আট বর্গ কিলোমিটারের একটি ছোট প্রবাল দ্বীপ। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে মার্কিন সেনাঘাঁটি বসাতে চেয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেনাঘাঁটি বানানোর মার্কিন আর্জি খারিজ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এমতাবস্থায় বিষয়টিকে মোটেই ভালোভাবে নেয়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পেন্টাগন যা তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সুস্পষ্ট। উল্লেখ্য, পেন্টাগনে অবস্থিত আমেরিকার তিন ধরণের মিলিটারি সার্ভিস। চীনের সঙ্গে চুক্তিতে সায় দেওয়া এবং মার্কিন আবেদনকে নাকচ করা কি অস্থিরতা ও অচলতা তৈরি করছে বাংলাদেশে? অথবা সেরকম প্রেক্ষাপট কি তৈরি করা হয়েছে? আমেরিকান ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস সিআইএ কি বাংলাদেশে সক্রিয় যা বাংলাদেশের দেশীয় গোলযোগের নেপথ্যে কাজ করছে? সময় হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর দেবে অথবা হয়তো অজানা থেকে যাবে এই প্রশ্নের উত্তরমালা।।


More Stories
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার
হরমুজ প্রণালী, রান্নার গ্যাস ও তেল এবং ভারত -ইরানের সম্পর্ক
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত