সময় কলকাতা ডেস্ক:- দাগ লাগলেই যাবে গদি। বিরোধীদের তুমুল আপত্তির মধ্যেই লোকসভায় পেশ হয়ে গেল গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার হওয়া প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণ বিল। বুধবার বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই লোকসভায় তিনটি বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল ২০২৫, সংবিধান (১৩০ তম সংশোধনী) বিল ২০২৫ এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল ২০২৫।
ওই বিলগুলি মূলত সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে আনা। যাতে গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনও মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী নিজের পদের জন্য সাংবিধানিক রক্ষাকবচ না পান। প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে— যে কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধের অভিযোগে টানা ৩০ দিন কারাবন্দি থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তিনি পদচ্যুত হবেন।
তবে ইন্ডিয়া জোট ওই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে। কংগ্রেস-সহ গোটা বিরোধী শিবির বিলটির বিরোধিতা করেছে। ইন্ডিয়া জোটের বক্তব্য, এটা আসলে বিরোধীদের নির্বাচিত সরকার ফেলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র।
তাঁদের মতে ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি দিল্লির সরকারের হাতে। গত ১১ বছরে এটা স্পষ্ট যে বিজেপি কীভাবে এই ধরনের এজেন্সিকে রাজনৈতিক বিরোধীদের খতম করতে ব্যবহার করেছে। সুতরাং প্রস্তাবিত বিল পাশ হলে, বিরোধীদের সরকার ফেলে দিতে সেটাই হবে বিজেপির হাতিয়ার। এই বিল দেশের গণতন্ত্র, সাংবিধানিক ব্যবস্থাকেই একদিন গিলে খেতে চাইবে। বুধবার বিল সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হওয়ার পরই কার্যত তর্কে জড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কংগ্রেস সাংসদ কেসি বেণুগোপাল।
বিলের বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারি, এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বিরোধীরা।
বুধবার শাহের বিল পেশের সঙ্গে সঙ্গে তুমুল হট্টগোল শুরু করে বিরোধী শিবির। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদে শুরু করেন তৃণমূল সাংসদরা। ছিঁড়ে ফেলা হয় বিলের কপি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা অমিত শাহর দিকে বিলের কপি ছুড়ে দেন।
বাধ্য হয়ে অধিবেশন মুলতুবি করে দিতে হয়। বিরোধীদের হই-হট্টগোলে অমিত শাহ আশ্বাস দিয়ে বলেন যে এই বিল যুগ্ম সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে, যেখানে বিরোধীরাও নিজেদের বক্তব্য, পরামর্শ দিতে পারবেন।
শুধু সংসদের ভিতরেই নয়, সংসদের বাইরেও এই বিলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে বিরোধীরা।
আসলে সরকার প্রস্তাবিত ওই বিলটি হল সংবিধান সংশোধন বিল। সংবিধানের ১৩০ তম সংশোধন করে তা ঢোকানোর প্রস্তাব দিচ্ছে মোদি সরকার। এই বিল পাশের আগেই সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। বুধবার লোকসভায় অমিত শাহের বক্তৃতার সময় কয়েকজন বিরোধী সাংসদ তাঁকে উদ্দেশ্য করে কাগজ ছুঁড়ে দেন। চিৎকার-স্লোগানের জেরে দুপুরে একাধিকবার লোকসভা স্থগিত করতে হয়। সব মিলিয়ে উত্তাল পরিস্থিতি।


More Stories
কলকাতা-হিমাচল সরাসরি ট্রেন চালু, বাংলা পর্যটকদের জন্য নতুন সুবিধা
২৮ বছর পরে কংগ্রেসে কি ফিরবেন মমতা?
“সুখেন্দু শেখরের পথ নিন, দল ও পদ ছেড়ে প্রতিবাদ করুন”