Home » বাড়ির বাইরে রাতে সুরক্ষিত নারিরা? বিপদে পড়লে কতটা তৎপর পুলিশ? খতিয়ে দেখতে রাতের শহরে একা ঘুরে বেড়ালেন আইপিএস

বাড়ির বাইরে রাতে সুরক্ষিত নারিরা? বিপদে পড়লে কতটা তৎপর পুলিশ? খতিয়ে দেখতে রাতের শহরে একা ঘুরে বেড়ালেন আইপিএস

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ সেপ্টেম্বর: নারী সুরক্ষার প্রশ্নে দেশ জুড়ে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। বাংলায় ঘটে যাওয়া আরজি করের ঘটনার পর থেকে রাতে একা বাইরে যেতে দু’বার ভাবতে হচ্ছে মহিলাদের! রাতের শহরে তাঁরা কতটা সুরক্ষিত? মহিলারা বিপদে পড়লে পুলিশ তৎক্ষণাৎ কী ব্যবস্থা নেয়? এসব চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করতে নিজে এক জন সাধারণ মহিলা পর্যটক হিসাবে আগ্রার রাস্তায় গোটা রাত ঘুরে বেড়ালেন শহরের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার (এসিপি) সুকন্যা শর্মা। তিনি যে আসলে একজন আইপিএস আধিকারিক ঘুণাক্ষরেও বুঝতে দেননি কাউকে। 

আরও পড়ুন: সন্তান প্রসবের পর মূত্রথলি কেটে ফেলায় মৃত্যু প্রসূতির, ধুন্ধুমার দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে

আগ্রায় তখন মাঝরাত। চারদিক ঢেকে ফেলেছে কালো অন্ধকার। ঠিক তখনই আগ্রা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করেন এসিপি সুকন্যা। তাঁর এই যাত্রা সম্পর্কে কোনও খবর ছিল না খোদ শহরের পুলিশ প্রশাসনের কাছেও। স্টেশনের বাইরে একা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন সুকন্যা। ফোন করেন শহরের পুলিশ কন্ট্রোলরুমে। পুলিশকে তিনি জানান, রাস্তায় তিনি একা দাঁড়িয়ে আছেন এবং কোনও গাড়ি পাচ্ছেন না বাড়ি ফেরার, কার্যত তাঁর খুব ভয় লাগছে। পুলিশের সাহায্য চান তিনি। কন্ট্রোলরুম থেকে এসিপির কাছে তাঁর ‘লাইভ লোকেশন’ জানতে চাওয়া হয়। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই সুকন্যার কাছে একটি ফোন আসে রাস্তায় টহলরত মহিলা পুলিশদলের কাছে থেকে। সুকন্যা যেখানে আছেন তাঁকে সেখানেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানানো হয় মহিলা পুলিশদের ওই দল তাঁকে নিতে আসছে, নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য। এ কথা শোনা মাত্র খুশি হন এসিপি। তিনি কন্ট্রোলরুমকে নিজের পরিচয় দেন। জানান নে তিনি শহরের  অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার সুকন্যা শর্মা, কোনও মহিলা রাতে বিপদে পড়লে পুলিশের সাহায্য সময়মত পাওয়া যায় কি না সেটাই খতিয়ে দেখছিলেন তিনি। যে শহরের মানুষের সুরক্ষার দায়িত্বভার তাঁর কাঁধে সেখানকার পুলিশি তৎপরতা দেখে তিনি খুবই খুশি।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১২, জারি উদ্ধারকাজ

এরপর এসিপি ওই মহিলা পুলিশ দলটিকে আসতে বারণ করেণ ও একটি অটো ধরে বাড়ি যান। যাত্রা পথে অটো চালকের কাছেও তিনি তাঁর পরিচয় গোপন রেখেই শহরে নারী সুরক্ষার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এসিপি সুকন্যার প্রশংসায় মুখরিত হয়েছেন শহরবাসী। 

About Post Author