Home » আবার সন্দেশখালিতে তৃণমূলের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর দাপট! ইডির পরে এবার আক্রান্ত পুলিশ!প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরও জানা!

আবার সন্দেশখালিতে তৃণমূলের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর দাপট! ইডির পরে এবার আক্রান্ত পুলিশ!প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরও জানা!

পুরন্দর চক্রবর্তী, চুমকি সূত্রধর ও হাসানুজ্জামান, সময় কলকাতা :দুবছর যেতে না যেতেই আবার সন্দেশখালিতে তৃণমূলের ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর দাপট! ২০২৪ এর শুরুতে শেখ শাহজাহানের হাতে ইডির আক্রান্ত হওয়ার পরে ২৬ সালের শুরুতে তৃণমূলের মাঝারি মাপের নেতা মুসা মোল্লার বাহিনীর হাতে আক্রান্ত ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ।  পুলিশের যে গাড়িটিতে ভাঙচুর হয়েছে সেই গাড়ির ওপরে লেখা রয়েছে – “পিতা মাতার আশীর্বাদ।” তাতে কী! কোনও আশীর্বাদই সরকারি আধিকারিকদের সন্দেশখালিতে রক্ষা করতে পারছে না। বসিরহাটের সন্দেশখালির পরিস্থিতি বারবার বিভিন্ন প্রশ্ন তুলছে, এবারও তুলেছে।

দু’বছর থেকে ঠিক দুটো দিন কম। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখে ইডির আধিকারিকরা আক্রান্ত হয়েছিলেন সন্দেশখালিতে। সেদিন সন্দেশখালিতে তৎকালীন দোর্দন্ড-প্রতাপশালী তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে গিয়ে হামলার মুখে পড়়েছিল ইডি। শাহজাহানের বাড়ির সামনে ইডি আধিকারিকেরা পৌঁছোতেই ধীরে ধীরে লোক জড়ো হতে শুরু করে। ইডির দাবি, ৮০০ থেকে ১০০০ লোক সে দিন তাঁদের ঘিরে ধরেছিলেন। প্রত্যেকেই শাহজাহানের অনুগামী। শাহজানের বাড়িতে হানা দিয়ে আক্রান্ত হয় ইডি বাহিনী। মাথা পর্যন্ত ফাটে ইডি আধিকারিকের। এবারের চিত্রে সামান্য রদবদল। অভিযোগের তির একই রাজনৈতিক দলের দিকে। স্থানও সন্দেশখালি। নাম পাল্টেছে অভিযুক্তের। শাহজাহানের জায়গায় মুসা মোল্লা ও তার বাহিনী।অবৈধ ভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। তার পরই ওই জমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করে আদালত। কিন্তু শুক্রবার রাতের অন্ধকারে ওই জমিতে মুসা পাঁচিল তোলার কাজ শুরু করে বলে অভিযোগ। তার পরেই খবর যায় পুলিশের কাছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে মুসা মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন আইজুল গাজী নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গন্ডগোল চলছিল মাছের ভেড়িতে। হাইকোর্টের নির্দেশে সেই মাছের ভেড়ি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়। অভিযোগ, আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজের বাহুবলে ভেড়িতে তবুও মাছ চাষ করত মুসা। পুলিশ অনেকবার পালন করা সত্ত্বেও কোন কর্ণপাত করেনি।  শুক্রবার পুলিশ  মুসা মোল্লাকে থানায় ডেকে নিয়ে যেতে সিদ্ধান্ত নেয়। আরও জানা গিয়েছে,রাতে রাজবাড়ি ফাঁড়ির পুলিশ বয়ারমারিতে মুসার বাড়িতে উপস্থিত হয়।তখন মুসা তাঁর অনুগামীদের ফোন করে ডেকে এনে পুলিশের উপর হামলা চালায়, বলে অভিযোগ। গাড়ি ভাঙচুর বা পুলিশের উপরে আক্রমণের মাত্রা এতটাই ছিল যে আক্রান্ত পুলিশদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়। অভিযোগ এই বিষয়ে যারা যুক্ত তারা তৃণমূলের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে জড়িয়ে। তবে তৃণমূল যথারীতি দায় ঝেড়ে ফেলতে শুরু করেছে।দলের কেউ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকলে, উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো। উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ধৃত ৯ অভিযুক্ত এবং সন্দেহভাজন। যাই হোক না কেন,  সরকারি আধিকারিকদের ঘেরাও করা হবে, মারা হবে – অভিযুক্তদের ধরা হবে ছাড়া হবে আবার তারা তান্ডব শুরু করবে। এরকমটাই যেন সন্দেশখালির রাজনৈতিক কোলাজ!

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী  নরেন্দ্র মোদি এবং শুভেন্দু অধিকারী এই সন্দেশখালিকেই রাজ্যে বিজেপি উত্থানের আঁতুরঘর করতে চেয়েছিলেন ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে। তবে বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। শাহজাহান বা তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে  একাধিক অভিযোগ থাকলেও বিজেপির প্রার্থী রেখা পাত্র নির্বাচনে বিন্দুমাত্র দাগ কাটতে কাটতে পারেন নি সন্দেশখালি এলাকা বা বসিরহাট সংসদীয় ক্ষেত্রে। এবার বিধানসভা ভোটের আগে  আবার নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর জারি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রাজ্য পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার পরে বিজেপি সরব।  বিরোধীদল বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব  মন্তব্য করেছে, সন্দেশখালীর পরিস্থিতি কোন অবস্থায় তা রাজ্য পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা থেকে সুস্পষ্ট। বিজেপি এও বলছে, মুসা মোল্লা যে একদা শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু বিজেপি নয়! মুসা মোল্লা একদা তৃণমূলের শাহজাহানের ছত্রছায়ায় লালিত পালিত এমনটাই অভিযোগ তুলছেন অপর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও।

অর্থাৎ, লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে যা ছিল বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে সন্দেশখালীর আইন কানুন একই আছে যা অপরিবর্তিত।  সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা শাহজাহান পর্দার আড়ালে থাকলে কি হবে, সন্দেশখালির সময় ও ছবি যে পাল্টায়নি,তা সাম্প্রতিক অতীতে গাড়ি দুর্ঘটনায় শাহজাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর পুত্র ও গাড়ির চালকের মৃত্যুতে পরিষ্কার হয়েছে। দীর্ঘদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পরে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হয়েছিল শেখ শাহজাহান। শাহজাহান গারদের আড়ালে থাকলেও সন্দেশখালি এখনও সরকারি আধিকারিকদের আতঙ্কের খাস মহল । এবারের চিত্র থেকে তা আরও আরেকবার পরিষ্কার। প্রশ্ন, বিধানসভা ভোটের আগে একই নীতি কি অনুসৃত হবে? তবে কি তৃণমূল দল থেকে বর্তমানে সাসপেন্ড হওয়া শাহাজাহান ও তার নীতিকেই অনুসরণ করে চলবে তৃণমূলে থাকা শাহজাহানের ঘনিষ্ঠরা? সন্দেশখালির বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো সুমন কবিরের গানের লাইনটা আরেকবার বলা যায় -প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরও জানা!

About Post Author