পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা প্রদীপ করের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলছে রাজনৈতিক তরজাও।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রতিবাদ করে লিখেছেন, ”২৭ অক্টোবর, খড়দহের পানিহাটির ৫৭ বছর বয়সী প্রদীপ কর আত্মহত্যা করেন। একটি চিরকুট রেখে যান যেখানে লেখা ছিল, “আমার মৃত্যুর জন্য NRC দায়ী।” ২৮ অক্টোবর, কোচবিহারের দিনহাটার ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি SIR প্রক্রিয়ার অধীনে হয়রানির ভয়ে নিজের জীবন নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আর আজ, পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থেকে ৯৫ বছর বয়সী ক্ষিতীশ মজুমদার-তাঁর মেয়ের সঙ্গে বীরভূমের ইলামবাজারে থাকতেন করতেন- তাঁকে এবং তাঁর পরিবার জমি থেকে উচ্ছেদ কার হতে পারে আতঙ্কে আত্মহত্যা করেন।”
পরিবার ও তৃণমূলের দাবি, এনআরসি আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন প্রৌঢ়। এদিকে বিজেপির দাবি, নেপথ্যে লুকিয়ে অন্য কোনও কারণ। এসবের মাঝেই জারি রয়েছে তদন্ত। এনআরসি আতঙ্কে আত্মঘাতী প্রদীপ করের সুইসাইড নোটের হাতের লেখা কি তাঁরই? পুলিশ সূত্রে খবর, ওই নোটে থাকা হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হবে ওই নোটের। এসবের মাঝেই খড়দহ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত প্রদীপের ভাইয়ের স্ত্রী।
অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এনআরসির নামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে। গত ২৮ অক্টোবর বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনার ওই বাসিন্দার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। গত মঙ্গলবার সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তা নিয়ে তুঙ্গে চাপানউতোর। তৃণমূলের দাবি, এনআরসি আতঙ্কে আত্মঘাতী হয়েছেন প্রৌঢ়। বুধবার দুপুরে মৃত প্রৌঢ় প্রদীপ করের বাড়িতে পৌঁছন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতের পরিজনদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাঁদের সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সেখানেই সাফ জানান, প্রদীপ করের মৃত্যুর দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের। স্লোগান তোলে জাস্টিস ফর প্রদীপ কর।
– যদিও, এই মৃত্যুর নেপথ্যে এনআরসি বা এসআইআর আতঙ্ককে মানতে নারাজ বিজেপি। এমনকী, প্রদীপের সুইসাইড নোটকে কেন্দ্র করেও প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল যখন প্রদীপের মৃত্যুর জন্য এনআরসি-কে দায়ী করছে, তখন বিজেপি ওই সুইসাইড নোট নিয়েই সন্দেহপ্রকাশ করছে। জেপি প্রশ্ন তুলেছে, প্রদীপ কি আদৌ লিখতে সক্ষম ছিলেন? এর কারণ মৃত প্রদীপের পরিবারের কয়েক জন সদস্যের মন্তব্য। যে মন্তব্য বলছে, প্রদীপ তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। দ্বিতীয়ত, তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুল পুরো নেই। সেই বিষয়গুলিকে সামনে রেখে সুইসাইড নোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পদ্মশিবির।
এসবের মাঝেই জানা গেল, বৃহস্পতিবার সকালে খড়দহ থানার দ্বারস্থ হন মৃতের পরিবার। অভিযোগপত্রে তিনি লেখেন, কেন্দ্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে এনআরসির নামে। পরিবারের দাবি, প্রদীপ করের মৃত্যুর তদন্ত হোক। এদিকে, প্রকাশ্যে আসা প্রদীপ করের সুইসাইড নোটের হাতের লেখা খুব একটা স্পষ্ট নয়। যদিও তাতে প্রদীপের নাম, ধাম, জন্মের সাল এবং এনআরসি-র কথা উল্লেখ রয়েছে।


More Stories
রূপের মধ্যে অরূপের ছোঁয়া : গাজলডোবা এক ব্রাত্য মুগ্ধতা
ডিমথেরাপি অশোকনগরের গ্রেফতার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারকে
জেলে জায়গা হবে তো? কৃষ্ণ ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের মাফিয়া নন্দন গ্রেফতার