সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ অক্টোবর: মানুষের অবয়বে কৃত্তিম প্রযুক্তিতে তৈরি যন্ত্রমানুষ হল রোবট। তাঁকে দিয়ে অল্প সময়ে, কম খরচে করিয়ে নেওয়া ইচ্ছেমত কাজ। তবে মানুষের শরীরের গঠন দেওয়া গেলেও মস্তিস্ক বা বুদ্ধি দেওয়া কি সম্ভব! সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষণা শুরু করেছিলেন আমেরিকার জন জে হপফিল্ড এবং কানাডার জিওফ্রে হিন্টন। এবার তাঁদের যুগান্তকারী আবিষ্কার ‘মেশিন লার্নিং’। বাংলায় যার পরিভাষা করলে হয় ‘কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা’। এই আবিষ্কারের জন্যই তাঁরা পাবেন নোবেল পুরস্কার। মঙ্গলবার এমনটাই ঘোষণা করল রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি। জানিয়ে দেওয়া হল, ২০২৪ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারের জন্য যৌথ ভাবে মনোনীত হয়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: গর্ভবতী মায়ের দগ্ধ দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি ষষ্ঠীর দিনেও

তবে প্ৰশ্ন কী এই ‘মেশিন লার্নিং’?
সহজ ভাষায় বললে, মেশিন লার্নিং মানে, একটি শিশু যেমন জন্মের পর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে ভাষা, অঙ্গভঙ্গি, প্রতিক্রিয়া দেওয়া শেখে, সে ভাবেই শেখে যন্ত্রও। শৈশব থেকে বার বার একই জিনিস দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতেই মানুষ সেটা আয়ত্ত করে নেয়। যেমন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া শিশুকে আলাদাভাবে ইংরেজি বলা শিখতে হয় না। তেমনই নানা তথ্য বা ডেটা বার বার দেখিয়ে যন্ত্রকেও ‘শেখানো’ হয়। একই ধাঁচের ডেটাগুলি বার বার দেখতে দেখতেই যন্ত্র সেগুলি আত্মস্থ করে নেয়। পরে অজানা ডেটার ক্ষেত্রেও যন্ত্র কাজে লাগাতে পারে সেই লব্ধ জ্ঞান। সেই যন্ত্রকে ‘শেখাতেই’ কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কের ব্যবহার। যন্ত্রকে শেখানোর নানা পদ্ধতি বা অ্যালগোরিদমের একটি হল কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক। মানবমস্তিষ্কে নিউরোন জুড়ে জুড়ে যেমন স্নায়ুতন্ত্র তৈরি হয়, সেই ধাঁচেই একাধিক কৃত্রিম নিউরাল ‘নোড’ জুড়ে জুড়ে তৈরি হয় এই কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ মানুষের যেটা স্নায়ু বা নার্ভ যন্ত্রের ক্ষেত্রে সেটা নেটওয়ার্ক।
হিন্টন আগে গুগ্লে কাজ করতেন। ২০২৩ সালে চাকরি ছেড়ে গবেষণায় মন দেন। আপাতত তিনি টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। আর হপফিল্ড আমেরিকার প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। এবছর এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাঁরা নোবেল ছাড়াও পাবেন পাবেন একটি সনদপত্র এবং মোট ১১ বিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য আট কোটি ৯০ লক্ষ টাকারও বেশি। তবে এআই এর যুগে ‘মেশিন লার্নিং’ -এর আবিষ্কারে একদিকে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন উভয় বিজ্ঞানী। অন্যদিকে বিজ্ঞানমহলে ইতিমধ্যেই নেতিবাচক ধারণারও শিকারও হয়েছেন তাঁরা। অনেকের মতে তাঁদের এই আবিষ্কার যেমন বিশ্বের মঙ্গল করবে বলেই বিশ্বাস করা হচ্ছে। অপরদিকে ভুল হাতে পড়লে, এই আবিষ্কার গোটা গ্রহের জন্য অভিশাপও হয়ে উঠতে পারে।


More Stories
শতাধিক মহাকাশ বিজ্ঞানীর ইস্তফায় নতুন নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রীয় সরকারের
ভূত আছে, ভূত নেই! দিন-দুপুরে স্কুলে ভূতের ভয়
নাবালক ছাত্রের সঙ্গে যৌ*ন মিলন , গ্রেফতার হাইস্কুল শিক্ষিকা