সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ অক্টোবরঃ হাতে আর মাত্র দু’দিন। তারপর বাংলার অন্যতম সেরা উৎসব কালীপুজো। শেষবেলায় জোরকদমে চলছে পাড়ায় পাড়ায় পুজোপ্রস্তুতি। এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হল আলো ও আতস-বাজি। প্রতিবছর শহর কলকাতার নানা প্রান্তে বসে বৈধ বাজির বাজার। তারমধ্যে অন্যতম বিখ্যাত বাজিবাজার হল ময়দানের শহিদ মিনার সংলগ্ন এলাকায়। মঙ্গলবার ওই এলাকা পরিদর্শনে গেলেন কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মা । সেখান থেকে রাজ্যবাসীকে পরিবেশ বান্ধব বাজি ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন তিনি।

কালীপুজোর প্রাক্কালে বাজিবাজার নিয়ে সতর্ক কলকাতা পুলিশ। বেআইনী বাজি বাজেয়াপ্ত করার কাজ চলছে জোরকদমে। একইসঙ্গে চলছে বৈধ বাজি বাজারের পর্যবেক্ষণ। ২৬ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বসবে বাজির বাজার। আগেই নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়েছিলেন কলকাতার নগরপাল মনোজ বর্মা। পাশাপাশি ২১ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত স্টল তৈরির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে মাঝে ঘূর্ণিঝড় দানার দাপটে সেই কাজে কিছুটা ব্যহত হয়। শুধু তাই নয়, পুলিশের প্রাথমিক নির্দেশই না মানায় অনেক জায়গায় স্টলের ছাউনি খোলানো হয়েছে। কোথাও কোথাও আবার বৈদ্যুতিক সুরক্ষা মানার চেষ্টাই করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে উদ্বোধনের দিন পেরিয়ে গেলেও কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে হওয়া বৈধ বাজিবাজার সঠিক সময়ে শুরু করা যায়নি। যার ফলে চোরাগোপ্তা নিষিদ্ধ বাজি বিক্রির আশঙ্কা বেড়েছে। তবে সব প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে অবশেষে শুরু হল বৈধ বাজি বাজার। প্রতিবারের মতো এবারও কলকাতায় বৈধ বাজি বাজার বসছে কালিকাপুর, টালা, বেহালা এবং ময়দানের শহিদ মিনারের ময়দানে। মঙ্গলবার শহিদ মিনারের ময়দানের এই বাজির বাজার পরিদর্শনে গেলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা । পরিবেশবান্ধব বাজি ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন কলকাতার নগরপাল।
বাজির শব্দমাত্রাও আগের থেকে বাড়িয়ে ৯০ ডেসিবেলের পরিবর্তে ১২৫ ডেসিবেল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতি বারের তুলনায় এ বার বাজির বিপদ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট কালীপুজোর দিন রাতে ৮টা থেকে ১০টা—শুধু এই দু’ঘণ্টাই বাজি ফাটানোয় ছাড়পত্র দিয়েছে। কিন্তু সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে সন্ধ্যা থেকেই বাজি ফাটানো শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। পাশাপাশি চলছে নিষিদ্ধ বাজির বিক্রির রমরমাও। কলকাতা পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। কোনও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন কলকাতার নগরপাল।
আরও পড়ুনঃ Artificial intelligence: কৃষির ভবিষ্যৎ পাল্টে দেবে এআই, এল যুগান্তকারী আবিষ্কার
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় এবং অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা থাকায় বড়বাজারে কোনও জায়গা থেকেই বাজি বিক্রি করা যাবে না। পুলিশি নজরদারিতে বাজি বিক্রি হবে শুধুমাত্র টালা, কালিকাপুর, বেহালা এবং ময়দানের শহিদ মিনার বাজি বাজারে। এ দিন নকল বাজি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সারা বাংলা আতশ বাজি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান। এই বাজার থেকে মানুষ ন্যায্য মূল্যে বাজি কিনে নিয়ে অন্যত্র ব্যবসা করেন এবং বাড়িতে নিয়ে যায়। কালীপুজো ও দীপাবলি উপলক্ষে কলকাতার ময়দানে গ্রীন আতশবাজীর বিক্রি বাড়বে, এই আশায় বুক বেঁধেছেন আতশবাজির কারবারিরা।


More Stories
অহংকার মমতার পতনের কারণ বললেন জগন্নাথ দয়িতাপতি
প্রসেনজিতের বাড়িতে অমিত শাহ
বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজপথে মমতা