Home » চিরবিদায়! তারার দেশে মহাতারকা ধর্মেন্দ্র

চিরবিদায়! তারার দেশে মহাতারকা ধর্মেন্দ্র

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৪নভেম্বর : সোমবার বলিউডে এবং দেশে বিরাট দুঃসংবাদ। এবার আর গুজব নয়। চিরবিদায় নিলেন ধর্মেন্দ্র। তারার দেশে মহাতারকা ধর্মেন্দ্র , মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

৮ ডিসেম্বর ছিল তাঁর জন্মদিন। ৯০ বছর পূর্ণ হত তাঁর। কয়েকদিন আগেই তাঁর প্রয়াণ ঘিরে ছড়িয়েছিল গুজব। গুজব থেমে যাওয়ার কয়েকদিন পরে দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমা প্রেমীদের হার্টথ্রুব ধর্মেন্দ্রর হৃদযন্ত্র স্তব্ধ হয়ে গেল চিরতরে। চলে গেলেন বলিউডের হিম্যান ও মহাতারকা ধরম সিং দেওল যাকে সিনেমা প্রেমীরা চেনেন ধর্মেন্দ্র নামেই। রেখে গেলেন দুই স্ত্রী প্রকাশ কাউর, হেমামালিনী ও সানি দেওল- ববি দেওল-এষা দেওল সহ ছয় সন্তান কে।

এবছর ও একাধিক চলচ্চিত্র দেখা গিয়েছে ধর্মেন্দ্র কে।তেরি বাতো মে এইসা উলঝা জিয়া তে শেষ দেখা গিয়েছিল শহীদ কাপুর আর কৃতি শানোনের সঙ্গে। ডিসেম্বর মাসেই আসার কথা তাঁর আরেকটি ছায়াছবি। অমিতাভ দৌহিত্র অগস্ত্য নন্দার সঙ্গে ইক্কিশ চলচ্ছিত্রে।

দেখে যাওয়া হল না সেই আসন্ন মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি।থেমে গেল পথ চলা, যে পথ চলার ফাঁকে বিরু হয়ে শোলেতে শুধু নয়, অসংখ্য সফল এবং জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে মাতিয়েছেন দর্শকদের। রোমান্টিক বা অ্যাকশন হিরো দু ধরণের ধারায় সমান স্বচ্ছন্দ এবং রোমান্টিক বা রাফ এন্ড টাফ নায়ক যেকোনো দিক থেকেই দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিলেন ধর্মেন্দ্র। চলে গেলেন সানি দেওল- ববি দেওলের পিতা এবং হেমামালিনীর জীবনসঙ্গী ধর্মেন্দ্র।

