সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ সেপ্টেম্বরঃ আরজিকর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। উত্তপ্ত রাজ্যের চিকিৎসক মহল। দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। ক্রমশ বড় হচ্ছে প্রতিবাদের বহর। আরজিকরে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর পেরিয়ে গিয়েছে ৩৯ দিন। কিন্তু, বিচারের দাবিতে কর্মবিরতিতে অনড় জুনিয়র চিকিৎসকেরা। আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দাবি পূরণ না করা হবে, অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ চলতে থাকবে। এহেন পরিস্থিতিতে ফের জুনিয়র ডাক্তারদের কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে বৈঠকে ডাকল রাজ্য। এদিন বিকাল ৪টে ৪৫ মিনিটের মধ্যে তাঁদের কালীঘাটে পৌঁছে যেতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, গত শনিবার ডাক্তারদের যে প্রতিনিধিরা বৈঠকের জন্য কালীঘাটে গিয়েছিলেন, সোমবারও তাঁদেরকেই আসতে বলা হয়েছে ইমেলে।
আরও পড়ুন Sexual abuse in Kolkata hospita: ফের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ খাস কলকাতার হাসপাতালে
ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের ই-মেল মারফত চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। সরকারের তরফ থেকে এটিই ‘পঞ্চম এবং শেষতম চেষ্টা’ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল পাঁচটায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে আসতে বলা হয়েছে আন্দোলনকারীদের। তবে বৈঠকে জুনিয়র চিকিৎসকরা যোগ দেবেন কিনা, সে বিষয়ে এখনও অবধি কিছু জানা যায়নি। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানাবেন আন্দোলনকারীরা।

উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার জুনিয়র ডাক্তারদের ধর্নামঞ্চে অর্থাৎ স্বাস্থ্য ভবনে আচমকাই উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি বিবেচনা করার আশ্বাসও দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান মঞ্চে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি আপনাদের আন্দোলনকে সমর্থন করি। কুর্ণিশ জানাই। আমি নিজেও ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা লোক। আমার পোস্টটা বড় কথা নয়। মানুষের পোস্টটাই বড় কথা। আমি আপনাদের দিদি হিসেবে বলতে এসেছি। আপনারা যেভাবে বসে আছেন, তাতে আমার মানসিকভাবে কষ্ট হচ্ছে। ৩৩-৩৪ দিন, আমিও রাতের পর রাত ঘুমোইনি। আপনারা যখন রাস্তায় থাকেন আমাকেও পাহারাদার হিসেবে জেগে থাকতে হয়।’

এরপরই জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘আপনারা কাজে যোগ দিন। আমি আপনাদের দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করবো। কিন্তু, মনে রাখা দরকার আমি একা সরকার চালাই না। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি সকলের সঙ্গে আমি আপনাদের দাবি নিয়ে আলোচনা করব। সিবিআইকে অনুরোধ করব, দ্রুত তদন্ত শেষ করুন। যদি কেউ দোষী হন, শাস্তি পাবেন। দোষীদের ফাঁসি হোক। আপনাদের প্রতি আমি কোনও অবিচার করব না। কাজে ফিরুন। আজ থেকে আমি আরজিকর সহ সব কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দিলাম। শীঘ্রই আমি সব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে অধ্যক্ষদের চেয়ারম্যান করব। যেখানে জুনিয়র ডাক্তার, সিনিয়র ডাক্তার, নার্স ও পুলিশ থাকবে।’
#CMMamataBanerjee
#ChiefSecretaryManojPanth
#SwasthaBhavan
#RGkarHospital
#SandeepGhosh
#RGKARDoctorDeath
#Latestbengalinews
#SupremeCourt


More Stories
গ্রেফতার সুশান্ত ঘোষ
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
আরজিকরের তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, নেপথ্যে কোন রহস্য ?