Home » কোটাবিরোধী আন্দোলনের জের, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরল ৩০০-রও বেশি ভারতীয় পড়ুয়া

কোটাবিরোধী আন্দোলনের জের, বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরল ৩০০-রও বেশি ভারতীয় পড়ুয়া

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ জুলাইঃ কোটাবিরোধী আন্দোলনের জেরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০৫। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ৫০০। ইতিমধ্যেই কার্ফু জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। সব জায়গায় সেনাও নামানো হয়েছে। শুক্রবার সারা দিনই সংঘর্ষ, অশান্তি, অগ্নিসংযোগ অব্যাহত ছিল। অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলিগের সদস্যরা। এহেন পরিস্থিতিতে এবার অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ ছাড়লেন শতাধিক পড়ুয়া। জানা গিয়েছে, শুক্রবারই ৩০০-রও বেশি ভারতীয় পড়ুয়া উত্তর-পূর্বের সীমান্ত পার করে ভারতে চলে এসেছেন।

আরও পড়ুন    ফের বোমাবাজি ভাটপাড়ায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার তাজা বোমা, জখম ৪

মূলত উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, মেঘালয়, জম্মু-কাশ্মীরের পড়ুয়ারাই এমবিবিএস অর্থাৎ ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। কিন্তু, বিগত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে বাংলাদেশ। কোটা বা সংরক্ষণ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে পথে নেমেছে পড়ুয়ারা। যোগ দিয়েছে সাধারণ মানুষ। কার্যত সেকারণেই অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় পড়ুয়ারা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, ট্যাক্সি করে ৬ ঘণ্টার পথ পেরিয়ে সীমান্তে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশোর নিরাপত্তা বাহিনী তাদের এসকর্ট করে পৌঁছে দিয়েছেন। যদিও ভারত সরকার নিয়মিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ভারতীয় পড়ুয়ারা যাতেসুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরে আসতে পারেণ, সেকারণে বাংলাদেশ ল্যান্ড-পোর্ট অথারিটির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এদিকে, এই বিক্ষোভ নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ সহ নানা সোশ্যাল মিডিয়াতে। সেখানে নানা রকম গুজব এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণেই কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ উঠছে। মূলত সেই কারণেই গত বুধবার রাত থেকে ঢাকা সহ গোটা বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে ৪জি মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। চালু রয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও মোবাইল ইন্টারনেটের টু-জি পরিষেবা। এরফলে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের। মোবাইল গ্রাহকরা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, বুধবার রাত থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে হঠাৎই মোবাইল ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। তাই ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট তাঁরা খুলতে পারছেন না। এদিকে, বৃহস্পতিবার কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। শুধু হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ ছিল। বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। দিনভর জাতীয় সড়কগুলিতে আটকে ছিল হাজার হাজার যানবাহন। বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ এবং পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভের আঁচ। কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন। গত বুধবারই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়।

About Post Author