সময় কলকাতা ডেস্ক:- পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে যাঁরা কাছের মানুষ, তাঁদের উপহার দিতে স্পেশ্যাল প্যাকেটের ব্যবস্থা করেছে কলকাতার এক প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন বিপণি। চওড়া প্যাকেটের বাঁ দিকের খোপে একটি কাঠের পেঁচা, মধ্যের খোপে বাংলার কুলোর আকারের একটি বড় সন্দেশ। ওই সন্দেশে লেখা ‘শুভ নববর্ষ’। আর ডান দিকের খোপে রাখা একটি পঞ্জিকা, আটপৌরে কথায় যাকে পাঁজি বলে। বেস্টসেলার বইয়ের তালিকায় নাম থাকে না ঠিকই তবে দশকের পর দশক বাংলা বইয়ের অবিসংবাদিত বেস্টসেলার পঞ্জিকাই।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে বাংলা তার অনেক পুরোনো অভ্যাসকেই ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। ছেড়েছে সাবেকি পোশাক, নিজস্ব খাবারের পদও। তবে এখনও সেই আধুনিকতা প্রভাব ফেলতে পারেনি পঞ্জিকার উপর। চৈত্র ফুরোনোর পালা এলেই খোঁজ পড়ে পাঁজির। বিয়ে-পৈতে-অন্নপ্রাশন তো আছেই, রয়েছে বাঙালির তেরো পার্বণও। পাঁজি ছাড়া সে সব হয় নাকি!
পুরোহিতরা ব্যবহার করেন ‘ডাইরেক্টরি’ পঞ্জিকা, সাধারণ মানুষ বাড়িতে রাখেন ‘ফুল’ পঞ্জিকা বা ‘গার্হস্থ্য’ পঞ্জিকা। অনেকেই সঙ্গে ‘পকেট’ পঞ্জিকা রাখেন। নতুন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন তৈরি হয়েছে অ্যাপ বেসড পঞ্জিকাও। আকারের উপর নির্ভর করে পাঁজির দামও বিভিন্ন, ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। পঞ্জিকা আসলে পঞ্চাঙ্গ। এখান থেকে আমরা পাঁচটি বিষয়ে জানতে পারি। এগুলো হলো তিথি, নক্ষত্র, যোগ, করণ এবং বার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পঞ্জিকার কলেবর বদলে ব্যবহারকারীর উপযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।
লাল কাপড়ে মোড়া যে হালখাতা বছরের পর বছর ধরে বাংলা নববর্ষের ট্রেডমার্ক হিসেবে পরিচিত ছিল। কম্পিউটার যুগে তার ব্যবহার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে ঠিকই, তবে পাঁজি? এখনও পর্যন্ত পাঁজির বিক্রি কিছুমাত্র কমেনি, বরং বেড়েছে। নববর্ষের প্রাক্কালে এখনও বছরে অন্তত ১৮ থেকে ২০ লক্ষ পাঁজি বিক্রি হয় গোটা বাংলায়। শুভ দিন দেখার জন্য পাঁজির বিক্রি একটুও কমেনি।


More Stories
উত্তর ২৪ পরগনায় আইএসএফ ও তৃণমূল সংঘর্ষ, জখম একাধিক কর্মী
উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টির তান্ডবে ধুয়ে গেল ভারত-চীন সেতু!
উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের রক্তদান শিবিরে তুমুল উত্তেজনা! মঞ্চেই দুই গোষ্ঠীর চেয়ার ছোড়াছুড়ি