সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁওয়ে নৃশংস ঘটনার বদলা নিতে দিল্লি কীভাবে পাকিস্তানের উপর আঘাত হানে সেদিকেই এখন নজর সারা বিশ্বের। তৎপর নরেন্দ্র মোদির সরকার। প্রতিনিয়ত চলছে বৈঠক। যুদ্ধ চুক্তি লঙ্ঘন করে সীমান্তে গুলি চালানো নিয়ে পাক ফৌজকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতীয় সেনা। বহুদিন ধরে দাবি জানালেও এখনও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে পারেনি ভারত। আলজেরিয়া, গ্রীস, গায়ানা, পানামা, সিয়েরা লিওন, স্লোভেনিয়া এবং সোমালিয়া এই রাষ্ট্রগুলিও রাষ্ট্রসংঘের অস্থায়ী সদস্য। জানা গিয়েছে, বুধবার এই দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সকলকেই তিনি পহেলগাঁওয়ের হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে ভারতের দৃঢ় সংকল্পের কথা জানিয়েছেন। এই কথোপকথন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত অনেকেরই।
কারণ ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে পাকিস্তানও রাষ্ট্রসংঘের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এর আগে বহুবার কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে খোঁচা দিয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু কোনও সময়ই হালে পানি পায়নি। পহেলগাঁও হামলায় জড়িত থাকার কথা প্রথম থেকেই অস্বীকার করছে পাক সরকার। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা। গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। সেনার পোশাকে এসে ধর্ম জিজ্ঞাসা করে বেছে বেছে খুন করা হয় তাঁদের। প্রথমে এই হামলার দায় স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করে লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন টিআরএফ। কাশ্মীরের মাটিতে সন্ত্রাস চালাতে এই সংগঠনকে জল-সার দিয়ে মহীরুহ করে তুলেছে পাক সেনা ও আইএসআই বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে দু’দিন আগেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ জানিয়েছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে অর্থ ও মদত দেওয়ার মতো ঘৃণ্য কাজ গত তিন দশক ধরে করে এসেছে পাকিস্তান। এই কাজ পাকিস্তান করেছে, আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ পশ্চিমের দেশগুলির জন্য। এটা পাকিস্তানের ভুল ছিল। যার ফল পাকিস্তানকে ভুগতে হচ্ছে। এই বক্তব্যই তুলে পাকিস্তানকে তুলোধোনা করে ভারত।
ভারত পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝেই রাষ্ট্রসংঘের প্রধান অ্যান্টনিও গুয়েতেরেসের ফোনও আসে জয়শংকরের কাছে। গুয়েতেরের ফোন গিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছেও। দুই দেশকেই তিনি ‘ডি-এসকালেশন’র জন্য আহ্বান করেন। এসবের মাঝেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যদের সঙ্গে কথা বললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ময়দানে ভারতের অবস্থান জোরালো ভাবে তুলে ধরতেই কি কূটনৈতিক পিচ প্রস্তুতি শুরু দিল্লির? সেখানে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতেই কি এই পদক্ষেপ? এমনই সব প্রশ্ন, জল্পনা উঠে আসছে জয়শঙ্করের এই ৭ দেশের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে কথপোকথন ঘিরে। তথ্য বলছে, এই ৭ দেশের সঙ্গে ফোনে কথপকথনের জেরে জয়শঙ্কর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দিল্লির ‘জিরো টলারেন্স’র কথা বলেছেন। সেখানে তিনি ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে’ সকলের সমর্থন চেয়েছেন। সকলকেই তিনি পহেলগাঁও হানা নিয়ে নিন্দা করার জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার