Home » নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন মানিক ভট্টাচার্য

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন মানিক ভট্টাচার্য

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য।  দীর্ঘ ২৩ মাস জেল বন্দি থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে জামিন দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ তাঁর জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেন। সূত্রের খবর, ইডি-র দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান মানিক ভট্টাচার্য। তবে জামিন পেলেও বেশকিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে মানিককে। এদিন হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ,মানিক ভট্টাচার্যকে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, তদন্তে সাহায্য করতে হবে, ট্রায়াল কোর্টে হাজিরা দিতে হবে। নিম্ন আদালতের সীমানার বাইরে যেতে পারবেন না।এর পাশাপাশি তদন্তকারীকে নিজের ফোন নম্বর জানাতে হবে।

আরও পড়ুন Kunal Ghosh: একদা মাদক কাণ্ডে ধৃত পামেলাকে অবস্থানরত চিকিৎসকদের মঞ্চে দেখে কটাক্ষ কুণালের, পাল্টা দিলেন বিজেপি নেত্রীও

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাথমিক শিক্ষা পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর জামিনের আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মানিক ভট্টাচার্য। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল হাইকোর্টেই আবেদন করতে হবে তাঁকে। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন তিনি। তবে, এই তদন্ত শেষ করার জন্য গত ডিসেম্বরের মধ্যে সময় বেঁধে দিয়েছিল আদালত। কেননা বিচারাধীন অবস্থায় জামিন মঞ্জুর হলে তার প্রভাব তদন্তের ওপর পড়তে পারে বলেই মনে করছে আদালত।

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তে নেমে মানিকের বিপুল সম্পত্তির হদিশ পান ইডি। এরপরই নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ায় মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য এবং ছেলে শৌভিক ভট্টাচার্যের। এরপর ২০২৩-এর ২২ ফেব্রুয়ারি ব্যাঙ্কশাল আদালতে আত্মসমপর্ণও করেন মানিকের স্ত্রী ও পুত্র। জানা গিয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০বার বিদেশ সফরে গিয়েছে মানিক ভট্টাচার্যের পরিবার। বিদেশ সফরের তালিকায় ফ্রান্স, নাইজেরিয়া, মালদ্বীপ, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামের মতো একাধিক দেশ রয়েছে। প্রতিটি সফরে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। নিয়োগ দুর্নীতির টাকাতেই কি বিদেশ সফর? সেসব কিছু জানতেই তদন্ত শুরু করে ইডি-র আধিকারিকরা। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, শৌভিক ভট্টাচার্য বেশ কয়েকবার লন্ডন যাত্রা করেছেন। কিন্তু,২০১৭ সালের মে এবং জুলাই মাসে দু’বার লন্ডন যাত্রা করলেও সেই তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে গিয়েছেন তিনি। যা পরবর্তীতে ইডি-র তদন্তে উঠে আসে। অন্যদিকে, মানিক ভট্টাচার্যের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছিল ইডি-র তরফে। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মানিক ভট্টাচার্যের সঙ্গেই জড়িত ছিলেন তাঁর স্ত্রী শতরূপা ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক তথ্য ছিল মানিকের স্ত্রীর কাছেও।

#PrimaryRecruitmentCase 

#ManikBhattacharya 

# CalcuttaHighCourt 

#Latestbengalinews 

About Post Author