সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ ডিসেম্বর: হামাগুড়ি দিয়ে চোখে আড়াল হলেই এদিক থেকে ওদিকে পালাতে শিশুরা প্রস্তুত। আর সেই ফাঁকেই ঘটে গেল হার হিম করা দুর্ঘটনা। মা ব্যস্ত ছিলেন রান্নাঘরে। রাতে রুটি দিয়ে খাবেন বলে ঘুগনি রান্না করছিলেন। রান্না শেষও হয়ে গিয়েছিল। উনানের তীব্র আঁচ থেকে সবেমাত্র নামিয়ে রাখা ঘুগনি তখনও ফুটছিল। তাতে মশলা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেই মশলা নিতে উঠেছিলেন মা। ব্যাস, নির্বোধ জানত না সে কী ছুঁতে যাচ্ছে। মা চোখের আড়াল করতেই ঘটে গেল সর্বনাশ। ছেলে পিছন থেকে চলে এসেছিল উনুনের কাছে। সেখানে ফুটন্ত ঘুগনির কড়াইয়ে পড়ে গিয়ে ঝলসে গেল খুদের গোটা দেহ। অসহায় মায়ের সামনেই কাতরাতে থাকে দেড় বছরের সন্তান একসামের চামড়া গুটিয়ে যাওয়া শরীর। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষমেশ মৃত্যু হয় শিশুর।

আরও পড়ুনঃ “ইউনুসের সম্মান কেড়ে নিন”, নোবেল কমিটিকে চিঠি বিজেপি সাংসদের
পুলিশ সূত্রে খবর, আকসামের বাড়ি বীরভূম জেলার ধনঞ্জয়পুরে। যে সময় দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল, সে সময়ে বাড়িতে আকসাম ও তার মা মানুয়ারা বেগম ছিলেন। মা ছেলেকে সামলে রান্না করছিলেন। ছেলে ঘরে খেলা করছিল। সেই ফাঁকে রাতের খাবার রান্না করছিলেন আকসামের মা। ঘুগনি রান্না করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ শীতের সকালে কফিতে চুমুক আহা! রোজ খেলে কি ক্ষতি হয় জানা আছে?
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মানুয়ারা উনুন থেকে ঘুগনির কড়াইটি পাশে নামিয়ে ঘরের ভিতরে মসলা আনতে গিয়েছিলেন। সে সময়েই কড়াইয়ে পড়ে যায় আকসাম। মানুয়ারা বেগম আকসামকে উদ্ধার করে স্থানীয় মুরারই হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থায় অবনতি হওয়ায় বীরভূম রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে রামপুরহাট থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মৃত্যু হয় ছোট্ট আকসামের। দেহটি ময়নাতনদের জন্য পাঠানো হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের মর্গে। সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন আকসামের গোটা পরিবার।


More Stories
রোহিঙ্গা ঠেকানো লক্ষ্য বিজেপির, বললেন খাদ্যমন্ত্রী
পুলিশের জালে তৃণমূল নেত্রী, তোলা হল বারাসাত আদালতে
নিজের স্ত্রীকে আবার বিয়ে করছেন খগেশ্বর রায়