সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৫ সেপ্টেম্বর: নদীতে কুমির কামট, জঙ্গলে বাঘ – আর এরকম ভৌগোলিক পটভূমিতে বাম শাসনের পতন ঘটিয়েছিলেন তিনি। বসিরহাটের দীর্ঘদিনের বাম আধিপত্যকে খর্ব করে দিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তারপরে বহু বিতর্ক ঘিরে ধরেছিল তাঁকে। দুরারোগ্য ব্যাধি কামড় বসিয়েছিল তাঁর শরীরে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে হাড়োয়ার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। অতঃপর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে জটিল রাজনৈতিক আবর্তে তৃণমূল যখন কোণঠাসা, বিগত লোকসভার নুসরাত জাহানকে নিয়ে দলে যখন প্রবল অস্বস্তি তখন তৃণমূল আরও কোণঠাসা হতে থাকে। উঠে আসে তৃণমূলের সংশ্রবে জমি মাফিয়া রাজের অভিযোগ, উঠে আসে শাজাহান, শিবু তপনদের তৃণমূল সংযোগের কথা। অভিযোগ হিসেবে সামনে উঠে আসে সন্দেশখালির মহিলা নির্যাতনের তথ্য। তখন বসিরহাটের সাংসদ পদে মনোনয়ন কে পাবেন তা নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর এবং দলের দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুশকিল আসান হাজি নরুল ইসলাম অসক্ত শরীরে আবার ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হন। শরীর সঙ্গ দিচ্ছিল না, ভোটের প্রচারে বেরিয়ে মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন তিনি। তবুও বসিরহাটের জাদুকর ছিলেন তিনি, ভোটের ময়দানে হারতে তিনি নামতেন না। বিপক্ষের কোন বাধাই তাঁর কাছে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল বসিরহাট কেন্দ্রে এসে কারণ, বসিরহাট কেন্দ্রের জন্য নরেন্দ্র মোদি আলাদাভাবে নজর দেন ও বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী হিসাবে রেখা পাত্রকে নির্বাচিত করেন। 
আরও পড়ুন: আরজিকর কাণ্ডের তদন্তে সন্দীপ ঘোষ ‘ঘনিষ্ঠ’ চিকিৎসক সুশান্ত রায়কে তলব করল CBI
ভারতের শাসক দল বিজেপি বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের জন্য যেভাবে প্রচার করেছিল তার ছিটেফোঁটা বঙ্গের ৪২ টি কেন্দ্রের অন্য কোন কেন্দ্রে করেনি। বঙ্গের ৪২ টি কেন্দ্রেই প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সন্দেশখালি। অথচ সন্দেশখালি সহ বসিরহাটের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বা বাম, প্রতিটি তৃণমূল-বিরোধী দলই ধরাশায়ী হয় তাঁর কাছে এবং আবার সাংসদ নির্বাচিত হন হাজি নুরুল ইসলাম। ব্যবধান ছিল ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার, যা অভিনেত্রী সাংসদ নুসরাত জাহানের রেকর্ডকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলে। অথচ এবারের ভোটের আগে নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল প্রবল , আরও প্রবল বিদ্বেষ ছিল শাজাহান বাহিনীর বিরুদ্ধে। ভোটে নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই হাজি নুরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন সন্দেশখালির একটি ক্ষুদ্র অঞ্চল ভোটে ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলবে না যেখানে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে সেখানে গিয়ে তিনি মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবেন। প্রয়োজনে নুসরাতকে নিয়ে মানুষের দরজায় দরজায় যাবেন। মাথা নিচু করতে জানতেন তিনি, নত হতে জানতেন তিনি। আর সেজন্যই দেগঙ্গায় গোষ্ঠী সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তার নাম জড়িয়ে পড়লেও তিনি বুক বাজিয়ে বলতে পারতেন আমার নামে কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তিনি সবাইকে নিয়ে চলতে জানতেন, জাতি ধর্মনির্বিশেষে সবার ক্ষতের প্রলেপে মলম লাগিয়ে দিতে জানতেন।
আরও পড়ুন: Mamata Banarjee: বীরভূমে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, হল না মমতা-অনুব্রত সাক্ষাৎ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুশকিল আসান, মানুষের কাছের মানুষ হাজি নুরুল ইসলাম আর নেই। বসিরহাটের সূর্য অস্তাচলে গেল। বসিরহাটে ভোট আবার আসবে, তৃণমূলের বসিরহাটের ভোটের বৈতরণী পারের কান্ডারী হাজি নুরুল আর থাকবেন না। থেকে যাবে তাঁর নাম, থেকে যাবে তাঁকে ছুয়ে থাকা সত্যি মিথ্যের হাজার ইতিহাস। ব্যুরো বিপোর্ট সময় কলকাতা।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ কতটা সম্ভবপর?