সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ অক্টোবর: ঢাকে পড়েছে কাঠি, ঘন্টা-উলুধ্বনিতে মুখরিত চারিদিক। মহালয়া থেকে ঠাকুর দেখা শুরু করে দিয়েছেন অনেকে। তবে শাস্ত্রমতে দুর্গাপুজো শুরু কিন্তু আজ থেকেই । আজ, বুধবার ষষ্ঠী, দেবীর বোধনের দিন । পূরণের লেখা কাহিনী অনুযায়ী ষষ্ঠীর এই পূর্ণ তিথিতে নাকি দেবীর দুর্গাকে বোধন করে পুজো শুরু করেছিলেন রামচন্দ্র। সেই থেকেই চলে আসছে ষষ্ঠীতে মাটির প্রতিমায় মন্ত্রচ্ছারনের মাধ্যমে প্রাণ প্রতিষ্ঠার রীতি ।

আরও পড়ুন: Durga Puja: পুজো শুরু ষষ্ঠী থেকে, তবে বিশেষ কেন পঞ্চমী?
গতকাল অর্থ্যাৎ পঞ্চমীর দিন সন্ধ্যায় দেবীর আগমনী মন্ত্র অণুরণিত হয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই মন্ত্রের মাধ্যমেই দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হয়। এরপরেই কাকভোরে শুরু হয়ে যায় ষষ্ঠীর পুজো। শাস্ত্র বলে ষষ্ঠীতে দেবী তাঁর স্বামী মহাদেবের থেকে অনুমতি নিয়ে চার সন্তান(লক্ষী,স্বরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ) -কে নিয়ে মর্ত্যে অবতীর্ণ হন। তবে পরিবার ছেড়ে থাকতে না পারায় দেবাদীদেব মহাদেবও স্ত্রীর পিছু নিয়ে পৌঁছে যান মর্ত্যে। তাই মন্ডপে দেবীর মূর্তির পিছনে মহাদেবের ছবি রাখা বাঞ্চনীয়।
ষষ্ঠীর উপাচার গুলি কী?
এই ষষ্ঠী থেকে শুরু হয় পুজোর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান । সবার প্রথমে যে আচার পালন করা হয়, তা হল দেবীর বোধন। এই বোধন শব্দের অর্থ হল জাগ্রত করা । অর্থ্যাৎ বোধনের মাধ্যমেই মাটির প্রতিমায় দেবীকে জাগ্রত করে তোলা হয়। দুর্গার বোধন এ দিন কল্পারম্ভ দিয়ে শুরু হয়। দশভূজার সামনে তার পর প্রার্থনা করা হয় যে, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত গোটা পূজা পর্বে যেন কোনও বিঘ্ন না ঘটে। এর পর জলে পূর্ণ একটি তামার পাত্র মণ্ডপের কোণে স্থাপন করা হয়। এই স্থানেই দুর্গা ও চণ্ডীর পুজো করা হয়। এর পর শুরু হয় অধিবাস, আমন্ত্রণের পর্ব। বোধনের পর বিল্ব শাখার দেবীকে আহ্বান জানানো হয়। অশুভ শক্তি দূরের জন্য ঘটের চারপাশে তীরকাঠিতে সুতো জড়িয়ে আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া শুর হয়। এরই সঙ্গে মন্ডপের কোনের দিকে একটি বেল গাছ রেখে তার গোড়াতেও পুজো করা হয়। এ ভাবেই শেষ হয় মহাষষ্ঠীর আচার। বিশ্বাস করা হয় তীরকাঠির চারিদিকে জড়ানো এই সুতো না কাটা পর্যন্ত দেবী দুর্গা মন্ডপ ছেড়ে যান না।
অকাল বোধন কেন বলা হয় শরৎকালের দুর্গা পুজাকে?
শরৎকালে সাধারণ সূর্যের দক্ষিণায়ন চলে। পুরাণমতে দক্ষিণায়নের সময় দেবতারা গভীর নিদ্রার থাকেন। এই সময় দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করার আদর্শ সময় নয়। তবে ত্রেতা যুগে শ্রী রামচন্দ্র অকালে দেবীর বোধন অর্থাৎ দেবীকে জাগ্রত করে তুলেছিল। শ্রী রামচন্দ্রের সেই পুজোই আজ কলিযুগের দুর্গা পুজো রুপে পালিত হয়। তাই শরৎকালের এই পুজোকে বলা হয় অকাল বোধন।


More Stories
দুর্গা-অঙ্গনের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী, মন্দির তৈরির দায়িত্ব কাদের?
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
আরজিকরের তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, নেপথ্যে কোন রহস্য ?