সময় কলকাতা ডেস্ক:- মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা প্রয়াত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দীপক ঘোষের বিতর্কিত বইয়ের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের নির্দেশ দিল বারাসাত আদালত। মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়েছেন বারাসাত আদালতের সিভিল জাজ জুনিয়র ডিভিশন ফাস্ট কোর্টের বিচারক পৌলমী পণ্ডিত। মামলাটি করেছিলেন বিধাননগর পুরনিগমের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ নাগ।
তাঁর অভিযোগ, বইটির কিছু অংশ মুখ্যমন্ত্রীর ভাবমূর্তি এবং ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর মন্তব্যে পরিপূর্ণ। সেই কারণেই তিনি বইটির প্রচার ও বিক্রি বন্ধ করার আর্জি জানান আদালতে। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বারাসাত সিভিল কোর্টের জুনিয়র ডিভিশনের ফার্স্ট কোর্ট বিচারক পৌলমী পণ্ডিত এই নির্দেশ দেন। বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের তরফে এ নিয়ে বারাসাত আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। বারাসাত ফার্স্ট কোর্টের সিভিল জজ জুনিয়র ডিভিশন ফাস্ট কোর্টের বিচারক মানহানির অভিযোগ সংক্রান্ত একটি আবেদনের ভিত্তিতে, বইটির প্রকাশনা, বিক্রয়, বিতরণ এবং প্রচারে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
নির্দেশে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বইটির প্রকাশ, বিক্রি, বিতরণ কিংবা বইয়ের কোনও উদ্ধৃতি অংশ সোশাল মিডিয়া বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে না। এমনকী, সোশাল মিডিয়ায় বইয়ের যে অংশবিশেষ ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সেগুলোর প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে আদালতের তরফে। আসলে ওই বইটিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের কয়েক জন নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তারই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
উল্লেখ্য, আসলে আইএএস আধিকারিক হিসেবে জেলা ও রাজ্য প্রশাসনে নানা দায়িত্ব সামলানোর পরে নব্বইয়ের দশকের শেষপর্বে অবসর গ্রহণের পরে তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূলে যোগ দিয়ে মহিষাদল থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন দীপক। পরে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এবং মেদিনীপুর লোকসভা আসনে সিপিআইয়ের প্রবোধ পণ্ডার বিরুদ্ধে লড়ে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু এর পরে দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীপকের। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার রাজনীতি ও জীবন নিয়ে দীপকের লেখা বই প্রবল বিতর্ক তৈরি করেছিল।


More Stories
বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি তৃণমূল থেকে বহিস্কৃত ঋতব্রতকে
বালাসাহেব-উদ্ধব ও একনাথই কি যথাক্রমে মমতা – অভিষেক ও ঋতব্রত?
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর