পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২১নভেম্বর : “থাকে শুধু অন্ধকার মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন “,- জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেন কবিতার শেষ লাইন। বনলতা সেন জীবনানন্দের প্রশান্তির আশ্রয়। “তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন?’ – জীবনানন্দ দাশের বনলতা সেনের কবিতারই একটি অংশ। বর্তমানে এস আই আর ঘিরে যা পরিস্থিতি জীবনানন্দের প্রশান্তির আশ্রয় বনলতা সেনের চেয়েও রহস্যময় হয়ে উঠেছে অনুপ্রবেশকারীরা। রহস্য রয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে। অনুপ্রবেশ ঘিরে অনেক প্রশ্ন। প্রশ্ন, অনুপ্রবেশকারীরা কি করে এদেশে ঢুকলেন, এতদিন কোথায় ছিলেন, অথবা এও প্রশ্ন, তাদের বিষয়ে যারা জানতেন তারাই বা কে ! তাদের লালন পালন কে করেছে? রহস্যময় চরিত্রদের ঘিরে অন্ধকার। অনুপ্রবেশকারী : অন্ধকার ও রহস্য নিয়ে চৰ্চা।
সম্প্রতি রাজ্যে নিবিড় ভোটার সংশোধন বা এসআইআর (SIR) -এর প্রভাব নিয়ে আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক অনুপ্রবেশকারীদের অস্তিত্ব ঘিরে। অস্তিত্বের সূচনা ঘিরে একরাশ প্রশ্ন।যে চিত্র আমাদের সামনে আসছে, তার মধ্যে দিয়ে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে এসআইআরের দরকার ছিল, অত্যন্ত প্রবল ভাবেই এসআইআরের দরকার ছিল। সুপ্রিম কোর্ট সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে অনুপ্রবেশকারীদের বসবাসের অধিকার রাষ্ট্র দেয় না। ভোটার তালিকায় সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হতেই দেখা যাচ্ছে, অনুপ্রবেশকারী যাদের কাছে বসবাসের কোন বৈধতা নেই। ২০০২ এর পরে ২০২৫ সালের এসআইআর প্রক্রিয়া চালু। মাঝখানে ২৩ বছর ধরে বেশ কিছু রিভিউ এবং রিভিশন হলেও এসআইআর হতেই অনুপ্রবেশকারীরা এখন নির্বাচন কমিশন ও তাদের ভোটার চয়নকে এবং বৈধ ভোটার তালিকা প্রস্তুত নিয়ে ভীত। কেন এই ভয়? একটি বিষয় পরিষ্কার সব ভোটার নাগরিক নয় এবং সব নাগরিক ভোটার নয়। অনেক নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় না থাকার আশঙ্কা স্বাভাবিক। পাশাপাশি এও ঠিক, ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে নাগরিকদের দেশে বসবাসের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকারে নির্বাচন কমিশন হস্তক্ষেপ করতে পারে না। নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে জানিয়ে দিয়েছে ভোটার তালিকায় যাদের নাম থাকবে না তারা নাগরিক কিনা তা নিয়ে চৰ্চা তারা করবে না। তবুও অভিযোগ উড়ছে নাগরিকদের মধ্যেই নাকি উদ্বেগ। অভিযোগ উঠছে এসআইআর নাকি আতঙ্ক এবং অনেকের মৃত্যু হচ্ছে এসআইআর আতঙ্কে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও বি এল ওদের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজের চাপ সইতে না পেরে মারা গিয়েছেন এটা ভোটার তালিকা গঠনের একটি বিক্ষিপ্ত অধ্যায়। এখন আলোচ্য, আতঙ্কিত কারা হচ্ছেন? ১২ টি প্রয়োজনীয়কাগজের একটিও যাদের কাছে নেই এবং সর্বোপরি ২০০২ তালিকায় যাদের নাম ছিল না এবং ২০০২ সালে তাদের বাবা মা ও পিতামহ পিতামহীদের নাম ছিল না। ২০২৫ সালের তালিকায় কেবলমাত্র তাদের নাম থাকলেই হবে না। ২০০২ সালের তালিকায় তাদের যোগ সূত্র থাকতে হবে। যাদের নাম দুবার বা তিনবার রয়েছে অথবা যারা মারা গিয়েছেন তাদের বিষয় সরিয়ে রেখে আলোচনা সীমাবদ্ধ করতে হচ্ছে ২৩ বছর ধরে অবৈধভাবে যে মানুষ এবং যে মানুষদের সমগ্র পরিবার ভারতে রয়েছেন। এখন প্রশ্ন, শুধু তাঁদের মধ্যেই কি আতঙ্ক? দ্বিতীয় প্রশ্ন, তাঁরা কি বিগত ২৩ বছরে সত্যি ভোটব্যাঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন কোনও রাজনৈতিক দলের? তৃতীয় প্রশ্ন, যে আতঙ্কিত অনুপ্রবেশকারীরা ফিরে চলেছেন বাংলাদেশে, তাদের ভোটব্যাঙ্ক হয়ে ওঠার পেছনে দায় কাদের? স্বার্থই বা কাদের? শেষ প্রশ্ন, অনুপ্রবেশ হওয়ার পেছনে কি রাজনৈতিক কোনও স্বার্থ রয়েছে?
সময় কলকাতা অনুপ্রবেশকারী : অন্ধকার ও রহস্য নিয়ে বিস্তারিত ভাবে পর্বে পর্বে আলোচনা করবে। ইতিমধ্যেই সময় কলকাতার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এমন অনুপ্রবেশকারীদের ছবি যারা নিজ মুখে স্বীকার করছেন তারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেছিলেন এবং আশ্চর্যজনকভাবে জানা যাচ্ছে তাদের মধ্যে একাধিক মহিলা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা পাচ্ছিলেন। এই ভয়াবহ চিত্রের পেছনে, রহস্যের পিছনে লুকিয়ে আছে কোন গভীর সত্য তা জানার চেষ্টা করবে সময় কলকাতা।
চলবে ( দ্বিতীয় পর্বে অনুপ্রবেশকারী : অন্ধকার ও রহস্য সংক্রান্ত প্রশ্ন গুলির উত্তর খোঁজা হবে )


More Stories
ভোটের আগে এসআইআর নিয়ে ঐতিহাসিক সুপ্রিম রায়
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
ডিটেনশন ক্যাম্পে না যেতে চেয়ে ৬ জনের স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন