সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ ডিসেম্বরঃ নিজের বক্তব্যের জন্য ফের বিতর্কে জড়ালেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। একটি অনুষ্ঠানে দেশের সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুদের শতাংশের হিসেব তুলে ধরেন তিনি। তারপর তাঁকে বলতে শোনা যায়, আগামী দিনে আর সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগুরু হবেন। তাঁর মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। ইতিমধ্যে ফিরহাদ ও তাঁর দল তৃণমূলকে তোপ দেগেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি।

কিন্তু কী ঘটেছে? ‘ফিরহাদ থার্টি’ নামে ফিরহাদ হাকিমেরই একটি সংগঠন রয়েছে। শনিবার ছিল তাঁদের তৃতীয় এডুকেশন কনফারেন্স। সেখানে হাজির হয়েছিলেন কলকাতার মেয়র। উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, “বাংলায় আমরা ৩৩ শতাংশ। কিন্তু, দেশে আমরা ১৭ শতাংশ। আমাদের সংখ্যালঘু বলা হয়। কিন্তু, আমরা নিজেদের সংখ্যালঘু বলে মনে করি না। আমরা মনে করি, আল্লাহর রহমত যদি থাকে, সংখ্যালঘুরা একদিন সংখ্যাগুরুর থেকেও সংখ্যাগুরু হবে। আল্লাহর এই নির্দেশ তথা ইচ্ছাকে তাকত দিয়ে হাসিল করতে পারবে।” তাঁর এই মন্তব্য কম সময়ের মধ্যে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নানা মহল থেকে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিরহাদের মন্তব্য নিয়ে সরব হয় রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তাদের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সমাজমাধ্যমেই তীব্র আক্রমণ করেন ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর দলকে। তিনি লেখেন, “এটা কি ঘৃণা ভাষণ নয়? ভারতে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরির এটা ব্লুপ্রিন্ট। ইন্ডি জোটের শরিকরা কেন চুপ? ফিরহাদের এই মন্তব্য নিয়ে তাঁদের মতামত জানানোর চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।” বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা আইটি সেলের প্রধান ও বাংলায় বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্যও ফিরহাদের মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য অনুপ্রবেশে উৎসাহ দেবে।”
তবে এই প্রথম নয়। বেশ অতীতেও বেশ কয়েকবার নিজের মন্তব্যের জন্য বিতর্ক তৈরি করেছেন কলকাতার মেয়র । শনিবার ফের তাঁর মুখে শোনা গেল বিতর্কিত মন্তব্য। শনিবারের অনুষ্ঠানে ফিরহাদ আরও বলেন, ইদানীং দেখা যায় মোমবাতি মিছিল করে উই ওয়ান্ট জাস্টিস স্লোগান তোলা হচ্ছে। কিন্তু মিছিল করে বিচার চাইলে বিচার পাওয়া যাবে না। নিজেদের অউকাত ও রুতওয়া এমন হতে হবে যাতে বিচার এমনিই পাওয়া যাবে। দেশের আইনসভায় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব করা নিয়েও মন্তব্য করেন কলকাতার মেয়র। তিনি বলেন, “আজও কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্টে মাত্র দু-চার বিচারপতি রয়েছেন।” ফিরহাদ হাকিমের এই কথা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁর বক্তব্যকে সাংবিধানিক ধারণারও পরিপন্থী বলেও মনে করছেন। তাঁদের যুক্তি, সংখ্যালঘুদের শিক্ষা ও দক্ষতা বাড়ানোর ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়ার মধ্যে কোনও ভুল নেই। শুধু সংখ্যালঘু নয় সমাজে অনগ্রসর সমস্ত শ্রেণির মানুষের জন্য তা প্রযোজ্য। কিন্তু সংখ্যালঘুদের সংখ্যাগুরু হয়ে ওঠা বা বিচারের প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী যে সব কথা বলেছেন তা কখনই ভারতের মত ধর্মনিরপেক্ষ দেশে গ্রহণযোগ্য নয়।
মেয়র তথা দলের নেতার এহেন মন্তব্যে অবশ্য ভুল দেখছে না রাজ্যের শাসক শিবির। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, সংখ্যলঘুদের শিক্ষার প্রসারে মন্ত্রী এ কথা বলেছেন। পাশাপাশি ফিরহদকে একজন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ভারতের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণের কথা বলা নেই। ধর্মের ভিত্তিতে বিচারে বৈষম্যের কথাও নেই। সংখ্যালঘু বিচারপতি হলে, তবেই সংখ্যালঘুরা বিচার পাবেন এই ধারণায় সহমত নন অনেকে। তাঁদের মতে, সংবিধানের শপথ নিয়ে মন্ত্রী ও মহানাগরিক হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু এসবের মধ্যেই তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা না বলতেও পারতেন।


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
বঙ্গে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস