Home » বাল্যবিবাহ রোধে অভিনব পদক্ষেপ র‍াজ্যের

বাল্যবিবাহ রোধে অভিনব পদক্ষেপ র‍াজ্যের

সময় কলকাতা ডেস্ক:- রাজ্যে ‘কন্যাশ্রী’র মতো আন্তর্জাতিক স্তরে পুরস্কার পাওয়া প্রজেক্ট-সহ আরও অনেক প্রকল্প চালু রয়েছে। কিন্তু তাও রাশ টানা যাচ্ছে না বাল্যবিবাহে। জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা ৫-এর তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪২ শতাংশ মেয়ের অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায়, জাতীয় গড় যেখানে ২৩ শতাংশ!

পশ্চিমবঙ্গে ইউনিসেফের প্রধান মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘বাল্যবিবাহের রোধে ও অ্যাডোলেসেন্টদের ক্ষমতায়নকে আরও এগিয়ে নিতে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি, পঞ্চায়েত সদস্য, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, ধর্মীয় নেতা-সহ ছাত্রসমাজ, শিক্ষকসমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।’

ইউনিসেফের সহযোগিতায় রাজ্য সরকার ২০২৩-এ যে অনলাইন-ভিত্তিক চাইল্ড ম্যারেজ রিপোর্টিং অ্যান্ড ট্র্যাকিং মেকানিজম চালু করে, তার অগ্রগতিও এ দিনের আলোচনায় উঠে আসে। উপস্থিত অনেকেই জানিয়েছেন, অনেক ছেলেও এখন ২১ বছরের কম বয়সে বিয়ে করছেন। সেই সময়েই দপ্তরের মন্ত্রী বলেন, ‘মেয়ে ও মহিলাদের পাশপাশি বাল্যবিবাহ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা সভাগুলিতে পুরুষ এবং ছেলেদেরও বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করুন।’

বাংলার মতো রাজ্য কেন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না, কী ভাবে বাল্যবিবাহে লাগাম টানা সম্ভব, সে বিষয়ে ‘ইউনিসেফ’-এর উদ্যোগে ‘স্টেট লেভেল কনসাল্টেশন অন অ্যাডোলেসেন্ট এম্পাওয়ারমেন্ট’ শীর্ষক একটি আলোচনাচক্রে ‘নারী ও শিশুবিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর’-এর মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘এখন শুধু মেয়েদের নয়, ছেলেদেরও বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ছেলেরা যাতে তাদের বিবাহের বৈধ বয়সের আগে বিয়ে না করে সে জন্য তাদের উৎসাহিত করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে ছিলেন বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা যাঁরা বাল্যবিবাহ রোধে জেলায়-জেলায় কাজ করছেন। এই কাজ করতে গিয়ে সাফল্য এবং যে সব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন তাঁরা তা ভাগ করে নেন। সেই আলোচনায় স্পষ্ট হয়, বাল্যবিবাহ রোধে ফল আশানুরূপ নয়।

ফলে নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। বিশেষত নিয়মিত স্কুল ও কমিউনিটিতে সচেতনতা-অভিযান, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, সফল ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ, অ্যাপভিত্তিক রিপোর্টিং, হেল্পলাইন ব্যবহার এবং প্রেম করে পালিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলির প্রতিরোধে বিশেষ কৌশল প্রণয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

About Post Author