সময় কলকাতা ডেস্ক:- উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর অফিসারেরা। সেই মামলার জল বহুদূর গড়ায়। শাহজাহানের বিরুদ্ধে হিসাব বর্হিভূত আয়ের মামলায় ২০২৪-এর মার্চে ইডি তাঁর তিনটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছিল। এতদিনে সেই গাড়ি নিলামে তোলা হচ্ছে। ইডি অফিসারের দাবি, এই প্রথম রাজ্যে তাদের কোনও মামলায় বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি নিলামের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন মামলায় গাড়ি বাজেয়াপ্ত হলেও, কোনও দিন নিলাম হয়নি।
শুধু শাহজাহান নয়, বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজ ভ্যালির মালিক গৌতম কুণ্ডুর প্রায় ৫০টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সেই গাড়িগুলি প্রায় আট-নয় বছর ধরে ইডির কাছে পড়ে পড়ে কার্যত নষ্ট হতে বসেছে। ইডির একটি সূত্র জানাচ্ছে, শাহজাহানের গাড়ির নিলাম শেষ হলে গৌতমের গাড়িগুলিও নিলামে তোলা হবে। গৌতম কুণ্ডুর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা গাড়িগুলির মধ্যে রয়েছে রোলস রয়েস, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ, টয়োটা-র মতো দামি বিদেশি গাড়ি। নিজে অর্ডার দিয়ে ছয় দরজার একটি লিমুজিনও বানিয়েছিলেন গৌতম। সেটাও রয়েছে বাজেয়াপ্তর তালিকায়। ইডির দাবি, যে সময়ে গাড়িগুলি বাজেয়াপ্ত হয়েছিল, তখন বিক্রি করলে কোটি কোটি টাকা পাওয়া যেত। এত বছর ধরে বসে থেকে থেকে সেগুলি অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এক অফিসারের কথায়, ‘এখন কার্যত কিলোদরে বিক্রি করে দিতে হবে গাড়ি গুলি।’
জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি ইডি সরাসরি বিক্রি করে না। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে কিছু এজেন্সি বা সংস্থা রয়েছে। আদালতের অনুমতি পেয়ে তাদের বাজেয়াপ্ত গাড়ির তালিকা দেয় ইডি। নিলামের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া, বর্তমান বাজারদর ঠিক করা, সব ব্যবস্থাই এজেন্সি করে। এই প্রক্রিয়ায় যে কোনও ব্যক্তি অংশগ্রহণ করতে পারে।
ইডির একটি সূত্র জানাচ্ছে, বাজেয়াপ্ত করা গাড়ি-বাড়ি বা অন্য সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তদন্তকারীদের কাজের মধ্যে পড়ে না। সেটা ইডিরই অন্য বিভাগ দেখে। অভিযোগ, মূলত তাদেরই অনীহায় এতদিন নিলামের ব্যবস্থা করা যায় নি। এক ইডি অফিসারের কথায়, ‘শাহজাহানের গাড়ি যদি বাজেয়াপ্ত করার এক বছরের মধ্যে নিলাম করা যায়, তা হলে রোজ ভ্যালির ক্ষেত্রে এত দেরি কেন হল?’
ইডি সূত্রে খবর, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত জিনিস নিলামে তুলে বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে সেই টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখা যায়। মামলার শেষে অভিযুক্ত যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তা হলে ওই টাকা কেন্দ্র সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়। আর অভিযুক্ত নির্দোষ প্রমাণিত হলে এবং তিনি আদালতে ওই টাকা ফেরত চাইলে আদালতের অনুমতিতে তাঁকে তা ফেরত দেওয়াই দস্তুর। শাহজাহান এবং গৌতমের ক্ষেত্রেও মামলা চলছে। আপাতত গাড়িগুলি নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের কোষাগারে জমা পড়ার কথা।


More Stories
উত্তর ২৪ পরগনায় আইএসএফ ও তৃণমূল সংঘর্ষ, জখম একাধিক কর্মী
উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টির তান্ডবে ধুয়ে গেল ভারত-চীন সেতু!
উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের রক্তদান শিবিরে তুমুল উত্তেজনা! মঞ্চেই দুই গোষ্ঠীর চেয়ার ছোড়াছুড়ি