Home » Kali Pujo 2024: কালীপুজোয় মাটির প্রদীপ জ্বালানোর রীতি সর্বজনীন, তবে কেন প্রচলিত এই প্রথা? জেনে নিন …

Kali Pujo 2024: কালীপুজোয় মাটির প্রদীপ জ্বালানোর রীতি সর্বজনীন, তবে কেন প্রচলিত এই প্রথা? জেনে নিন …

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ অক্টোবর: দুর্গাপুজো শেষ হতে না হতেই এসে পড়েছে কালীপুজো। হাতে আর একদিন। তারপরই বৃহস্পতিবার মা ফের ভক্তদের ডাকে অবতীর্ণ হবেন কালী রূপে। মা কালীর আগমনে পালিত আলোর উৎসব দীপাবলি। হিন্দু ধর্মে এই পুজোকে কেন্দ্র করে পালিত হয় আরও কিছু আচার। কালীপুজোর আগে ধুমধাম করে হয়, ধনতেরস, ভূত চতুর্দশী। পুজোর দিন অনেক ধনলক্ষীর পুজো করারও চলন আছে অনেক অঞ্চলে। শাস্ত্র অনুযায়ী পুজো মাত্র দু’দিন হলেও বাঙালিরা ভাইফোঁটা পর্যন্ত টানা উৎসবের আবহে মেতে থাকেন। বাড়ির আনাচ কানাচ সেজে ওঠে রংবেরঙের আলোয়। তবে পুজো শুরুর ঠিক দু’দিন আগে ঘরে ঘরে রয়েছে প্রদীপ জ্বালানোর রীতি। বর্তমানে প্লাষ্টিক বা ধাতুর প্রদীপ ব্যবহার হলেও আজও সিংহভাগ মানুষ সাবেকি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়েই পালন করেন এই রীতি। এবছর তিথি অনুযায়ী কাল, বুধবার পড়েছে সেই প্রদীপ জ্বালানোর দিন। তবে কেন জ্বালানো হয় এই মাটির প্রদীপ জানেন? কেন কালীপুজোর দিন হয় চলন আছে ধনলক্ষীর পুজোর? জেনে নিন প্রচলিত সব ব্যাখ্যা…

আরও পড়ুনঃ গা ছমছমে সৌন্দর্য নিয়ে বিরাজমান ৫১ পীঠের অন্যতম ভ্রামরী দেবীর মন্দির

কালীপুজোর আগে কেন জ্বালানো হয় মাটির প্রদীপ?

হিন্দু মতে, আলো হল পবিত্রতার প্রতীক। মানুষের জীবনের সমস্ত অন্ধকার ও অশুভ শক্তিকে নাশ করতে একগুচ্ছ প্রদীপের সমাহারই হল এই আলোর উত্‍সবের গুরুত্ব। মোট পাঁচ দিন ধরে চলা এই উত্‍সবে ভূত চতুর্দশী, ধনতেরস, শ্যামাপুজো, ধনলক্ষ্মীপুজো– সব ক’টি দিনের নেপথ্যেই রয়েছে পৌরাণিক কাহিনি। আর তাতেই বলা রয়েছে মাটির প্রদীপ জ্বালানো বা আতসবাজি পোড়ানোর প্রথা কী করে তৈরি হল।

হিন্দু শাস্ত্র মতে, মহালয়ায় দেবিপক্ষের শুরুর দিন যে পিতৃপুরুষরা মর্ত্যে এসেছিলেন, তাঁরা দীপাবলির সময়ে ফিরে যান। তাঁদের পথ প্রদর্শন করতে বা প্রস্থানের পথ আলোকিত করতে প্রদীপ , ফানুস বা আসতবাজি সহযোগে দিনগুলি উৎযাপন করা হয়।

দীপাবলিতে দীপ জনলানোর নেপথ্যে ব্যাখ্যা হিসেবে আরও এক কাহিনি সবচেয়ে প্রচলিত, তা হল– ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্র রাবণ-বধ করে চোদ্দো বছরের বনবাস শেষে ফিরে আসেন, সে দিন অযোধ্যার প্রতিটি বাড়িতে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল। যুবরাজের আগমনের আনন্দে আতসবাজি পুড়িয়েছিলেন প্রজারা। সেই থেকেই সনাতন ধর্মমতে দীপাবলির রাতে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ও আতসবাজি পুড়িয়ে উত্‍সব পালন করার রীতি অব্যাহত।

পুরাণে বলে, কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশীতে ভয়ঙ্কর নরকাসুরকে বধ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই জয়ের আনন্দে দীপান্বিতা অমাবস্যায় শ্রীকৃষ্ণের ভক্তরা মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ও শব্দবাজি ফাটিয়ে উৎসব পালন করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ দীপাবলির ছুটির ভিড়, বান্দ্রা স্টেশনে পদদলিত অন্তত ৯ রেলযাত্রী

দীপাবলির দিন কেন হয় লক্ষীপুজো?

দীপাবলির দিনে লক্ষ্মীপুজো হয় ঘরে ঘরে। পুরাণ অনুসারে, এদিন ক্ষীরসাগরে সমুদ্রমন্থনের সময়ে লক্ষ্মীর আবির্ভাব ঘটেছিল। কার্তিক অমাবস্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে অলক্ষ্মীকে বিদায় জানিয়ে লক্ষ্মীর আবাহন করতে দীপাবলি উত্‍সব পালন করা হয়। কিছু গ্রন্থে এমন ব্যাখ্যাও আছে, এই দিনে লক্ষ্মীকে বলিরাজার বন্দিশালা থেকে উদ্ধার করেছিলেন তাঁর স্বামী বিষ্ণু(নারায়ণ)। সেই আনন্দে তাই মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে উত্‍সব পালন করা হয়ে থাকে।

About Post Author