জন্ম পাঞ্জাবের লুধিয়ানায়। প্রায় সাত দশকের ফিল্ম ক্যারিয়ারের শুরু ১৯৬০ সালে দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে চলচ্চিত্র দিয়ে। বক্স অফিসে সাফল্য পায় নি সেই চলচ্চিত্র।১৯৬১ সালের শোলে অর শবনম বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। ১৯৬৩ সালের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড পাওয়া বিমল রায়ের বন্দিনীতে অভিনয় করেন। পথ খুলে যেতে থাকে। তবে প্রথম বড় ব্রেক থ্রু আসে ১৯৬৪ সালে রাজেন্দ্র কুমার ও সায়রা বানুর সঙ্গে আয়ি মিলন কী বেলা তে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের গল্পের ওপরে নির্মিত হকিকত ৬৪ সালেই মুক্তি পায়। ১৯৬৫ সালের কাজলের পরে ১৯৬৬ সালের ফুল অউর পাতথর বড় মাপের সাফল্য আনে। এই চলচ্চিত্রের সেরা অভিনেতার মনোনয়ন ও ব্লকবাস্টার সাফল্য সব মিলিয়ে আর পেছনে ফিরে তাকানোর জায়গা ছিল না। বিষয়বৈচিত্র্য বাড়তে থাকে তার চলচ্চিত্রে। একাধিক থ্রিলার মুভিতে দেখা যায় তাঁকে। এর পরবর্তী বছরকয়েক বেশ কয়েকটি সফল চলচ্চিত্র উপহার দেন তিনি। আর এই সময় ধূমকেতুর মতো বলিউড জগতে উঠে আসেন রাজেশ খান্না। সুপারস্টার রাজেশ খান্নার উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে পতন শুরু হয় একাধিক তারকার কিন্তু ধর্মেন্দ্র ও দেবানন্দ থেকে যান সমান জনপ্রিয়। ১৯৬৯ সালে আয়া শাওন ঝুমকে জনপ্রিয় হয়। অতঃপর ছিল ঋষিকেশ মুখার্জির সত্যকাম যেখানে ধর্মেন্দ্রর অভিনয় কে তার জীবনের অন্যতম সেরা অভিনয় বলে বিবেচনা করা হয়। ৭০ সাল থেকে হেমা মালিনীর সঙ্গে জুটি বেঁধে হিট চলচ্চিত্র উপহার দিতে থাকেন নায়ক ধর্মেন্দ্র। এরই মাঝে রাজ কাপুরের মেরা নাম জোকারেও তাকে দেখা যায়। তবে ১৯৭১ সালের মেরা গাঁও মেরা দেশ ধর্মেন্দ্রর অভিনয় জীবনে একটা বড় টার্নিং পয়েন্ট। শুধু তাই নয়, এই চলচ্চিত্র বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একটা নতুন যুগের সূচনা করে।রোমান্টিক হিরো অ্যাকশন হিরো হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন ধর্মেন্দ্র আর রোমান্টিক চলচ্চিত্র বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্র থেকে চলচ্চিত্র নির্মাতারা ধীরে ধীরে অ্যাকশন চলচ্চিত্রতৈরি করতে শুরু করেন। সীতা অউর গীতা,রাজা জানি, সমাধি এরকম অসংখ্য জনপ্রিয় ও সফল চলচ্চিত্রে নায়ক তখন ধর্মেন্দ্র। পুরোদস্তুর সুপার ষ্টার হয়ে ওঠেন ধর্মেন্দ্র । কিছুদিনের মধ্যেই আসে ঝিল কে উস পার ও জুগনু। এর কিছু দিনের মধ্যে ইয়াদো কি বারাত দেশব্যাপী সাড়া ফেলে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই চলচ্চিত্রটির প্রভাব ছিল। রোমান্টিক থ্রিলার ব্ল্যাকমেল ও এই পর্বের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। অতঃপর রেশম কি ডোড়ির জন্য ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পান ধর্মেন্দ্র।১৯৭৫ সাল ধর্মেন্দ্রর অভিনয় জীবনের সেরা বছর – রোমান্টিক এবং অ্যাকশন হিরো হিসেবে যুগপৎ সাফল্য আসে একাধিক চলচ্চিত্রের মধ্যে দিয়ে। চুপকে চুপকে মত রোমান্টিক ছায়াছবি দর্শকদের মন কাড়লেও ১৯৭৫ সালের ফুলে চলচ্চিত্র শুধু ধর্মেন্দ্রর নয় হিন্দি চলচ্চিত্রের এক মাইলস্টোন। অমিতাভ বচ্চন জয়া ভাদুড়ি সঞ্জীব কুমার হেমা মালিনী,বা সদ্যপ্রয়াত আশরানি সহ শোলে চলচ্চিত্রের প্রতিটি অভিনেতা স্থায়ী ভাবে জায়গা করে নেন দর্শকদের মনে। তবে এই চলচ্চিত্রে আলাদা ভাবে হাস্য পরিহাস ময় ডাকাবুকো বাহুবলি নায়ক ধর্মেন্দ্র এবং নবাগত খলনায়ক আমজাদ খানের ডুয়েল ছিল বাড়তি পাওনা। ১০০ টি হলে সিলভার জুবিলী কাটানো ভারতের প্রথম চলচ্চিত্র শোলে চলচ্চিত্র জগতে একটা বিপ্লব হয়ে দেখা দিয়েছিল। ধর্মেন্দ্রর পরবর্তী অভিনয় সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র চরস, ধরমবীর বা ড্রিম গার্ল সাফল্য পেয়েছিল। শালিমার বা আজাদ ও এনেছিল বাণিজ্যিক সাফল্য। পরবর্তী দশকে সাড়া ফেলে দিয়েছিল মাল্টি স্টারার দ্যা বার্নিং ট্রেন। তারপরেও আলিবাবা অউর চল্লিশ চোর বা রাম বলরাম ছাড়াও একের পর এক চলচ্চিত্র প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের টেনেছে। ১৯৮৫ সালের গুলামিতে মিঠুন ও নাসিরুদ্দিন শাহের সঙ্গে দাপিয়ে অভিনয় করেন ধরম পাজি। বিগত শতকের শেষ দশকেও নায়ক হিসেবে একাধিক চলচ্চিত্র দেখা গিয়েছে তাঁকে। ১৯৯৭ সালের ধর্মেন্দ্র ফ্লিম ফেয়ার লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পান। দিলীপ কুমার ও সায়রা বানুর কাছ থেকে পুরস্কার নিতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়ে বলেছিলেন একরাশ সফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দেওয়ার পরেও তিনি সেরা অভিনেতার ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পান নি। উত্তরে দিলীপ কুমার বলেছিলেন, আমারও উপরওয়ালার কাছে অভিযোগ থাকবে আমাকে কেন ধর্মেন্দ্রর মতো হ্যান্ডসাম বানাননি। তা চলে গেলেন হ্যান্ডসাম, রোমান্টিক,হিম্যান রাফ এন্ড টাফ ধর্মেন্দ্র অসংখ্য গুনমুগ্ধ আর দর্শকদের মুগ্ধতার উপাদান তাঁর চলচ্চিত্র রেখে।পুরস্কার দিয়ে মাপা যাবে না তাঁকে ও তাঁর জনপ্রিয়তাকে। বলিউড চলচ্চিত্র জগত যতদিন থাকবে, সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে ধর্মেন্দ্রর নাম।।

 

About Post Author