সময় কলকাতা ডেস্ক:- একদিকে যেমন বাংলাকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে সরব শাসকদল, তেমনই কেন্দ্রেরও পাল্টা অভিযোগ, বাংলায় সরকারের পরোক্ষ মদতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা উধাও হয়, গরিবের কাজে লাগানো হয় না। বঞ্চনার জবাবে বারবার চুরির অভিযোগকে হাতিয়ার করে কেন্দ্র। গত ২২ আগস্ট শহরে তিনটি নতুন মেট্রোপথের উদ্বোধনে এসেও প্রধানমন্ত্রী সেই একই অস্ত্রে শান দিয়ে যান।
সকশিবিরের দিকে যেমন ইট ছুড়েছেন, তেমনই পাটকেল-সম জবাব পেতে হয়। কে আসল চোর? কারা চোরদের মদতদাতা?
তা কার্যত চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার বর্ধমানে প্রশাসনিক কর্মসূচি থেকে তিনি বলেন, বাংলাকে চোর কেন বললেন? চোর বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ক্রমাগত সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন মমতা।
বলেন, ভোটের সময় পরিযায়ীর মতো আসেন বাংলায়। এসে চোর সর্দারদের সঙ্গে মিটিং করেন। এক্ষেত্রে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, যিনি একদা তৃণমূলেই ছিলেন।
নিজের চেনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মমতা বলেন, লজ্জা, ঘৃণা, ভয়—এই তিন থাকতে নেই। একটা কান কাটা থাকলে আর একটা কান কাটার ভয় থাকে। নাম না করেই মোদিকে ‘দুকান কাটা’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘কমিশন যেন বিজেপির ললিপপ!’
মমতার বক্তব্যে উঠে আসে পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রসঙ্গও। সরাসরি কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার অপমান তিনি বরদাস্ত করবেন না।
যে ছাত্র সব প্রশ্নের উত্তর দেয়, তাঁকে যদি শিক্ষক ‘শূন্য’ দেয়, তাহলে কি সে মেনে নিতে পারবে? বর্ধমানের সভা থেকে ঠিক এই প্রশ্নই তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
না, অবশ্য এর নেপথ্যের প্রেক্ষাপটে কোনও শিক্ষাব্যবস্থা নয়, রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ, আর তাতে সার্ভে করতে আসা প্রতিনিধি দলের প্রেক্ষাপট!
বাংলায় আবাস যোজনায় দুর্নীতি, রাজ্যে অবৈধ খনি, বালি চুরি সহ একাধিক বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে এসেছিল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। মমতার অভিযোগ, একাধিক একশো দিনের কাজ, আবাস-সহ একাধিক প্রকল্পে টাকা আটকে দিয়েছে কেন্দ্র।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?