সময় কলকাতা ডেস্ক:- কমলা রঙের বোগেনভিলিয়া লাগাতে চেয়েছিল মেয়ে। বাড়ির ছাদ বাগানে সেই গাছ আর আনতে পারেননি আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী পড়ুয়া-চিকিৎসক। রবিবার তাঁর ৩২ তম জন্মদিনে সেই গাছের চারা টবে পুঁতলেন মা। বললেন, ‘‘জন্মদিনে তো ওকে আর কিছু দিতে পারব না। তাই ওর যেটা ইচ্ছা ছিল, সেটা পূরণ করলাম।’’
ছোট থেকেই গাছ ভালবাসতেন অভয়া। তাই নিজে পছন্দের বিভিন্ন গাছ দিয়ে বাড়ির ছাদে তৈরি করেছিলেন ছাদ বাগান। আজও সেই বাড়ির ছাদে বিভিন্ন রঙের জবা ফুলের গাছ, অর্কিড-সহ অনেক গাছ রয়েছে। নেই শুধু বাড়ির মেয়ে। ন্যায় বিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে দিয়েই মেয়ের জন্মদিন পালন করতে চেয়েছিলেন বাবা-মা। তাই মেয়ের ছবিতে কোনও মালা দেওয়া নয়। বরং মনের কষ্ট চেপে সাধারণ মানুষকে আরও এগিয়ে আসার বার্তা দিলেন তাঁরা।
বেলা ১২টার সময়ে জন্ম হয়েছিল তাঁদের একমাত্র মেয়ের। এ দিন ঘড়ির কাঁটায় সেই সময়টা আসতেই, মেয়ের স্মৃতিতে স্বাস্থ্য শিবিরের সূচনা করেন অভয়ার ষ বাবা-মা। দাবি জানান, ‘‘আজকের জন্মদিন থেকে ন্যায় বিচারের লড়াইটা আরও জোরদার হয়ে উঠুক।’’ তরুণী চিকিৎসকের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই তাঁদের পৈতৃক বাড়ি। সেখানেই জন্মের পর থেকে ১৪টা বছর কেটেছিল অভয়ার। সেই বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান অভয়ার বাবা-মা সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তার।
নির্যাতিতার জন্মদিন উপলক্ষে এ দিন বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। ‘তোমায় আমরা ভুলিনি, ভুলব না’ স্লোগান লেখা ব্যানার হাতে স্থানীয় নাগরিক সমাজের সদস্যেরা মৌন মিছিল করেন ওই তরুণী চিকিৎসকের বাড়ির সামনে থেকে। অন্য দিকে, ‘জন্মদিনের অঙ্গীকার, বাংলার মেয়ের সুবিচার’ এই দাবিতে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট এ দিন অভয়ার বাড়ির এলাকায় দুটি ‘অভয়া ক্লিনিক’-এর আয়োজন করে। দু’টি শিবির মিলিয়ে প্রায় আড়াইশো জন মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নেন।


More Stories
রানীরহাটের বিজয় চক্রবর্তী : পর্বত প্রেমের অনুপ্রেরণার একটি নাম
টোটো চালিয়ে প্রয়াত বাবার স্বপ্নপূরণ করছে কিশোরী মেয়ে তৃষা
গাড়ি বিস্ফোরণ : মুঘল সুলতানার আক্ষেপ, সাধের দিল্লি নগরীর কী হবে?