Home » মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ফাঁসি, অভিষেক বলছেন এনকাউন্টার : কামদুনি মাথায় রেখে পর্বতের মূষিকপ্রসবের আশঙ্কা?

মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ফাঁসি, অভিষেক বলছেন এনকাউন্টার : কামদুনি মাথায় রেখে পর্বতের মূষিকপ্রসবের আশঙ্কা?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ অগাস্ট : পর্বতের মূষিকপ্রসব হবে না তো? তাই কি দ্রুত বিচারে মৃত্যুদন্ডের দাবি? তাই কি সাতদিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা? তাই কি এনকাউন্টার দাওয়াই? আরজিকর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনকাণ্ডে  দ্রুত বিচার চাইলেও একটি বিষয় ঘুরেফিরে আসছে। কামদুনি – মধ্যমগ্রামে চরম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায়নি।

একটি নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যা যেরকম কর্মস্থানে নারীদের নিরাপত্তা সহ একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, তেমনই আইন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই যথাক্রমে মৃত্যুদণ্ড  এবং দ্রুত মৃত্যুদণ্ড চাইছেন। তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে দাবি কি ও কেন উঠছে বলার আগে দুটি সাম্প্রতিক অতীতের ধর্ষণ জনিত হত্যাকাণ্ডের কথা বলা যাক। ফ্ল্যাশব্যাকে গেলে দেখা যাবে, ১১ বছর আগের কামদুনি কাণ্ডের সঙ্গে আশ্চর্য সাদৃশ্য  আরজিকর হত্যাকাণ্ডের। নৃশংসতার বহর  তুলনীয়। অথচ, সেখানে ৮ জন অভিযুক্তের মধ্যে একজনের কারাবাসে মৃত্যু হয়। একজনের মুক্তি হয়। এই ৬জনের মধ্যে তিনজনের  মৃত্যুদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। হাইকোর্টের রায়ে তিনজনের মধ্যে একজন বেকসুর খালাস পেয়ে যান। অন্য দুজনেরও মৃত্যুদণ্ড  রদ হয়ে যায়। অথচ ফাস্ট ট্রাক কোর্টে এদের  এক মাসের মধ্যে চরম শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার হাইকোর্টের  রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে গেলেও বিশেষ কিছু সুবিধা হয় নি।

এই ঘটনার কিছুদিন পরেই মধ্যমগ্রামে  আরেকটি বাঙালি মেয়েকে ধর্ষণ এবং পুনরায় ধর্ষণের  অভিযোগে পাঁচজন ধৃত হয়। মেয়েটি আত্মহত্যা করে। অভিযুক্তরা বিচারে দোষী সাব্যস্ত হয়। কুড়ি বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয় তারা।

এরকম অতীত সময়ের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, ২০২৪ সালের  তরুণী চিকিৎসকের নারকীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের দরকারে ফাঁসি দেওয়া হবে তখন চলতি বিচারব্যবস্থাকে আক্রমণ করে  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, এই ঘটনা যারা ঘটায় তাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। “এনকাউন্টার” দাওয়াই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।  এরকম ঘটনা সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা যাতে  নেওয়া যায় সেই আইন আনা হয় না কেন? এই দুটি বক্তব্য অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে নারীদের ধর্ষণ ও খুনে মৃত্যুপরোয়ানা দাবি করছে। পাশাপাশি বক্তব্য দুটি মনে করিয়ে দিচ্ছে, রাজ্য সরকার কামদুনি কাণ্ডের মত একাধিক কান্ডে ধর্ষক-খুনীদের চরম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া যায়নি। তাই আবার পর্বতের মূষিকপ্রসব হবে না তো?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন , “আপনারা মনে করেন, যারা এই ঘটনা ঘটাল তার বেঁচে থাকার অধিকার আছে?” তিনি আরও বলেছেন, সমাজে যাদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই,তাদের ৭ দিনের  আইন করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।  আইন চাইলেই আনা যায়। তাঁর প্রশ্ন,”কেন ৫-৬ বছর ট্রায়াল চলবে?”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য,  ক্ষমতায় থাকা সরকার আইনসভায় অর্ডিন্যান্স আনুন। আইন সংশোধনী আনা হোক যাতে সাতদিনে ধর্ষকদের বিচার করা যায়।  তৃণমূল সাংসদ মনে করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের উচিত এই বিলকে সমর্থন করা। অর্থাৎ নৃশংস, বিরলতম খুন ও ধর্ষণের মৃত্যু-পরোয়ানায় দ্রুত সই করা যায়।

এখন প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত ধৃত সঞ্জয় রায়কে ধনঞ্জয়ের মত দ্রুত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে নাকি কামদুনি কান্ডের পুনরাবৃত্তি হবে? পর্বতের মূষিকপ্রসব হওয়ার আশঙ্কা থাকছেই, নইলে কি আর অভিষেক আইনে সংশোধন আনার কথা বলছেন!

 

About Post Author