Home » ‘৯০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছি’, মেছুয়ায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ে দাবি মমতার

‘৯০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছি’, মেছুয়ায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ে দাবি মমতার

সময় কলকাতা ডেস্ক:- দিঘা থেকে ফিরেই বৃহস্পতিবার বড়বাজারের মেছুয়ায় অগ্নিকাণ্ড পরিদর্শনে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই হোটেল চত্বর পরিদর্শনের পর তিনি বলেন, ‘ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই এতগুলো মানুষের প্রাণ চলে গেল। আমি রাত জেগে সব তদারকি করেছি। ৯০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছি।’ ক্ষোভের সুরেই তিনি জানিয়েছেন, ১৯৮৯ সালের বাড়ি। বিল্ডিংয়ের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। এই ধরনের বিপজ্জনক বাড়ি বা হোটেল চিহ্নিত করতে বলব। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, ‘এ ভাবে চলতে পারে না।’ প্রশ্ন উঠছে তবে কি শহর জুড়ে পুলিশ প্রশাসন এবং কলকাতা পুরসভার কোন নজরদারি নেই?

এরপরেই পার্ক স্ট্রিটে ম্যাগমা হাউজে নিজেই সারপ্রাইজ ভিজিটে যান তিনি। সেখানে গিয়ে আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। ছাদ বন্ধ করে সেখানে রেস্তোরাঁ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এটা করা যাবে না বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না। নিজেদের বাঁচান, অন্যকে বাঁচতে দিন। এ ব্যাপারে আমি কিন্তু রাফ অ্যান্ড টাফ।’ সারপ্রাইজ ভিজিট বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। বার বার সহযোগিতা করার আবেদন জানান তিনি। বলেছেন, ‘১৫ দিন সময় দিলাম, তার মধ্যে ঠিক না হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।’ জবরদখল, বিপজ্জনক বাড়ি চিহ্নিত করার পরেও বছরের পর বছর সেখানে থেকে যাওয়া নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি এও বলেন, ‘ জীবন আগে, মনে হলে ভোট দেবেন না। তবে এ সব বরদাস্ত করা হবে না।’

মমতা এ দিন বলেন, ‘এখানে অনেক বাড়ি ভেঙে পড়ছে দেখছি। কিছুদিনের জন্য সকলকে সরিয়ে যদি সংস্কারটা করা যায়, সেটা দেখতে বলা হয়েছে। বলছি না বাড়ি ছেড়ে দিতে, কিন্তু এটা তো জরুরি। পুলিশ, দমকল, পুরসভার সঙ্গে কথা বলে সবটা করতে হবে। আমি একটা কমিটিও গঠন করছি, যারা এগুলি সবটা দেখবে। কলকাতা পুরসভাকেও তদন্ত করে দেখতে বলেছি।’

পাশাপাশি তিনি মনে করিয়েছেন, এ ধরনের নির্মাণের কোনও অনুমতি যেন না দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণে জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এলে, সে যেই হোক, কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে কথা জানান তিনি।

About Post Author