সময় কলকাতা ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর: আরজিকর আবহে পিছিয়ে গেল নবান্নের মেগা বৈঠক। আজ, ১২ তারিখ নবান্নে সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং ডিরেক্টরদের নিয়ে বৈঠক করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। ওই বৈঠকে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, কমিশনারেটের সিপি, এমএসভিপি, সিএমওএইচদের-ও উপস্থিত থাকার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই বৈঠক ১২ তারিখ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১২ তারিখের বদলে বৈঠক হবে সামনের সপ্তাহে। বর্তমান মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালগুলিতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেই কারণেই এই বৈঠক পিছনো হল।
প্রসঙ্গত, আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। উত্তপ্ত রাজ্যের চিকিৎসক মহল। দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। ক্রমশ বড় হচ্ছে প্রতিবাদের বহর। দেড় দিন পার, এখনও স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ধর্নায় জুনিয়র ডাক্তারেরা। পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার রাত থেকেই কর্মবিরতিতে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকেরা। বেহাল দশা মেডিক্যাল কলেজগুলির আউটডোরেরও। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার নবান্নে বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বুধবার ফের নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বৈঠক পিছনোর কথা জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার আরজিকর মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার মধ্যে জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে যোগ দিতে হবে। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীও চিকিৎসকদের কাজে ফেরার আর্জি জানান। রাজ্যের তরফে একাধিকবার জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। এরপরই শীর্ষ আদালতের নির্দেশকে অমান্য করে মঙ্গলবার পাঁচ দফা দাবিতে ফের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে নামে জুনিয়র ডাক্তারেরা। পাঁচ দফা দাবির পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষ অধিকর্তা-র ইস্তফা চেয়ে এদিন করুণাময়ী থেকে স্বাস্থ্য ভবন পর্যন্ত অভিযানের চালান তাঁরা। সোমবারই সাংবাদিক বৈঠকে জুনিয়র চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নতুন করে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা, স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির পদত্যাগ চেয়েছেন তাঁরা। এসব দাবি পূরণ না হলে তাঁরা কাজে ফেরার কথা ভাববেন না।

আরজিকরের জুনিয়র ডাক্তারেরা যে পাঁচ দফা দাবির কথা তুলেছেন, সেগুলি হল— প্রথমত, আরজিকর কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সমস্ত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করা, অপরাধের উদ্দেশ্য সামনে আনা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। দ্বিতীয়ত, তথ্যপ্রমাণ লোপাটের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে ‘ব্যর্থ প্রমাণিত’ কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েলের ইস্তফা। চতুর্থত, রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। পঞ্চমত, রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়া এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করা।
#RGKarProtest
#RGkarHospital
#RGKARDoctorDeath
#Latestbengalinews
#ChiefJusticeDYChandrachud
#SupremeCourt


More Stories
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
আরজিকরের তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, নেপথ্যে কোন রহস্য ?
নাটকীয় দৃশ্য। সেনার ট্রাক আটকাল কলকাতা পুলিশ !