Home » জায়গা হয়নি ছেলের সংসারে, বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েও নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা!

জায়গা হয়নি ছেলের সংসারে, বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েও নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- “ছেলে আমার মস্ত বড় মস্ত অফিসার।” “বৃদ্ধাশ্রম” গানটি গেয়েছিলেন জনপ্রিয় বাঙালি গায়ক নচিকেতা। ওই গানের প্রতিটি কথাই যেন এবার হুবহু মিলে গিয়েছে ষাটোর্ধ শর্মিষ্ঠা মুস্তাফির জীবনের সঙ্গে।

কলকাতার হাতিবাগানে তাঁর বাড়ি রয়েছে। কিন্তু সেই বাড়িতে নিজের ছেলে-বৌমার সাথে জায়গা হয়ে ওঠেনি ওই বৃদ্ধার। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে বৃদ্ধা মা’কে পাঠিয়ে দিয়েছিল মধ্যমগ্রামের দিগবেড়িয়ার একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বৃদ্ধাশ্রমে। ওই বৃদ্ধাশ্রমেই জীবনের বাকি দিনটা কোনওরকমে কাটিয়ে দেবেন ভেবেছিলেন কলকাতার হাতিবাগানের বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা মুস্তাফি।

কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েও বিপত্তি পিছু ছাড়েনি বৃদ্ধার।এককালীন কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়ার পরেও ষাটোর্ধ শর্মিষ্ঠা দেবীকে দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের সমস্ত কাজ করানোর পাশাপাশি নিজের বাড়ির সমস্ত কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে মধ্যমগ্রামের দিগবেড়িয়ার নিবেদিতা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামক ওই বৃদ্ধাশ্রমের মালকিন নীপা রায় সরকারের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়,পরিচারিকার কাজ করতে অস্বীকার করায় মারধর সহ প্রাণে মারার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে বৃদ্ধাকে। এছাড়াও প্রতিদিন বিষ জাতীয় ট্যাবলেট খাইয়ে প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে বৃদ্ধাশ্রমের মালকিনের বিরুদ্ধে।

শেষে বিপদ বুঝে তিন দিন আগে ওই বৃদ্ধাশ্রম থেকে পালিয়ে মধ্যমগ্রাম থানায় গিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের মালকিন নিপা রায় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ওই বৃদ্ধা। অভিযুক্ত নীপাকে ডেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এরপর অসহায় বৃদ্ধা বারাসত পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন। বৃদ্ধা বলেন, সেখানেও তিনি কোন সুরাহা পাননি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে মুখ্যসচিব, মানবাধিকার কমিশন, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মধ্যমগ্রাম পুরসভা সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ দফতরে অভিযোগ জানিয়েও কোন সুরাহা হয়নি তাঁর।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ালেও তার ছেলে তার কোনও খোঁজ নেয়নি। এই পরিস্থিতিতে ওই বৃদ্ধার ভবিষ্যৎ কী সেটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন। সমস্যা থেকে নিস্তার মিলবে কী অসহায় বৃদ্ধার সেটাই এখন দেখবার।

About Post Author