Home » পহেলগাঁও হামলায় ‘দায়ী’ টিআরএফ, টিআরএফ-কে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা; পাকিস্তানকে ধাক্কা ট্রাম্পের

পহেলগাঁও হামলায় ‘দায়ী’ টিআরএফ, টিআরএফ-কে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা; পাকিস্তানকে ধাক্কা ট্রাম্পের

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পর দায় স্বীকার করে লস্করের ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফ্রন্ট’। কিন্তু কয়েকঘন্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহারও করে দেয় টিআরএফ। তবে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর প্রথমে টিআরএফের তরফে দায় স্বীকার করা ও পরে তা অস্বীকার করার নেপথ্যেও পাকিস্তানের হাত দেখছেন তদন্তকারীরা। এবং পুরোটাই হয়েছে পরিকল্পিত ছকে। তারপরে পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিন্দাপ্রস্তাব প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে সেই প্রস্তাবে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন টিআরএফের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পাকিস্তান এবং চিনের আপত্তিতেই নিন্দাপ্রস্তাবে টিআরএফের নাম রাখা হয়নি, এমনটাই ধারণা ছিল কূটনৈতিক মহলের।

দায় অস্বীকারের ঘটনাকেই হাতিয়ার করে পাকিস্তান যুক্তি দেয়, এই হামলায় যে টিআরএফ যুক্ত, এমন কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে টিআরএফকে কোনওভাবেই দায়ী করা যায় না। কুখ্যাত এই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে বাঁচাতে পাকিস্তানের এই তৎপরতায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন ওঠে, কেন টিআরএফকে বাঁচাতে চাইছে ইসলামাবাদ?

তবে পাকিস্তানের শত প্রতিরোধ সত্ত্বেও এবার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর তালিকায় ঢুকে পড়ল টিআরএফ।

মার্কিন বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’কে এফটিও এবং এসডিজিটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানান, দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন বিদেশে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির পৃথক তালিকা মেনে কাজ করে।

তাদের জঙ্গি নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি মেনে বিশ্বের যে কোনও জায়গায় মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে থাকে। ভারত এখনও এই ব্যাপারে মার্কিন সহায়তা চায়নি। তবে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর লস্করের তৈরি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ভারতের জন্য স্বস্তিদায়ক। আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরেই তাকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত সরকার। মার্কিন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও।

পহেলগাঁও নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নয়াদিল্লিকে সন্তুষ্ট করেনি। দেশের মধ্যে তা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে সমালোচনা সইতে হয়। পহেলগাঁও কাণ্ড এবং অপারেশন সিঁদুরের পর ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের সখ্যতা একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে। আমেরিকার সাহায্য পাওয়ার আশায় ট্রাম্পের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্যও সুপারিশ করেছে ইসলামাবাদ। গত মাসে আমেরিকা সফরে যান পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেখানে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও টিআরএফের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল আমেরিকা।

About Post Author