সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৫ অক্টোবর: দুপুর গড়ালেই রেড রোড দুর্গা পুজোর গ্র্যান্ড কার্নিভাল। মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজ সজ্জায় সেজে উঠেছে রেড রোড। উঁচু মঞ্চ। বিশিষ্ট জনেদের জন্য আসন, রঙিন কাপড়, ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে কার্নিভালের জায়গা। তবে পুজোর কার্নিভালের বিকালেই রানি রাসমণি রোডে বেরোবে অপর একটি কার্নিভাল, জুনিয়র চিকিৎসকদের ‘দ্রোহের কার্নিভাল’। আরজি করে নির্যাতিতার বিচার চেয়ে প্রতিকী ‘দ্রোহের কার্নিভালে’ বিকেল চারটে থেকেই শুরু হবে জমায়েত। ‘জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টর্স’-এর উদ্যোগে এই কারভালে নেই পুলিশের অনুমতি। গতকাল মুখ্য সচিবও এই কার্নিভাল করতে নিষেধ করে দিয়েছেন। এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে রেড রোড, ও রানী রাসমণি রোড যে বিন্দুতে মিলিত হয় সেখানে দুই কার্নিভাল মুখোমুখী হলে তৈরি হতে পারে বচসা। এমতবস্থায় কোনও প্রকার উৎশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ১৬৩ (আগের ১৪৪ সমতুল্য) ধারা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যভবনে হাজির আট সংগঠনের চিকিৎসক প্রতিনিধি, মনোজ পন্থের সঙ্গে বৈঠকে সুরাহা মিলবে?
দুর্গাপুজো শুরুর আগেই কার্নিভালের তারিখ ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। কার্যত, ১৫ অক্টোবর রেড রোড রমরমা থাকবে এটা জানাই ছিল। এই অবস্থায় গত রবিবার রাতে ধর্মতলার অনশন মঞ্চ থেকেই মঙ্গলবার ‘দ্রোহের কার্নিভাল’ করার কথা জানিয়ে দেন জুনিয়র ডাক্তারদের মুখ দেবাশীষ হালদার। ইতিমধ্যে সেই কর্মসূচি না করতে তাঁদের অনুরোধ করেছেন স্বয়ং মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ এবং কলকাতা পুলিশ। উত্তরে জুনিয়র চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন একমাত্র একটি শর্তেই তাঁরা এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন, যদি স্বাস্থ্য সচিন নারায়ণস্বরূপ নিগমকে অপসারণ করা হয়। তাঁদের সেই শর্তে সরকার সম্মতি না দেওয়ায় ‘দ্রোহের কার্নিভালের’ কর্মসূচিতে অনড় জুনিয়র ডাক্তাররা।
আরও পড়ুন: কোন সময় করবেন লক্ষ্মী পুজো ? কখন পড়েছে পুজোর লগ্ন ?
অন্যদিকে দ্রোহের কার্নিভালের কারণে যাতে পুজো কার্নিভালের মঞ্চে কোনও রকম উৎশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রেখেছেন কলকাতার সিপি মনোজ বর্মা। এই মর্মে গতকাল রাতেই কমিশনার স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যে নির্দেশিকায় রানি রাসমণি ছাড়াও ওয়াই চ্যানেল, নিউ রোড, মেয়ো রোড, আউট্রাম রোড, অ্যাকাডেমী অব ফাইন আর্টসের সামনে, জহরলাল নেহেরু রোড, কুইন্স ওয়ে ও স্ট্রান্ড রোড চত্বরে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। যে ধারা অনুযায়ী ওই সমস্ত এলাকায় একসঙ্গে চার জনের বেশি কেউ জড়ো হতে পারবেন না। লাঠি বা কোনও অস্ত্র নিয়েও ঘোরা যাবে না। পাশাপাশি কোনও ধরনের মিছিল, সভা, ধর্না, জমায়েত বা বিক্ষোভও প্রদর্শন করাও যাবে না। ইতিমধ্যে সকাল গড়াতেই ক্রমে কড়া হচ্ছে রেড রোডে নিরাপত্তা। মনে করা হচ্ছে বিকেলের আগেই পুলিশি ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল।


More Stories
অভিষেকের অফিসে ভাঙচুর
যাদবপুর নিয়ে মুখ খোলায় সংবাদপত্রের কার্যালয় ঘেরাও
নির্মল ঘোষকে নিগ্রহ -কাদা,ডিম ও জুতোর মালা