সময় কলকাতা ,সানি রায়, উত্তরবঙ্গ:-আমরা বিভিন্ন সময়ে প্রচার মাধ্যমে দেখতে পাই পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক নেতিবাচক সংবাদ। সামাজিক প্রচার মাধ্যমে নিমেষের মধ্যে কাঠগড়ায় তুলে দেওয়া হয় পুলিশকে। সমাজের সমস্ত স্তরেই কিছু খারাপ, কিছু ভালোর অস্তিত্ব সর্বদাই বিরাজমান। সে পুলিশের মধ্যেও আছে। যারা দিবারাত্র নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছে তেমন পুলিশ যেমন আছে ,আবার দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু পুলিশও রয়েছে।
অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়
পুলিশের দুর্নীতি বা পুলিশের বিরুদ্ধে মুখরোচক কিছু পাওয়া গেলেই সামাজিক প্রচার মাধ্যমে একশ্রেণীর বিপ্লবীরা কোমর বেঁধে নেমে পড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। সামাজিক প্রচার মাধ্যমের স্ক্রিনে একের পর এক কমেন্টসের বন্যা বইতে থাকে। ভাবটা এমন থাকে যেন এইতো পেয়েছি হাতের মাথায়। অথচ কোন নিষ্ঠাবান পুলিশ কর্মী সমাজের হিতে কোন পদক্ষেপ যদি নেয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সঠিক পদক্ষেপ নেয় সেক্ষেত্রে এই তথাকথিত সামাজিক প্রচার মাধ্যমের বিপ্লবীদের কোন মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের একাংশে মধ্যে একটা মাইন্ড সেটআপ তৈরি হয়ে গিয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে কিছু বলার।
পুলিশ কিন্তু সর্বদাই মানবিক
কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় কোন পুলিশ কর্মী যদি কোন সঠিক বা ভালো উদ্যোগ নেয় সেক্ষেত্রে আমরা বলা শুরু করি যে পুলিশের মানবিক রূপ। এটাও অনেকাংশে ভুল। তার কারণ পুলিশ কিন্তু সর্বদাই মানবিক। একজন পুলিশ কর্মী সেও কারোর পিতা বা ছেলে। তাদেরও পরিবার আছে। পুলিশ মানবিক হওয়ার চেষ্টা করে সর্বদাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো রাজনৈতিক প্রভাব বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির কারণে গাফিলতি হয়।আর যে সকল পুলিশকর্মী দুর্নীতিগ্রস্ত সেটা তাদের স্বভাব। কিন্তু আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই পার্থক্য বিবেচনা না করেই অবস্থান নির্ণয় করে ফেলি। পুলিশের ভালো কাজের নমুনা সমাজে অসংখ্য রয়েছে, কিন্তু তার মধ্যেও কিছু থাকে অনন্য। তেমনি একটি ঘটনা, ঘটিয়েছেন জলপাইগুড়ি সদর ট্রাফিক পুলিশের আইসি অমিতাভ বাবু।

জলপাইগুড়ি জেলার ধুপগুড়ি পৌরসভা ৯ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন ভিডিও অফিস পাড়ার বাসিন্দা সুভাষ দাসের কন্যার দীর্ঘদিন ধরেই থ্যালাসেমিয়া। একজন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তের পরিবারই জানে কি নিরন্তর লড়াই করতে হয়। প্রতি দুই মাস অন্তর বি নেগেটিভ রক্তের প্রয়োজন পড়ে। এ হাসপাতাল, ও হাসপাতাল ঘুরে, রক্ত যোগাড় করতে হয় সুভাষ বাবুকে।

জলপাইগুড়ির বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা রক্ত যোগানকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত পম্পা সূত্রধর বিগত দিনে সুভাষ বাবুকে রক্তের সংস্থান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার কোন জায়গায় রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে বিপদে পড়েছিলেন সুভাষ বাবু। সেই খবর পেয়ে জলপাইগুড়ির ট্রাফিক পুলিশের আইসি অমিতাভ বাবু ছুটে যান বিপন্ন এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। সাত সকালেই ছুটে গিয়ে নিজের রক্ত দিয়ে ওই বিপন্ন পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য নজির করলেন জলপাইগুড়ি ট্রাফিক পুলিশের আইসি। তার এই সাধু উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।



More Stories
ডার্বির উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে , বড় ম্যাচে বড় পরীক্ষা পুলিশের
খাদ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন – বারাসাতে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে হানা ফুড সেফটি বিভাগের
অস্বাভাবিক মৃত্যু মমতার ভাইঝির, নেপথ্যে কী কারণ?