Home » সংসদে ই-সিগারেট সেবন! তৃণমূল সাংসদের ই-সিগারেট কীর্তি!

সংসদে ই-সিগারেট সেবন! তৃণমূল সাংসদের ই-সিগারেট কীর্তি!

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ জানুয়ারি : চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ো ধরা। সংসদে চুরি করে সিগারেট খেতে গিয়ে ধরা পড়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তবে অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, অভিযুক্ত সাংসদ লুকিয়ে চুরিয়ে খেলেও দিনের পর দিন সংসদে বসেই-সিগারেট খান। এবার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সরাসরি তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে  অভিযোগ তুলেছেন  হিমাচল প্রদেশের সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। তিনি অভিযুক্তের নাম না করলেও বিজেপির অন্য নেতারা সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন ই-সিগারেট সেবনকারী সাংসদ বর্ধমান- দুর্গাপুরের তৃণমূল সাংসদ, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য কীর্তি আজাদ।

সংসদে সিগারেটে খাওয়া নিষেধ। তার উপরে ই-সিগারেট ভারতে নিষিদ্ধ। ই- সিগারেটে সুখটান দিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞাই ভাঙলেন বঙ্গের  তৃণমূল সাংসদ। সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন অনুরাগ ঠাকুর নাম না করেই তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত ই-সিগারেট ধূমপান করার অভিযোগ এনেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে সংসদ উত্তাল হয়ে ওঠে।

সিগারেট খাওয়া নিয়ে তৃণমূলের প্রবীণ সংসদ সৌগত রায়ের বিরুদ্ধে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি সংসদের মধ্যে কখনও সিগারেট খেয়েছেন এরকম অভিযোগ ওঠেনি। তাঁর বিরুদ্ধে ই-সিগারেট সেবন করার অভিযোগ ও নেই। ২০১৪ সালের নভেম্বরে, সৌগত রায়কে সংসদ চত্বরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে ধূমপান করতে দেখা গিয়েছিল, যেখানে তিনি দলের অন্যান্য সাংসদদের সাথে প্রতিবাদ করছিলেন। এবার অভিযুক্ত সৌগত রায় নন। অভিযুক্ত তৃণমূলের অপর এক সাংসদ। এবারের বিতর্ক আরও জোরালো কারণ সংসদের মধ্যেই ধূমপান করার অভিযোগ, তার উপরে ই-সিগারেট সেবনের অভিযোগ!

প্রসঙ্গত,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিকোটিনযুক্ত ই-সিগারেট আসক্তি বাড়ায় ও স্বাস্থ্যহানিকর। দীর্ঘ মেয়াদে এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব সম্পর্কে এখনো জানা না গেলেও এটা প্রতিষ্ঠিত যে এগুলো বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে তৈরি, যার মধ্যে কিছু উপাদান ক্যানসার, ফুসফুস ও হার্টের রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ২০১৯ সাল থেকেই ভারতে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ এবং ই-সিগারেট প্রস্তুত করা, কেনা, বিক্রি ও সেবন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এক্ষেত্রে, ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ও এক বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার শীতকালীন অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেন যে একজন তৃণমূল সাংসদ (পরে জানা যায় কীর্তি আজাদ) ক্রমাগত ই-সিগারেট খাচ্ছিলেন।অনুরাগ বলেন, ‘দেশজুড়ে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। আপনি কি সংসদের এটির অনুমতি দিয়েছেন’? জবাবে স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, তিনি কোনও অনুমতি দেননি। এরপর বিজেপি সাংসদ বলেন, ‘কিন্তু তৃণমূলের এক সাংসদ তো খাচ্ছেন। অনেক দিন ধরেই খাচ্ছেন। আপনি ব্যাপারটি যাচাই করে দেখুন’।

সিগারেট বিতর্কের কিছুক্ষণ পরেই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং এবং গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত সংসদ ভবনের মকরদ্বারের বাইরে সৌগত রায়কে আসল সিগারেট ধূমপান করতে দেখেন। গিরিরাজ সিং রসিকতা করে বলেন, “সৌগত রায় ই-সিগারেট খান না, আসল সিগারেট খান।” প্রথম দিকে চাউর হয়েছিল, সৌগত রায়ের বিরুদ্ধেই অভিযোগ। পরে জানা যায়, অভিযুক্ত বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  তৃণমূল দলের এক মহিলা সাংসদ সংবাদ মাধ্যমকে  বলেছিলেন, অভিযুক্ত সাংসদকে তাঁরা এভাবে সিগারেট খেতে বারণ করেছিলেন। তৃণমূল দল থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি না দেওয়া হলেও তৃণমূল যে অস্বস্তিতে তা বলার অবকাশ রাখে না। দিলীপ ঘোষকে হারিয়ে আসা, একদা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাটের জোরে একা ম্যাচ জেতানো কীর্তি আজাদ ও বিপাকে।  ই-সিগারেট কীর্তি নতুন কোন মোড় নেয় সেটাই দেখার।।

About Post Author