সময় কলকাতা, ১৫ ডিসেম্বর : কলকাতায় লিওনেল মেসির ইভেন্টটি বিশৃঙ্খলার কারণে এক কথায় ব্যর্থ, অথচ অন্যান্য রাজ্যে তা সফল হয়েছে। যখন কলকাতা ব্যর্থ, তখন হায়দ্রাবাদ ও মুম্বাই সফলভাবে ফুটবল মহানায়কের ইভেন্ট আয়োজন করেছে। ফুটবলের মহানগরী কলকাতা যা পারল না,তা অন্য রাজ্য তা পারল কি করে? অন্য রাজ্যে তিনি ফুটবলে পা-ও ছুইয়েছেন, কলকাতা দর্শকরা তাঁকে ভালো করে দেখতে-ই পায়নি। ২২ মিনিটের মধ্যে বিশৃঙ্খলা চলাকালীন মেসি স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যান। অন্যত্র অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে মেসি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও করেন। ফুটবলের মহানায়ক মেসির অনুষ্ঠান আয়োজনে কলকাতার ব্যর্থতা ও অন্য রাজ্যের সাফল্যের পেছনে কারণ কি?
তৃণমূল থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে,এই আয়োজন রাজ্য সরকারি উদ্যোগে নয় এবং এটি একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ। বাস্তবেও GOAT INDIA TOUR 2025 নামক উদ্যোগে জ্বলজ্বল করছে আয়োজক শতদ্রু দত্তের নাম। অর্থাৎ তৃণমূল এই উদ্যোগকে বেসরকারি বলতেই পারে কিন্তু তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়। সত্যি কি তাই, তাহলে কেন এত চাপানউতোর, ক্ষমা প্রার্থনা, তদন্ত কমিটি এবং আয়োজককে গ্রেফতার করার বিষয়গুলি ঘটল কেন? অন্য অনুষ্ঠানগুলির দায়িত্ব ও আয়োজন কাদের ছিল প্রথমে দেখে নেওয়া যাক তাহলেই বিষয়টা অনেক সরল হয়ে উঠবে।
রবিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে জমকালো অনুষ্ঠানে মেসিকে বরণ করেছে মুম্বইবাসী। এক ফ্রেমে দুই ভিন্ন মেরুর আইকন লিওনেল মেসি, সচিন তেন্ডুলকর, অন্য মাত্রা নিয়েছে। এর আগে হায়দরাবাদের অনুষ্ঠানও সফল হয়েছে। আর তাতেই হায়দরাবাদ, মুম্বইয়ে সঙ্গে কলকাতার তুলনা শুরু হয়েছে। এদিকে,শুভেন্দু অধিকারী যখন মেসির অনুষ্ঠান ভুণ্ডুলের জন্য তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে। তখন যুবভারতীর অনুষ্ঠানে অশোক দিন্দার ছবি পোস্ট করে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। বিজেপি বিধায়ক ও অশোক দিন্দা সপরিবারে যুবভারতীর মেসির অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন, মাঠের মধ্যে গিয়ে যাঁরা সমালোচিত, তার মধ্যে থেকে বিজেপি বিধায়ক বাদ যাবেন কেন।
তৃণমূলের অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু রাজ্যের শাসক দলের প্রতিনিধি ও মন্ত্রী। এনিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই রাজ্যের পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে নিজে ক্ষমা স্বীকার করে নিয়েছেন, সেখানে বঙ্গের ক্রীড়া মন্ত্রী দায় এড়াতে পারেন না। ভিআইপি সংস্কৃতি বঙ্গের সংস্কৃতিতে রাজনীতির যোগ এনে দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, যে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ছিল। খেলার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে এবং এই মুহূর্তে ভারতের ফুটবল ও ক্রিকেট বা খেলার নিয়ন্ত্রক ব্যক্তিত্বরা সবাই বিজেপি রাজনীতির সঙ্গে। কল্যাণ চৌবে বা দেবজিৎ সাইকিয়াকে নিয়ে যদি ফুটবল বা ক্রিকেটে ব্যর্থতার সময় প্রশ্ন ওঠে বঙ্গের মেসি সফর ঘিরে রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসকদের দায় নিতেই হবে। কুণাল ঘোষের বক্তব্যে একটি অন্যায়কে আরেকটি অন্যায় দিয়ে ঢাকার চেষ্টা বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা।
মেসিকে ভারতে নিয়ে আসা শতদ্রু দত্ত রয়েছেন রাজ্যের পুলিশি হেফাজতে। পরিশেষে এও বলা দরকার কলকাতার অনুষ্ঠান ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ঢের বেশি দায় পুলিশের। সামগ্রিক বিচারে, কলকাতার মেসির অনুষ্ঠান ব্যর্থ হওয়ার পেছনে রয়েছে ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও ভিআইপি সংস্কৃতির বাড়বাড়ন্ত। শতদ্রুকে একা দায়ী করা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার প্রচেষ্টা মাত্র।।


More Stories
জল্পেশ মন্দিরে ‘গভীর আস্থা’ মুখ্যমন্ত্রীর
বারাসাতে প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বাড়িতে বিজেপি সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুর
মমতা প্রমাণ করলেন কর্মীরাই আসল তৃণমূল