Home » রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যু রহস্য : কেন, কীভাবে মৃত্যু?

রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যু রহস্য : কেন, কীভাবে মৃত্যু?

পুরন্দর চক্রবর্তী, ২১ নভেম্বর, সময় কলকাতা :  রবার্ট ক্লাইভ যত না বিতর্কিত, তাঁর মৃত্যুও কম বিতর্ক জন্ম দেয় নি। একটি নিবন্ধে স্যামুয়েল জনসন লিখেছিলেন যে, রবার্ট ক্লাইভ “এমন অপরাধ করে নিজেই তাঁর ভাগ্য ডেকে এনেছিলেন যে সেগুলির সম্পর্কে তাঁর চেতনা তাঁকে নিজের গলা কেটে ফেলতে প্ররোচিত করেছিল।”  রবার্ট ক্লাইভের পরিণাম নিয়ে এরচেয়ে বড় উক্তি আর সম্ভবত কেউ এভাবে করেন নি,লিখেও যান নি – এ যেন ছিল অনেকের মনের কথা। আদতে কী হয়েছিল ক্লাইভের?

” বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শর্বরী রাজদণ্ডরূপে “- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে ব্রিটিশরা বঙ্গে রাজদণ্ড হাতে তুলে নেওয়ার সাহস দেখানোর সুযোগ পেয়েছিল প্রধানত যার সৌজন্যে তিনি ছিলেন
রবার্ট ক্লাইভ।  বঙ্গের তথা ভারতের ইতিহাসে ইংরেজ শাসনের সুচনাকারী অধ্যায়ের অন্যতম প্রধান একটি নাম রবার্ট ক্লাইভ । একটি যুগের পতন ও স্বাভাবিকভাবেই অন্য যুগের সূচনাকালে ১৭৫৭ সাল, পলাশীর প্রান্তর, সিরাজ, মীরজাফরদের, ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভৃতি সন–তারিখ-স্থান-ইতিহাসপ্রসিদ্ধ নামের সঙ্গে একই সূত্রে অবধারিতভাবে জড়িয়ে আছেন রবার্ট ক্লাইভ। বলাবাহুল্য,তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারতের কমান্ডার ইন চিফ।

  তথাপি রবার্ট ক্লাইভ স্রেফ একটি নাম নয়, বহুলচর্চিত একটি আখ্যানের জনক,  যে আখ্যানের পরতে পরতে ক্রুরতা এবং বিশ্বাসঘাতকতা জড়িয়ে আছে । বঙ্গে নবাবি শাসনের পতন এবং ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত তাঁর হাত ধরেই। তাঁরই কিনা অমন আশ্চর্যজনক ভাবে মৃত্যু হল। ১৭৭৪ সালের ২২ নভেম্বর, আজ থেকে ঠিক ২৫০ বছর আগে, ক্লাইভ ইংল্যান্ডে তাঁর বার্কলে স্কোয়ারের বাড়িতে ৪৯ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যু ছিল ভয়ঙ্কর এবং অস্বাভাবিক। মৃত্যুর সময় তাঁর গলা ছিল কাটা, হাতে ছিল সামান্য একটি কাগজকাটা ছুরি। তাঁর হাতে থাকা ছুরি থেকে তাঁর গলা কেটে তার মৃত্যু হয়েছে এমনটাই বলা হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর কারণ বা পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সেসময় কোন তদন্ত করা হয়নি, স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। সমসাময়িক সংবাদপত্রগুলি তার মৃত্যু মৃগীজনিত সংজ্ঞাহীনতা বা স্ট্রোকের কারণে হয়েছিল বলেই উল্লেখ করেছিল। বিংশ শতকে তাঁর জীবনীকার জন ওয়াটনি উপসংহারে এসেছিলেন: “তিনি কোনও স্ব-প্ররোচিত ক্ষত থেকে মারা যাননি … ওষুধের অত্যধিক মাত্রায় তিনি একটি ভোঁতা কাগজের ছুরি দিয়ে গলার ধমনী ছিন্ন করার ফলেই মারা যান। ” আর এখানেই
ক্লাইভের মৃত্যু তাঁর শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা বিষণ্ণতার ইতিহাস এবং আফিম আসক্তির সঙ্গে মিশে গিয়েছে ,  সম্ভবত তাৎক্ষণিক উদ্দীপনা ছিল অসুস্থতার ফলে তীব্র ব্যথা (তিনি পিত্তথলিতে ভুগছিলেন বলে পরিচিত) যা তিনি আফিম দিয়ে কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন। ইতিহাস-আশ্রয়ী রচনাকার উইলিয়াম ডালরিম্পলের মতে, ক্লাইভ ছোটবেলা থেকেই তীব্র বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং যৌবনে দুবার আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ভারতীয় শাসনামলে বিষণ্ণতা বেড়েছে বই কমে নি। ইতিহাসে তিনি চর্চিত থেকে গিয়েছেন, ভারতীয়দের চোখে খলনায়ক যিনি রাষ্ট্রনায়কের সমমর্যাদা পেয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুও এসেছিল ভয়াবহ রূপ নিয়ে, হয়তো স্যামুয়েল জনসনই ঠিক অথবা অনেকটাই ঠিক। মৃত্যু দীর্ঘ কার্যকারণের ফলশ্রুতি মাত্র ।।

রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যু রহস্য #রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যু রহস্য

About Post Author