সময় কলকাতা ডেস্ক:- কসবা কাণ্ডের জের! কলেজের অস্থায়ী কর্মীর পদ থেকে বরখাস্ত মনোজিৎ মিশ্র। ধৃতদের মধ্যে আরও দুই ছাত্রের নাম রয়েছে। একজন জইব আহমেদ এবং অন্যজন প্রমিত মুখোপাধ্যায়। কলেজে এখনও পড়াশোনা চালাচ্ছিলেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, তাঁদের স্টুডেন্টশিপ বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযুক্তদের কেউই আর ওই প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারবে না। ইতিমধ্যে তিনজনই গ্রেফতার হয়েছে। গত শুক্রবার সকাল থেকে কসবার আইন কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।
নির্যাতিতা দাবি করেন, গত ২৫ জুন, বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকা হয়েছিল কলেজে। অভিযোগ, তিনি সেখানে গেলে তাঁর উপর চড়াও হন তিনজন। গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। কাউকে কিছু না বলতে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে ওই ছাত্রী কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সেই সূত্র ধরে তিনজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চলছে তদন্ত। কসবার ল কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন কলেজের অস্থায়ী কর্মী ও শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের এক প্রাক্তন ছাত্র। ঘটনার ছ’দিন পর সেই অভিযুক্তকে অবশেষে বহিষ্কার করল কলেজ কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা দফতরের কড়া নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে কলেজের তরফে।
প্রধান অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সক্রিয় কর্মী। কান পাতলেই শোনা যেত তাঁর দাপটের কথা। কলেজে এক সময় পড়েছেন, পরে অস্থায়ী কর্মীর চাকরি পান। বিভিন্ন অভিযোগে নাম জড়ালেও এতদিন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এবার বিকাশ ভবনের হস্তক্ষেপে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই কলেজ চত্বরে বহিরাগত তত্ত্ব উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তের মদতে কলেজে ভর্তির নামে টাকা নেওয়ার ঘটনাও। সবমিলিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা এবং নিয়মকানুনে কড়াকড়ি আনতে চাইছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আনতে চলেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, গণধর্ষণ-কাণ্ডের তদন্ত এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে। নির্যাতিতাকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। দ্বিতীয়বার মেডিক্যাল পরীক্ষার কথাও জানা গিয়েছে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?