সময় কলকাতা, দীপ সেন, বারাসাত:- মধ্যমগ্রাম দেহ লোপাট কাণ্ডে নয়া মোড়। আরতী ঘোষ ও তার মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষকে নিয়ে আসা হল মধ্যমগ্রামের বাড়ির পাশের এলাকায়। আরতী ঘোষ নিজেই দেখিয়ে দেন কোথায় সে অস্ত্র ফেলে এবং যে মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল সেই মহিলার পোশাক-আশাক ফেলেছিল। গঙ্গায় ট্রলি বন্দি দেহ ভাসাতে গিয়ে গত সপ্তাহে কুমোরটুলি ঘাটে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে গিয়েছিল মা-মেয়ে। পিসি শাশুড়িকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যে মধ্যমগ্রামের সেই মা-মেয়েকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তদন্তর সূত্র ধরে এবার পুলিশের হাতে উঠে এল আরও একটি ট্রলির তথ্য! পুলিশ সূত্রের দাবি, জেরায় ফাল্গুনী ঘোষ এবং আরতি ঘোষ জানিয়েছে, খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলি লোপাট করার জন্য সেদিন আরও একটি ছোট ট্রলি ব্যাগ ব্যবহার করেছিল তারা। পুলিশ সূত্রের খবর জেরায় সেকথা স্বীকারও করেছে মা মেয়ে। পুলিশকে জেরায় তারা জানিয়েছে, খুনে ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্রগুলি ওই ট্রলিতে ভরা হয়েছিল। ওই ট্রলি কোথায় রয়েছে তা জানতে ধৃতদের জেরা করছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনা কি ঘটেছিল?
গত মঙ্গলবার সকালে কুমোরটুলিতে ট্রলিবন্দি মহিলার দেহ ভাসাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দুই মহিলা। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মধ্যমগ্রামের বীরেশ পল্লির বাড়িতে পিসি শাশুড়ি সুমিতা ঘোষকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুনের পর দেহ লোপাটের চেষ্টা করেছিল মা-মেয়ে। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় ধরা পড়ে সেই দুই মহিলা ফাল্গুনী ঘোষ এবং আরতি ঘোষ। সেই হত্যাকাণ্ডের পরতে পরতে রহস্য। ধৃতদের জেরা করতেই উঠে আসছে নৃশংস কার্যকলাপ। আরতি ঘোষ ও ফাল্গুনী ঘোষ মধ্যমগ্রামের বীরেশপল্লি এলাকার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, বেশকিছুদিন ধরেই পিসিশাশুড়ি সুমিতা ঘোষের সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করছিল অভিযুক্ত ফাল্গুনী। আগেই মৃতার এটিএম কার্ডের পিন পাল্টে নিয়েছিল অভিযুক্ত বৌমা ফাল্গুনী। খুনের পর সুমিতার অ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ হাজার টাকাও তুলেছিল সে। জানা গিয়েছে, মৃতা সুমিতা পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটের বাসিন্দা। তবে থাকতেন শিয়ালদহে বোনের বাড়িতে।
কয়েকদিন আগেই মধ্যমগ্রামে ফাল্গুনী ও তার মা আরতির বাড়িতে আসেন তিনি। এদিকে ফাল্গুনী ঘোষের সঙ্গে স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে। তাই ফাল্গুনী মধ্যবমগ্রামে মা আরতির সঙ্গে ভাড়া থাকত। সম্পত্তি, গয়নাগাটি নিয়ে দুপক্ষের গোলমাল ছিল। এদিকে সুমিতা ও ফাল্গুনী, দু’জনই নিঃসন্তান। ফলে সুমিতার ব্যা ঙ্কের লকারে থাকা ৭০ ভরি সোনার গয়নার উত্তরাধিকারী কে, তা নিয়ে পরিবারের অন্দরেই জল্পনা ছিল। সুমিতার সেই গয়না ও সম্পত্তির উপরই লোভ ছিল ফাল্গুনীর। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ব্যাঙ্কে থাকা সাড়ে তিনলক্ষ টাকা হাতানোর ফন্দিও আঁটছিল অভিযুক্তরা। সূত্রের খবর, তদন্ত চলাকালীনও পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, পিসিশাশুড়িকে খুনের পর নাকি মা আরতি ঘোষকে নিয়ে বউবাজারে গিয়েছিল খুনি ফাল্গুনী। ৫০ হাজার টাকার গয়নার অর্ডারও দিয়েছিল।
মনে করা হচ্ছে
মৃত সুমিতা ঘোষের টাকাতেই এই গয়না অর্ডার করেছিল ফাল্গুনী। জানা গিয়েছে, এই সম্পত্তি নিয়েই রবিবার দুপুরে শুরু হয়েছিল অশান্তি। সেই সমই ইটের আঘাতে পিসিশাশুড়িকে খুন করে ফাল্গুনী। কুমোরটুলিকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরই জানা গিয়েছে, ‘খুনি’ ফাল্গুনী ঘোষ বরারবরই অপরাধমনস্ক। পিসিশাশুড়িকে খুন ও দেহ টুকরো করার পরও একেবারে নির্লিপ্তই ছিল সে। মাকে নিয়ে বেরিয়েছিল জায়গা খুঁজতে, কোথায় দেহ ফেলা যায়। সুমিতার দেহ এক ঘরে রেখে রবিবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে পিসিশাশুড়ির আনা ট্রলিতেই তাঁর দেহ ভরে ফাল্গুনী। প্ল্যানমাফিক চলে যায় কলকাতা। সময় যত গড়াচ্ছে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলে খবর।
এদিকে পুলিশের দাবি, জেরার মুখে ফাল্গুনী ভেঙে পড়েনি। তার আচরণেও অস্বাভাকিতা নেই। কিন্তু কেন এমন পরিকল্পনা ফাল্গুনী ঘোষ এবং তাঁর মা আরতি ঘোষের? সম্পত্তির জন্যই কি খুন? নাকি নেপথ্যে আরও বড় কারণ থাকতে পারে ? তদন্তে পুলিশ। যেহেতু খুনের ঘটনাস্থল মধ্য?মগ্রাম, তাই আদালতের নির্দেশে এই মামলার যাবতীয় নথি ও কেস ডায়েরি উত্তর বন্দর থানা তুলে দেয় উত্তর ২৪ পরগনার মধ্য মগ্রাম থানার পুলিশের হাতে। বৃহস্পতিবার মা ও মেয়েকে বারাসাত আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক মা-মেয়ে দুই অভিযুক্তেরই ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।


More Stories
অস্ত্র আইনে তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দাস গ্রেফতার
বিজেপি নেত্রীকে পদাঘাত বা সাংবাদিককে জেলে পাঠানো আরশাদ উজ জামানকে তোলা হল আদালতে, কে এই আরশাদ?
চন্দ্রনাথ খুনের পেছনে ভাইপো গ্যাং : শুভেন্দু