সময় কলকাতা ডেস্ক, ২২ জুলাইঃ কোটাবিরোধী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই কার্ফু জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। সব জায়গায় সেনাও নামানো হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দেড়শো ছাড়িয়ে গিয়েছে। আহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ৫০০। এহেন পরিস্থিতিতে এবার বিএনপি মহাসচিব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ঢাকায় সরকারি অফিসে হামলা করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়েছেন আরও কয়েকজন বিএনপি নেতাও। এদিকে, রণক্ষেত্র বাংলাদেশ থেকে পাঁচ হাজারেরও বেশি পড়ুয়া ভারতে ফিরেছে। সাড়ে চার হাজার জন ভারতীয়র পাশাপাশি, নেপাল, ভুটান এবং মালদ্বীপের ৫৪০ জন পড়ুয়াও বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরেছেন।

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আন্দোলনের জয় হলেও, এখনও শান্ত হয়নি বাংলাদেশের পরিস্থিতি। অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে ছাত্রলিগের সদস্যরা। এর আগে গত শুক্রবারই ৩০০-রও বেশি ভারতীয় পড়ুয়া উত্তর-পূর্বের সীমান্ত পার করে ভারতে চলে এসেছেন। মূলত উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, মেঘালয়, জম্মু-কাশ্মীরের পড়ুয়ারাই এমবিবিএস অর্থাৎ ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। কিন্তু, বিগত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে বাংলাদেশ। কোটা বা সংরক্ষণ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে পথে নেমেছে পড়ুয়ারা। যোগ দিয়েছে সাধারণ মানুষ। কার্যত সেকারণেই অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় পড়ুয়ারা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, ট্যাক্সি করে ৬ ঘণ্টার পথ পেরিয়ে সীমান্তে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশোর নিরাপত্তা বাহিনী তাদের এসকর্ট করে পৌঁছে দিয়েছেন। যদিও ভারত সরকার নিয়মিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ভারতীয় পড়ুয়ারা যাতেসুরক্ষিতভাবে দেশে ফিরে আসতে পারেণ, সেকারণে বাংলাদেশ ল্যান্ড-পোর্ট অথারিটির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এদিকে, এই বিক্ষোভ নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ সহ নানা সোশ্যাল মিডিয়াতে। সেখানে নানা রকম গুজব এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণেই কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ উঠছে। মূলত সেই কারণেই গত বুধবার রাত থেকে ঢাকা সহ গোটা বাংলাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে ৪জি মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। চালু রয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও মোবাইল ইন্টারনেটের টু-জি পরিষেবা। এরফলে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের। গত বৃহস্পতিবার কোটা বিরোধী আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। শুধু হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ ছিল। বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। দিনভর জাতীয় সড়কগুলিতে আটকে ছিল হাজার হাজার যানবাহন।
#কোটাবিরোধীআন্দোলন
#কোটাবিরোধীওছাত্রলীগেরমধ্যেসংঘর্ষ
#রণক্ষেত্রবাংলাদেশ
#BNPSecretaryGeneralAmirKhosruMahmudChowdhury
#Latestbengalinews
#BangladeshQuotaAndolon


More Stories
সীমান্তে চ্যাংড়াবান্ধায় জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের পরই শুরু মাপজোক
সীমান্ত সমস্যা সমাধানে শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত দ্রুত পদক্ষেপে কোন বার্তা?
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস : বাংলাদেশে পালাবদল ও বিতর্ক