Home » হোম স্টে-তে বসে পর্যটকরা নদী দেখবেন, তার জন্য নির্বিচারে কাটা হলো ম্যানগ্রোভ!

হোম স্টে-তে বসে পর্যটকরা নদী দেখবেন, তার জন্য নির্বিচারে কাটা হলো ম্যানগ্রোভ!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কুলতলির গোপালগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা, গ্রাম্য পরিবেশ উপভোগ করার জন্য এখন সেখানে ভিড় জমান বহু পর্যটক। ব্লগারদের সৌজন্যে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে এখন সুপরিচিত গোপালগঞ্জ। চাহিদা আর জোগানের সমস্ত শর্ত মেনে সেখানে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বেশ কিছু হোম-স্টে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বারবার পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে হোম-স্টে তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন আর এই ধরনের একটি হোম-স্টের আরাম চেয়ারে গা এলিয়ে পর্যটকদের চক্ষুবিলাসের জন্য নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ কাটার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, হোম স্টেতে বসে যাতে পর্যটকরা নদী দেখতে পান সে জন্যই নির্বিচারে চলেছে গাছ নিধনযোগ্য। ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনায় তদন্তের জন্য বন দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

অভিযোগ পেয়ে এলাকায় যান বন দপ্তরের কর্মীরা। সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর বন দপ্তরের পক্ষ থেকেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানা গিয়েছে। কুলতলি পঞ্চায়েত সমিতির বনভূমির কর্মাধ্যক্ষ শাহাজাদ শেখ জানান, এই ঘটনায় তদন্তের জন্য বন দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি বেআইনি ভাবে গাছ কেটে থাকেন, তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিডিও সুচন্দন বৈদ্য জানান, তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। যদিও এই ঘটনার আগে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ম্যানগ্রোভ কাটার অভিযোগ বারবার উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোম স্টের মালিক মাসুদ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, ‘না জেনে অনেকে অনেক কথা বলেন। আমি এখানে থাকি না। রাতে এসেছিলাম একটি নিমন্ত্রণ পেয়ে। অভিযোগ করা মানে তা প্রমাণ হয়ে যায় না। আমি কোনও গাছ কাটিনি।’ স্থানীয় সূত্রে খবর, এই মাসুদ হোসেন মোল্লা শাসক দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাই গ্রামবাসীরা মনে করছেন, ‘হাজার অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন কিছুই হবে না।’

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘মাতলা নদীর ধার দিয়ে হাজার হাজার ম্যানগ্রোভ এই মুহূর্তে কেটে ফেলা হয়েছে রাতের অন্ধকারে। প্রশাসনকে বহুবার জানিও কোন লাভ হয়নি। এই জায়গা অত্যন্ত ভাঙন প্রবণ। মাঝেমধ্যে সেই জায়গা ভেঙে জল ঢুকে যায় গ্রামে। আর সেই সময়ে গ্রামবাসীদের রক্ষা করে এই ম্যানগ্রোভ। রাতের অন্ধকারে চলছে ম্যানগ্রোভ নিধন যজ্ঞ।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামে হরিনাম সংকীর্তন হচ্ছিল। সকলে সেখানে ব্যস্ত ছিল। সেই সুযোগেই সমস্ত গাছ কেটে নিয়ে যায় কেউ। সকালে উঠে একটি গাছও দেখতে পাননি এলাকাবাসী।

About Post Author