Home » পাল্টা হামলার আশঙ্কা, লাভপুরে মিলল ৩০টি বোমা

পাল্টা হামলার আশঙ্কা, লাভপুরে মিলল ৩০টি বোমা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ২৪ ঘণ্টা পরেও আতঙ্ক আর উত্তেজনার রেশ কাটেনি বীরভূমের লাভপুরে হাতিয়া গ্রামে। যেখানে বোমা ফেটে দু’জন নিহত হয়েছিলেন শনিবার, রবিবার সেখান থেকেই উদ্ধার হলো আরও বোমা।

পুলিশ সূত্রের খবর, গ্রাম দখল ঘিরে দু’পক্ষের সংঘর্ষের পরেও সেখানে বিভিন্ন জায়গায় বোমা ছড়িয়ে ছিল। রবিবার জেলা পুলিশ ও বম্ব ডিসপোজ়াল স্কোয়াডের টিম গ্রামে গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ড্রাম ভর্তি ৩০টি তাজা বোমা উদ্ধার করে।

অন্যদিকে, নিহত এক যুবকের জেঠা শেখ মনির বলেন, ‘পুলিশের ধরপাকড় এড়াতে আমরাও অনেকে গ্রামছাড়া হয়ে আছি। এই সুযোগ মহিউদ্দিনদের আবার চড়াও হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তা হলে হয়তো আমরা আর গ্রামে ঢুকতেই পারব না।’

জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন, গ্রামবাসীদের আতঙ্কের কারণ নেই। গ্রামে পুলিশি টহল চলছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

এ দিনও গ্রামে থমথমে পরিবেশ। বিস্ফোরণের পর থেকেই গ্রামে টহল দিচ্ছে পুলিশ। তবুও গ্রামবাসীদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। অধিকাংশই মুখ খুলতে নারাজ। মহিউদ্দিনের স্ত্রী কারিবা খাতুন বলেন, ‘বাড়িতে কোনও পুরুষ নেই। কখন কী হয়, সে আতঙ্কে রয়েছি।’

এদিকে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি হাতিয়া গ্রামের মাঠেই নিষ্ক্রিয় করা হয়। তবে গ্রামে আরও বোমা ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। সেই মতো তল্লাশি চলছে।
শনিবারের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের সন্দেহ, বোমা বাঁধতে গিয়েই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। তবে এর পিছনে নকল সোনার কারবার নিয়ে দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনার সূত্রপাত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূলের প্রাক্তন বুথ সভাপতি তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য শেখ মহিউদ্দিনের সঙ্গে টক্কর অনেক দিন ধরেই চলছিল শেখ আবু কালাম ওরফে বাদলের।

দু’জনের বিরুদ্ধেই নকল সোনার কয়েন কারবারে সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই কারবারে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে দু’পক্ষের টক্কর হয়েছে। তার জেরে মাস চারেক আগে সদলবলে মহিউদ্দিনকে গ্রামছাড়া হতে হয়।

শুক্রবার রাতে তারা গ্রামের দখল নিতে আসে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তা নিয়ে দু’পক্ষের ব্যাপক বোমাবাজি চলে। মহিউদ্দিনদের প্রতিহত করতে শনিবার সকালে গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে বাদলের লোকেরা বোমা বাঁধছিল বলে অভিযোগ।

তখনই বিস্ফোরণে বাদলের ছেলে শেখ সাবের আলি–সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর শনিবারই গ্রামের কবরস্থানে তাদের মাটি দেওয়া হয়। সেই উপলক্ষে শনিবার আত্মীয়স্বজনে গ্রাম ভরে ছিল।

About Post Author