সময় কলকাতা ডেস্ক:- জল্পনার পরত সরিয়ে রবির সন্ধ্যায় নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে শাসক জোট এনডিএ-র উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর নাম। আপাতত ধনখড়ের উত্তরসূরির দৌড়ে শাসক জোটের হয়ে ব্যাট ধরবেন সিপি রাধাকৃষ্ণণ। বর্তমানে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা।
গতবছরের ৩১ জুলাই। মহারাষ্ট্রের নতুন রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন চন্দ্রপূরম পন্নুসামি রাধাকৃষ্ণন। কয়েক মাসের মধ্যেই এবার তাঁকে প্রোমোশনের সুপারিশ। তবে এর আগে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন তেলেঙ্গানার দায়িত্ব।
বেশ কিছু সময় আবার হয়েছিলেন পুদুচেরীর গর্ভনর। সব মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে অভিজ্ঞতা মোটেই কম নয়। রাধাকৃষ্ণণ তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। আগামী বছর তামিলনাড়ুতে রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সেখানকার ভূমিপুত্রকে উপরাষ্ট্রপতি পদে বসানোটা এনডিএর মাস্টারস্ট্রোক হয়তো।
কে সিপি রাধাকৃষ্ণণ ?
১৯৫৭ সালের ২০ অক্টোবর তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুরে জন্ম হয়েছিল সিপি রাধাকৃষ্ণণের। পরবর্তীতে সেখানের একটি কলেজে ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। তৃণমূল স্তরে নেমে কাজ শুরু করেন ওই সময় থেকেই। জুড়ে যান সংঘ পরিবারের সঙ্গে।
দক্ষিণী রাজনীতিতে জোর:
১৯৭৪ সালে আরএসএস-এর একটি শাখা সংগঠন ভারতীয় জন সংঘের তামিলনাড়ুর রাজ্য কমিটির সদস্যপদ পান তিনি। ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব পান বিজেপির তামিলনাড়ুর সম্পাদকের। পরবর্তীতে লোকসভা নির্বাচনে দু’বার জয়ী হয়েছিলেন রাধাকৃষ্ণণ। সেটা কোয়েম্বাটুর অঞ্চল থেকে।
এরপর সংসদীয় কমিটির সদস্য। ভারতের প্রথম সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে তাইওয়ান সফরও করেন। অবশেষে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল। ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত রাধাকৃষ্ণণ তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসাবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই সময়কালে ৯৩ দিনব্যাপী ১৯ হাজার কিলোমিটার রথযাত্রাও করেছিলেন তিনি। প্রায় ১৯ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সেই কর্মসূচিতে নদী সংযোগ, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু, সন্ত্রাসবাদ ও মাদকবিরোধী প্রচারের মতো নানা দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। দক্ষিণের রাজনীতিতে যা বেনজির। চন্দ্রপুরম পন্নুসামি রাধাকৃষ্ণণ ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল পদে শপথ নেন।
এর আগে প্রায় দেড় বছর ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলেছেন। সে সময় তাঁকে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল এবং পুদুচেরির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।
এ বার এই অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসাতে চাইছে এনডিএ। গত মাসে জগদীপ ধনকড় হঠাৎ পদত্যাগ করার পর উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়ে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ভোট হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ আগস্ট।


More Stories
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
বিস্ফোরক সাংসদ সুখেন্দু শেখরের ইস্তফা ও পদত্যাগ
দিল্লি গেলেন অভিষেক