সঞ্জিতা মজুমদার, পুরন্দর চক্রবর্তী ও সুজয় ভট্টাচার্য, সময় কলকাতা : কার্তিক পুজোর সাতকাহন
কার্তিক পুজোর নাম উঠলেই কাটোয়ার নাম ঠোঁটে এসে যেতে বাধ্য। কার্তিক পুজো আর কাটোয়া যেন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। কাটোয়ায় এবারও মহা ধুমধামে পালিত হচ্ছে কার্তিক পুজো।কালীপুজোর জন্য যেমন বারাসাত বা জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য চন্দননগর সেরকম একই উন্মাদনা নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহর কার্তিক পুজোর জন্য বিখ্যাত। কার্তিক পুজোর সাতকাহন করতে হলে ছুঁতে হবে কার্তিক পুজোর আদি ইতিহাস।
ঘরে ঘরে কার্তিক পুজো হলেও বারোয়ারি পুজোর চল কার্তিক পুজোকে ঘিরে সে অর্থে নেই যা কাটোয়া জুড়ে রয়েছে।প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় হেমন্তকালে কার্তিক পূজার প্রচলন হয়ে আসছে। হেমন্তকালে পূজিত কার্তিক বঙ্গে পুজিত হয়ে এসেছেন কৃষি সভ্যতার ও উর্বরতার দেবতা রূপে । কাটোয়ায় দীর্ঘদিনের রেওয়াজ বারোয়ারি কার্তিক পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আখ্যান আর ইতিহাস।

কাটোয়ার কার্তিক পুজো যা খোকা কার্তিকের পুজো তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে ইতিহাস তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থনীতি ব্যবসা ও আদিম পেশা।ব্যবসার জন্য আদিতে অজয় নদ ও ভাগীরথী নদীর তীরবর্তী কাটোয়ার গুরুত্ব বাড়তে থাকে। জনপদ তৈরি, ব্যবসা বৃদ্ধি এবং জঙ্গে বর্গী আক্রমণের ফলস্বরূপ কাটোয়ায় রক্ষিতার সংখ্যা বাড়ে। খড়ের বাজার,নিচু বাজার প্রভৃতি এলাকায় রক্ষিতা রাখতে শুরু করেন বাবুরা। রক্ষিতা ও গণিকারা একটা অবলম্বন খুঁজতে বাবুদের কাছে সন্তানলাভের আর্জি রাখত। সেসময় সমাজে গণিকাদের সন্তানদের কোনও স্বীকৃতি ছিল না, তাই সেসময় গণিকাপল্লিতে কার্তিক পুজোর প্রচলন করেছিলেন। কার্তিককে পুরাণে প্রজননের দেবতা হিসেবেই কল্পনা করা হয়। আর এভাবেই গণিকাপল্লী থেকেই খোকা কার্তিকের পুজো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কৃষি প্রাধান্য অঞ্চলের দেবতা যাকে নবান্নেও প্রধান দেবতা বলে মানা হত, তিনি হয়ে ওঠেন বংশবৃদ্ধির কামনা সফল করার দেবতা, গণিকা ও রক্ষিতাদের কারণে যে দেবতার পুজো প্রসার লাভ করে।আর কাটোয়া হয়ে ওঠে প্রধান পীঠস্থান। ১৪৩১ বঙ্গাব্দেও পুরনো ঐতিহ্যের ঘাটতি নেই বিন্দুমাত্র।।
আরও পড়ুন উলটপুরাণ : আপ ও বিজেপির নেতাদের দল পাল্টাপাল্টি


More Stories
‘দিল্লি কা লাড্ডু’ খেয়ে গাছের মগডালে : আহমেদ আনসারীর আশ্চর্য কাহিনী
আসছে ভুতু আয়া ভাগো
ট্রেন্ডিং ছবি! টাইম মেশিনে চেপে গন্তব্য আটের দশকে