অশান্ত নেপাল। জেন জি বিপ্লবে নেপাল পতন হয়েছে ওলি সরকারের। উন্মত্ত জনতার রোষাণল থেকে বাদ যায়নি সংসদ ভবন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, দফতর, একাধিক মন্ত্রীর বাড়ি। প্রতিবেশী দেশজুড়ে চলেছে চরম অরাজকতা। জেল ভেঙে পালিয়েছে বহু কয়েদি। এবার সেই বন্দিরাই ঢুকছে ভারতে। ধৃত ৩০-এর বেশি, কড়া নজরদারি বাংলার সীমান্তে।
সোমবার থেকে অশান্ত নেপাল। জেন-জি বিক্ষোভের কারণে দেশজুড়ে কার্ফু, জরুরি অবস্থা জারি। এদিকে, নেপালে বিদ্রোহের আগুনে মৃত্যুমিছিল, মৃত বেড়ে ৩০-এর বেশি। হাজারের বেশি আহত। এসবের মাঝেই অগ্নিগর্ভ নেপালে জেল ভেঙে পালিয়েছেন হাজার হাজার বন্দি! যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তা-ই সত্যি হল। বাংলাদেশে অশান্তির পর যেমন ভারতে অনুপ্রবেশ বেড়েছিল, ঠিক তেমনই ঘটল নেপালের অশান্তিতেও। এবার আরও বিপদ, কারণ নেপালের জেল ভেঙে ভারতে ঢুকে পড়েছে অপরাধীরা, যারা এতদিন নেপালের জেলে বন্দি ছিল।
এবার তাঁদের অনেকেই বিহার, উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছেন। ওই দুই রাজ্যের সীমান্তে ইতিমধ্যেই ৩০ জনের বেশি বন্দিকে পাকড়াও করেছে এসএসবি। বুধবারই জানা গিয়েছিল, নেপালে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, গণআন্দোলনের সুযোগ নিয়ে জেল ভেঙে পালিয়ে গিয়েছে বহু বন্দি। কাঠমাণ্ডু, পোখরা, ললিতপুরের কমপক্ষে ১৮টি জেল ভেঙে প্রায় ৬ হাজার বন্দি পালিয়ে গিয়েছে বলেই নেপালি সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। আর তারা পালিয়ে কোথায় প্রবেশের চেষ্টা করছে? ভারতে!
ভারত-নেপাল সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে এসএসবি। সূত্রের খবর, নেপালের জেল থেকে পালিয়ে আসা ৩০ জনের বেশি বন্দি আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২২ জনকে উত্তর প্রদেশের সিদ্ধার্থনগরে ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে। ১০ জনকে বিহার থেকে এবং ৩ জনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধরা হয়েছে। তাদের কাছে নথি দেখতে চাওয়া হয়। তারা কোনও নথি দেখাতে না পারার পরই আটক করা হয়। এখন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নেপালের সঙ্গে ভারতের প্রায় ১ হাজার ৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
ভারতের উত্তরাখণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম এবং পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য নেপালের সীমান্তবর্তী। নেপালের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পাঁচ রাজ্যেই সীমান্তে তৎপরতা বেড়েছে। নেপালে অশান্তি শুরু হওয়ার পর থেকেই সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে সশস্ত্র সীমা বল। রক্সোল, সুপৌল, সীতামারহি জেলায় টহল বাড়ানো হয়েছে, অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে সীমান্ত। তত্পরতা বাংলার শিলিগুড়িতেও। এই পরিস্থিতিতে বাংলার পানিট্যাঙ্কি সীমান্তেও কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। শিলিগুড়ি সংলগ্ন খড়িবাড়িতে মেচি নদীর ও পারে নেপাল। এ পারে ভারত। এলাকায় কোনও কাঁটাতার নেই। মুক্ত সীমান্ত হওয়ায় অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছে এসএসবি। তা রুখতেই মেচি নদীর একপ্রান্ত ঘিরে ফেলেছেন জওয়ানেরা। সতর্ক রাজ্য প্রশাসনও। সীমান্ত এলাকার থানাগুলিকে পানিট্যাঙ্কি সীমান্তের উপর কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারিও।
পুলিশ সূত্রে খবর, কেউ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে, তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। নেপালে অশান্তির চলাকালীন উত্তরবঙ্গেই ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা পড়শি রাজ্য হওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি এবং এ রাজ্যের সীমান্তের দিকে তাঁর নজর ছিল। সাফ জানিয়েছিলেন, রাজ্য প্রশাসন তত্পর রয়েছে। সকলকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
নেপালে জেল থেকে পালাচ্ছে অপরাধীরা, সীমান্তে সতর্ক রাজ্য


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী